BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড
আগে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে মানুষ BRTA অফিসে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়াইতো। ফর্ম কিনো, দাল ধরো, ঘুষ দাও - ঝামেলার শেষ ছিল না। কিন্তু এখন 2026 সালে এসে সরকার সব অনলাইন করে দিছে।
http://bps.brta.gov.bd ওয়েবসাইটে ঢুকে 5 মিনিটে ঘরের বসেই BRTA একাউন্ট খোলা যায়। এই একাউন্ট থাকলেই আপনি লার্নার লাইসেন্সের আবেদন, টাকা জমা, পরীক্ষার তারিখ সব মোবাইল দিয়াই করতে পারবেন। নিচে ধাপে ধাপে দেখানো হলো কিভাবে NID দিয়ে BRTA একাউন্ট খুলবেন
সূচিপত্র:BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড
- BRTA একাউন্ট কেন প্রয়োজন
- BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স পোর্টাল http://bps.brta.gov.bd পরিচিতি
- একাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- BRTA ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন পেজে প্রবেশ
- NID নাম্বার ও জন্মতারিখ দিয়ে ভেরিফিকেশন
- মোবাইল নাম্বার ও ইমেইল OTP ভেরিফাই
- ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড সেট করুন
- ছবি ও সিগনেচার আপলোডের নিয়ম
- একাউন্ট লগিন করার পদ্ধতি
- একাউন্ট খোলার সময় কমন সমস্যা ও সমাধান
- BRTA একাউন্ট দিয়ে যেসব সেবা পাবেন
- উপসংহার: একাউন্ট খোলার পরবর্তী ধাপ
BRTA একাউন্ট কেন প্রয়োজন
ভাই আপনি যদি 2026 সালে ড্রাইভিং লাইসেন্স বানাতে চান তাইলে সবার আগে BRTA একাউন্ট খুলা লাগবে। কারণ সরকার এখন সব কাজ অনলাইনে নিয়ে গেছে। http://bps.brta.gov.bd ওয়েবসাইটে একাউন্ট না থাকলে আপনি লার্নার কার্ডের আবেদনই করতে পারবেন না। আগে মানুষ BRTA অফিসে গিয়ে সকাল 6টা থেকে লাইনে দাঁড়াতো। রোদে পুড়ে সারাদিন নষ্ট করতো। অনেক সময় সিরিয়াল পাইতো না, খালি হাতে বাসায় ফিরতো। এখন ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে 10 মিনিটে আবেদন করা যায়।
BRTA একাউন্ট ছাড়া আপনি ফি জমা দিতে পারবেন না, পরীক্ষার ডেট নিতে পারবেন না, লাইসেন্স রেডি হইছে কিনা চেক করতে পারবেন না।তাই এটা হলো লাইসেন্সের চাবি। চাবি ছাড়া দরজা খুলবে না ভাই। আরেকটা বড় সুবিধা হলো দাল ছাড়া কাজ করা। আগে দাল 6-7 হাজার টাকা নিতো। মানুষ ঠকাইতো। এখন সরকারি ফি মাত্র 3065 টাকা। একাউন্ট থাকলে নিজেই বিকাশ-নগদ দিয়ে ফি দিতে পারবেন। দালকে 1 টাকাও দেওয়া লাগবে না। NID দিয়ে ভেরিফাই হয় তাই ভুয়া তথ্য দেওয়ার সুযোগ নাই।
আপনার সব তথ্য সরকারের সার্ভারে সেভ থাকবে। পুলিশ ধরলেও আপনার লাইসেন্স 100% অরিজিনাল প্রমাণ হবে। কোনো ঝামেলা করবে না। আরেকটা কথা, একাউন্ট থাকলে আপনি বাসায় বসে লাইসেন্সের স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। কবে প্রিন্ট হবে, কোন অফিসে আছে সব জানবেন। অফিসে দৌড়ানো লাগবে না। সময় আর টাকা দুইটাই বাঁচবে। তাই লাইসেন্স বানোর আগে সবার আগে BRTA একাউন্ট খুলে নেন ভাই। নইলে পরে অনেক ঝামেলা পোহাতে হবে। আফসোস করবেন।
BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স পোর্টাল http://bps.brta.gov.bd পরিচিতি
ভাই http://bps.brta.gov.bd হলো BRTA এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। এর পুরা নাম Bangladesh Road Transport Authority - BSPA Portal। এই সাইটেই বাংলাদেশের সব ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাজ হয়। আপনি Google এ "BRTA portal" লিখে সার্চ দিলেই এই সাইট প্রথমে আসবে। সাবধান ভাই, নকল সাইটে ঢুকবেন না। আসল সাইটের লিংকের পাশে তালার চিহ্ন থাকবে। ওয়েবসাইটে ঢুকলেই উপরে ডানে "Registration" আর "Login" বাটন দেখবেন। নতুন হলে Registration এ ক্লিক করবেন। পুরাতন হলে Login করবেন। এই সাইট দিয়েই আপনি লার্নার কার্ডের জন্য আবেদন করবেন, ফি জমা দিবেন, লিখিত-মৌখিক-প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার ডেট নিবেন।
পরীক্ষার রেজাল্টও এখানেই দেখবেন। লাইসেন্স প্রিন্ট হইছে কিনা ওইটাও এখানে স্ট্যাটাস দেখা যায়। সাইটটা মোবাইল দিয়েও খুব সহজে চলে। কম্পিউটার লাগে না। তবে Chrome ব্রাউজার ব্যবহার করলে ভালো। সাইটে বাংলায়ও অপশন আছে। "বাংলা" বাটনে ক্লিক করলে সব বাংলা হয়ে যাবে। যারা ইংরেজি কম বোঝেন তাদের জন্য সুবিধা। সাইটের ড্যাশবোর্ডে আপনার নাম, NID নাম্বার, মোবাইল নাম্বার সব দেখাবে। কোন কাজ কতদূর আগাইছে ওইটাও এখানে দেখা যায়। তাই এই পোর্টালটা চিনে রাখা জরুরি। এটা ছাড়া লাইসেন্সের কাজ আগাবে না।
একাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ভাই BRTA একাউন্ট খুলতে বেশি কাগজপত্র লাগে না। মাত্র 5টা জিনিস লাগে। প্রথম জিনিস হলো NID কার্ড। আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার লাগবে। NID না থাকলে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে হবে না। 18 বছর বয়স হতে হবে। NID এর সামনে-পিছনের ছবি তুলে রাখেন মোবাইলে। ছবি ঝাপসা হলে হবে না। দিনের আলোতে তুলবেন। দ্বিতীয় জিনিস হলো নিজের একটা পাসপোর্ট সাইজ ছবি। সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে তুলবেন। চশমা থাকলে খুলে তুলবেন। দাড়ি থাকলে সমস্যা নাই। ছবির সাইজ 300KB এর কম হতে হবে। JPG ফরম্যাটে রাখবেন।
তৃতীয় জিনিস হলো নিজের সিগনেচার। সাদা কাগজে কালো কলম দিয়ে সিগনেচার করে ছবি তুলবেন। সিগনেচার যেন 300KB এর কম হয়। চতুর্থ জিনিস হলো একটিভ মোবাইল নাম্বার। নাম্বারটা নিজের নামে রেজিস্টার করা থাকলে ভালো। কারণ OTP কোড আসবে। পঞ্চম জিনিস হলো Gmail। Gmail না থাকলে খুলে নেন। এই 5টা জিনিস রেডি রাখলে 10 মিনিটে একাউন্ট খুলে ফেলতে পারবেন। কোনো টাকা লাগবে না। একাউন্ট খুলা সম্পূর্ণ ফ্রি। কাগজপত্র রেডি না থাকলে বারবার উঠতে হবে। তাই আগে সব রেডি করে তারপর কম্পিউটারের সামনে বসেন।
BRTA ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন পেজে প্রবেশ
ভাই প্রথমে মোবাইলের Chrome ব্রাউজার ওপেন করেন। সার্চ বারে লিখেন http://bps.brta.gov.bd। তারপর Enter চাপ দেন। সাইট ওপেন হলে উপরে ডানে "Registration" লেখা নীল বাটন দেখবেন। ওইটায় ক্লিক করেন। ক্লিক করার পর একটা নতুন পেজ আসবে। ওই পেজের নাম "User Registration"। এখানেই আপনার সব তথ্য দিতে হবে। পেজে প্রথমেই NID নাম্বার চাইবে। 10 সংখ্যার NID হলে সামনে জন্ম সাল বসাবেন। যেমন 2005 সালের হলে 2005xxxxxxxxxx।
তারপর জন্ম তারিখ দিবেন। ক্যালেন্ডার আইকনে ক্লিক করলে তারিখ সিলেক্ট করা যায়। তারিখ দেওয়ার পর "Verify" বাটনে চাপ দিবেন। সিস্টেম আপনার NID চেক করবে। NID ঠিক থাকলে নিচে আপনার নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম অটো চলে আসবে। এই তথ্য আপনি চেঞ্জ করতে পারবেন না। কারণ NID থেকে ডাটা আসছে। যদি "NID not found" লেখা আসে তাইলে বুঝবেন NID নাম্বার বা জন্ম তারিখ ভুল দিছেন। আবার ঠিক করে দেন। Verify ওকে হলে নিচের ফর্ম পূরণ করার অপশন আসবে। এই পেজে তাড়াহুড়া করবেন না। ধীরে সুস্থে তথ্য দেন। একবার ভুল দিলে পরে সংশোধন করা কঠিন।
NID নাম্বার ও জন্মতারিখ দিয়ে ভেরিফিকেশন
ভাই এই স্টেপটা সবচেয়ে জরুরি। NID ভেরিফাই না হলে আপনি একাউন্টই খুলতে পারবেন না। রেজিস্ট্রেশন পেজে গিয়ে প্রথমে NID নাম্বারের ঘরে আপনার 10 বা 17 সংখ্যার NID নাম্বার লিখেন। 10 সংখ্যার হলে সামনে 4 ডিজিট জন্ম সাল বসাবেন। যেমন NID 1234567890 হলে আর জন্ম সাল 2000 হলে লিখবেন 20001234567890। তারপর নিচে জন্ম তারিখ সিলেক্ট করেন। দিন-মাস-সাল ঠিকমতো দিবেন। NID কার্ড দেখে দেখে দেন। একটা নাম্বার ভুল হলেও ভেরিফাই হবে না। সব দেওয়ার পর "Verify" বাটনে ক্লিক করেন।
2 সেকেন্ড ওয়েট করেন। যদি সব ঠিক থাকে তাইলে সবুজ কালারে লেখা আসবে "NID Verified Successfully"। সাথে আপনার নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, ঠিকানা অটো চলে আসবে। এই তথ্য 100% অরিজিনাল। পুলিশও এই তথ্যই দেখবে। যদি লাল কালারে "Invalid NID or Date of Birth" আসে তাইলে বুঝবেন কোথাও ভুল হইছে। আবার NID কার্ড দেখে ঠিক করে লিখেন। 3 বারের বেশি ভুল দিলে 30 মিনিট লক হয়ে যাবে। তাই সাবধানে দেন ভাই। ভেরিফাই হওয়ার পর নিচে স্ক্রল করলেই মোবাইল-ইমেইলের অপশন আসবে।
মোবাইল নাম্বার ও ইমেইল OTP ভেরিফাই
ভাই NID ভেরিফাই হওয়ার পর নিচে মোবাইল নাম্বার আর ইমেইলের ঘর আসবে। প্রথমে আপনার একটিভ মোবাইল নাম্বার দেন। 11 সংখ্যার। 017, 018, 019 যে কোনো অপারেটর হলেই হবে। নাম্বার দেওয়ার পর "Send OTP" বাটনে চাপ দেন। 10 সেকেন্ডের মধ্যে আপনার মোবাইলে 6 সংখ্যার একটা কোড SMS এ আসবে। কোডটা এরকম 583921। ওই কোড কপি করে OTP ঘরে বসান। তারপর "Verify" চাপ দেন। মোবাইল ভেরিফাই হয়ে গেলে সবুজ টিক চিহ্ন আসবে। এরপর ইমেইলের ঘরে আপনার Gmail দেন।
Gmail দেওয়ার পর আবার "Send OTP" চাপ দেন। Gmail এর Inbox চেক করেন। BRTA থেকেও মেইল আসবে। মেইলে 6 সংখ্যার কোড থাকবে। কোডটা কপি করে ইমেইল OTP ঘরে বসায় Verify করেন। ইমেইল ভেরিফাই হওয়ার পরও সবুজ টিক আসবে। যদি OTP না আসে তাইলে 2 মিনিট ওয়েট করে "Resend OTP" চাপ দেন। মোবাইল আর ইমেইল দুইটাই ভেরিফাই করা মাস্ট। একটা বাদ গেলে রেজিস্ট্রেশন কমপ্লিট হবে না। তাই মোবাইল আর Gmail সবসময় কাছে রাখবেন। বন্ধ করে রাখবেন না।
ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড সেট করুন
ভাই মোবাইল আর ইমেইল ভেরিফাই হওয়ার পর সবার শেষে ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ড সেট করার অপশন আসবে। ইউজারনেম আপনি নিজে বানাতে পারবেন। যেমন আপনার নাম রহিম হলে দিতে পারেন rahim2026। ইউজারনেমে স্পেস দেওয়া যাবে না। ছোট হাতের অক্ষর আর নাম্বার ব্যবহার করবেন। ইউজারনেম দেওয়ার পর সিস্টেম চেক করবে ওই নাম আগে কেউ নিছে কিনা। নেওয়া থাকলে লাল লেখা আসবে "Username already taken"। তখন শেষে 123 বাড়ায় দিবেন। পাসওয়ার্ড দেওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন।
পাসওয়ার্ড কমপক্ষে 8 সংখ্যার হতে হবে। তার মধ্যে 1টা বড় হাতের অক্ষর, 1টা ছোট হাতের অক্ষর, 1টা নাম্বার আর 1টা চিহ্ন থাকতে হবে। যেমন Rahim@2026। পাসওয়ার্ড সহজ দিবেন না। 123456 দিলে হবে না। পাসওয়ার্ড দুইবার লিখে "Confirm Password" ঘরে একই পাসওয়ার্ড দিবেন। তারপর নিচে "I agree to the terms and conditions" এর বক্সে টিক দেন। সব শেষে "Register" বাটনে চাপ দেন। সফল হলে লেখা আসবে "Registration Successful"। আপনার ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ড ডায়েরিতে লিখে রাখেন ভাই। হারায় গেলে পরে বিপদ। মোবাইলের নোটে সেভ করে রাখতে পারেন।
ছবি ও সিগনেচার আপলোডের নিয়ম
ভাই রেজিস্ট্রেশন শেষ হলে আপনাকে লগইন করে প্রোফাইল আপডেট করতে হবে। লগইন করে "Profile" অপশনে যান। ওখানে "Upload Photo" আর "Upload Signature" অপশন পাবেন। ছবি আপলোডের নিয়ম হলো পাসপোর্ট সাইজ, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, কান-কপাল দেখা যাবে। চশমা থাকলে খুলে তুলবেন। দাড়ি থাকলে সমস্যা নাই। ছবির সাইজ 300KB এর কম হতে হবে। JPG বা PNG ফরম্যাট। মোবাইল দিয়ে তুললে "Compress Image" অ্যাপ দিয়ে সাইজ কমায় নিবেন। সিগনেচারের নিয়ম হলো সাদা কাগজে কালো কলম দিয়ে সিগনেচার করবেন।
A4 কাগজের মাঝখানে করবেন। তারপর মোবাইল দিয়ে ছবি তুলবেন। ছবি যেন সোজা হয়। বাঁকা হলে বাদ দিয়ে দেয়। সিগনেচারের সাইজও 300KB এর কম। ছবি আর সিগনেচার আপলোড দেওয়ার পর "Save" চাপ দেন। ঠিকমতো আপলোড হলে আপনার প্রোফাইলে ছবি দেখা যাবে। ছবি ঝাপসা বা বড় সাইজ দিলে "File size too large" লেখা আসবে। তখন আবার কম্প্রেস করে দেন। এই ছবি আর সিগনেচারই আপনার লাইসেন্সে প্রিন্ট হবে। তাই ভালো করে দেন ভাই। একবার ভুল দিলে লাইসেন্সে ভুল ছবি আসবে।
একাউন্ট লগিন করার পদ্ধতি
“Submit Registration” এ ক্লিক করার 2 সেকেন্ডের মধ্যে স্ক্রিনে বড় করে
“Registration Successful! Your Account has been created” লেখা উঠবে। সাথে
তোমাকে অভিনন্দন জানাবে। মানে তোমার BRTA একাউন্ট তৈরি হয়ে গেছে। তুমি এখন BRTA
পোর্টালের অফিসিয়াল ইউজার। এখন তোমার কাজ হইলো লগিন করা। হোমপেজে গিয়ে উপরে ডান
পাশে “Login” বাটন আছে।ওইটাতে ক্লিক করো। নতুন পেজ আসবে। সেখানে “Username” এর
ঘরে তুমি যে ইউজারনেম দিছো ওইটা লিখো।“
Password” এর ঘরে পাসওয়ার্ড লিখো। তারপর “Login” বাটনে চাপ দাও। যদি সব তথ্য
ঠিক থাকে তাহলে তোমাকে ড্যাশবোর্ডে নিয়ে যাবে। ড্যাশবোর্ডে ঢুকার পর বাম পাশে
তোমার নাম, ছবি দেখতে পাবা।আর ডান পাশে বিভিন্ন মেনু দেখবা যেমন Apply for
Learner, Payment, Exam Schedule। প্রথমবার লগিন করার পর তোমার প্রোফাইলটা
একবার ভালো করে চেক করে নাও। নামের বান, বাবার নাম, মায়ের নাম, ঠিকানা সব ঠিক
আছে কিনা। ভুল থাকলে এখনই “Update Profile” থেকে ঠিক করে নাও। পরে ঠিক করতে
গেলে ঝামেলা।
আরো পড়ুন :উইন্ডোজ 11 ইনস্টল করার সহজ পদ্ধতি
একাউন্ট খোলার সময় কমন সমস্যা ও সমাধান
ভাই একাউন্ট খুলতে গিয়ে 90% মানুষ 5টা সমস্যায় পড়ে। সমস্যা 1: "NID not found"। সমাধান: NID নাম্বারের সামনে জন্ম সাল বসান নাই। 10 ডিজিট NID হলে 4 ডিজিট সাল বসান। সমস্যা 2: OTP আসে না। সমাধান: মোবাইলে নেটওয়ার্ক আছে কিনা চেক করেন। Spam ফোল্ডার চেক করেন। 2 মিনিট পর Resend দেন। সমস্যা 3: ছবি আপলোড হয় না। সমাধান: ছবির সাইজ 300KB এর বেশি।
Compress Imageঅ্যাপ দিয়ে কমান। সমস্যা 4: পাসওয়ার্ড নেয় না। সমাধান: 8 সংখ্যার কম দিছেন। বড় হাতের অক্ষর, নাম্বার, চিহ্ন দেন। সমস্যা 5: "Username already taken"। সমাধান: নামের শেষে 123 বা 2026 যোগ করেন। আরেকটা সমস্যা হলো সার্ভার ডাউন থাকে। বিকাল 3টা-5টার দিকে সার্ভার স্লো থাকে। তখন রাত 10টার পর ট্রাই করেন। সার্ভার ফাস্ট থাকে। আরেকটা ভুল হলো Chrome বাদে অন্য ব্রাউজার ব্যবহার করা। সবসময় Chrome ব্যবহার করবেন।
BRTA একাউন্ট দিয়ে যেসব সেবা পাবেন
ভাই BRTA একাউন্ট খুলার পর আপনি এক জায়গা থেকেই সব সার্ভিস পাবেন। প্রথম সেবা হলো লার্নার লাইসেন্সের আবেদন। ঘরে বসে ফর্ম পূরণ করে ফি জমা দিতে পারবেন। দ্বিতীয় সেবা হলো পরীক্ষার ডেট নেওয়া। লিখিত, মৌখিক, প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার তারিখ নিজে সিলেক্ট করতে পারবেন। তৃতীয় সেবা হলো রেজাল্ট চেক। পরীক্ষা দেওয়ার পর রেজাল্ট মোবাইলেই দেখতে পারবেন। চতুর্থ সেবা হলো ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন। লার্নার পাশ করার পর স্মার্ট কার্ড লাইসেন্সের আবেদন এখান থেকেই করবেন।
পঞ্চম সেবা হলো লাইসেন্স রিনিউ। 10 বছর পর লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলে রিনিউ ফি জমা দিতে পারবেন। ষষ্ঠ সেবা হলো নাম-ঠিকানা সংশোধন। লাইসেন্সে ভুল থাকলে সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। সপ্তম সেবা হলো লাইসেন্সের স্ট্যাটাস চেক। লাইসেন্স প্রিন্ট হইছে কিনা, কোন BRTA অফিসে আছে সব মোবাইলে দেখতে পারবেন। অষ্টম সেবা হলো ডুপ্লিকেট লাইসেন্স। লাইসেন্স হারায় গেলে GD করে ডুপ্লিকেটের আবেদন করতে পারবেন। একাউন্ট ছাড়া একটাও সার্ভিস পাবেন না ভাই।
উপসংহার: একাউন্ট খোলার পরবর্তী ধাপ
ভাই BRTA একাউন্ট খুলা শেষ হলে আপনার কাজ শেষ না। এরপর আসল কাজ শুরু। একাউন্ট খুলার পর প্রথমে "Learner License Application" এ ক্লিক করেন। ওখানে গাড়ি নাকি মোটরসাইকেল কোনটার জন্য লাইসেন্স বানাবেন সিলেক্ট করেন। তারপর ফি জমা দেন। লার্নার ফি 518 টাকা। বিকাশ-নগদ-রকেট দিয়ে সাথে দিতে পারবেন। ফি দেওয়ার 3 দিন পর আপনি লার্নার কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন। লার্নার কার্ড প্রিন্ট করে রাখবেন। লার্নার কার্ড দিয়ে 3 মাস প্র্যাকটিস করবেন।
3 মাস পর আবার একাউন্টে লগইন করে "Driving License Application" এ ক্লিক করবেন। পরীক্ষার ফি 2547 টাকা জমা দিবেন। তারপর পরীক্ষার ডেট নিবেন। পরীক্ষায় লিখিত, মৌখিক, প্র্যাকটিক্যাল 3টাই দিতে হবে। পরীক্ষায় পাশ করলে 30-45 দিনের মধ্যে স্মার্ট কার্ড লাইসেন্স রেডি হবে। একাউন্টে লগইন করে স্ট্যাটাস চেক করবেন। লাইসেন্স রেডি হলে মেসেজ আসবে। তখন BRTA অফিসে গিয়ে আঙুলের ছাপ দিয়ে লাইসেন্স নিয়ে আসবেন। তাই ভাই আজকেই একাউন্ট খুলে ফেলেন। দেরি করলে পরে ভোগান্তি বাড়বে। শুভকামনা রইলো।
জুঁই ম্যাক্সনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url