জেলা ভূমি রেকর্ড খতিয়ান দেখার পদ্ধতি – স্ক্রিনশট সহ

জমি-জমার হিসাব রাখার জন্য খতিয়ান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল। আগে খতিয়ানের কপি পেতে তহসিল অফিসে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হতো, সময় আর খরচ দুটোই লাগতো। এখন সরকার http://eporcha.gov.bd পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে খতিয়ান দেখা, ডাউনলোড করা আর সার্টিফাইড কপি নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। 


সঠিক জেলা, উপজেলা, মৌজা আর দাগ নম্বর জানা থাকলে ঘরে বসেই কয়েক মিনিটে নিজের জমির তথ্য যাচাই করা যায়। এতে হয়রানি কমে, স্বচ্ছতা বাড়ে, আর মানুষ নিজের কাজ নিজেই করতে পারে।

সূচিপত্রঃ জেলা ভূমি রেকর্ড খতিয়ান দেখার পদ্ধতি – স্ক্রিনশট সহ

http://eporcha.gov.bd সাইটে প্রবেশ

জেলা ভূমি রেকর্ড খতিয়ান দেখতে হলে প্রথমেই সরকারি ওয়েবসাইটে ঢুকতে হয়। এর জন্য মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার খুলে সার্চ বারে লিখতে হবে http://eportcha.gov.bd। এটা ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল সাইট, তাই এখানকার তথ্য একদম নির্ভরযোগ্য। অন্য কোনো থার্ড পার্টি সাইটে ঢুকলে ভুল তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাইটে ঢোকার পর হোমপেজেই “খতিয়ান অনুসন্ধান” নামে একটা অপশন চোখে পড়বে। সেটায় ক্লিক করলেই নতুন একটা পেজ ওপেন হবে যেখানে জমির তথ্য দেওয়ার ঘরগুলো থাকবে। এখানে তাড়াহুড়া না করে ধীরে ধীরে কাজ করতে হয়। ইন্টারনেট স্পিড কম থাকলে একটু সময় লাগতে পারে, এটা স্বাভাবিক।


এই ধাপে সবচেয়ে জরুরি হলো সঠিক জায়গা বাছাই করা। আপনি যে জমির খতিয়ান দেখবেন সেটা কোন বিভাগ, কোন জেলা, কোন উপজেলায় পড়েছে সেটা আগে থেকে জানা থাকলে কাজটা সহজ হয়ে যায়। ভুল জেলা বা উপজেলা সিলেক্ট করলে খতিয়ান খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই কাগজপত্র হাতে নিয়ে মিলিয়ে নেওয়া ভালো। দলিল, পুরনো পর্চা বা দাখিলা থেকে বিভাগ-জেলা-উপজেলার নাম কনফার্ম করে নিন। একটা অক্ষর এদিক-সেদিক হলেও সার্ভার রেজাল্ট দেখাবে না।

সবকিছু ঠিকঠাক সিলেক্ট করার পর “খুঁজুন” বাটনে চাপ দিলেই সিস্টেম ডাটাবেজ থেকে মিলিয়ে তথ্য বের করে দেবে। যদি সার্ভারে চাপ বেশি থাকে তাহলে পেজ লোড হতে একটু দেরি হতে পারে। তখন পেজ রিফ্রেশ না করে একটু অপেক্ষা করাই ভালো। বারবার রিফ্রেশ দিলে সেশন লগআউট হয়ে যায় আর আবার শুরু থেকে করতে হয়। ধৈর্য ধরে 10-15 সেকেন্ড অপেক্ষা করুন।এই ধাপটা ঠিকমতো করলে পরের ধাপগুলো আর কঠিন লাগবে না। কারণ সিস্টেম যখন সঠিক বিভাগ-জেলা-উপজেলা পেয়ে যায়, তখন শুধু ওই এলাকার ভেতরেই খোঁজে।

বিভাগ ও জেলা নির্বাচন 

জমির খতিয়ান বের করার জন্য সাইটে ঢোকার পরের ধাপ হলো ঠিক কোন জায়গার তথ্য দেখবেন সেটা ঠিক করা। প্রথমে আপনাকে বিভাগ বাছাই করতে হবে। বাংলাদেশে এখন আটটা বিভাগ আছে, তাই ড্রপডাউন থেকে নিজের জমি যেই বিভাগে পড়েছে সেটা সিলেক্ট করে নিতে হবে। এখানে ভুল করলে পরের সবকিছুই ভুল দেখাবে। বিভাগ বাছাই করা হয়ে গেলে তার নিচে জেলার লিস্ট চলে আসবে। তখন সেই জেলা সিলেক্ট করবেন যেখানে জমিটা আছে। অনেক সময় কাছাকাছি নামের দুইটা জেলা থাকে, তাই একটু দেখে নেওয়া ভালো। জেলা ঠিকমতো না দিলে সার্ভার খালি রেজাল্ট দেখাবে।

এই অংশটা একটু মনোযোগ দিয়ে করতে হয় কারণ সরকারি রেকর্ড সব জেলা ভিত্তিক সাজানো থাকে। যদি কেউ পুরনো ঠিকানা দিয়ে খোঁজে, তাহলে মিলবে না। তাই জাতীয় পরিচয়পত্র বা দলিলে যেভাবে লেখা আছে সেভাবেই দিতে হবে। একবার বিভাগ আর জেলা ঠিক করে দিলে নিচে উপজেলার অপশন আসবে। তখন বুঝবেন আপনি ঠিক পথেই আছেন। এই ধাপটা পার হয়ে গেলে অর্ধেক কাজ শেষ হয়ে যায়, কারণ সিস্টেম তখন শুধু ওই জেলার ভেতরেই খুঁজবে।

উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন

উপজেলা আর মৌজা বাছাই করা হলো খতিয়ান খোঁজার সবচেয়ে নির্দিষ্ট ধাপ। জেলা সিলেক্ট করার পর সিস্টেম আপনাকে সেই জেলার সব উপজেলার নাম দেখাবে। এখান থেকে আপনি যেই উপজেলায় জমিটা আছে সেটা বেছে নেবেন। অনেক উপজেলার নাম একই রকম হয়, তাই নামের বান মিলিয়ে নেওয়া ভালো। উপজেলা ঠিক করার পর মৌজার অপশন আসবে। মৌজা মানে হলো গ্রাম বা এলাকার একটা ছোট অংশ যেটার আলাদা জরিপ নম্বর থাকে। এই মৌজার নাম যদি ভুল হয় তাহলে হাজার চেষ্টা করেও খতিয়ান পাওয়া যাবে না। তাই দলিল বা পুরনো পর্চায় যেভাবে লেখা আছে ঠিক সেভাবেই দিতে হবে। 

অনেক সময় একই নামের একাধিক মৌজা থাকে একই উপজেলায়। তখন জমির দাগ নম্বর দেখে মিলিয়ে নিতে হয়। না মিললে স্থানীয় ভূমি অফিসে গিয়ে জেনে নেওয়া যায় কোন মৌজায় জমিটা পড়েছে। এই ছোট ভুলের কারণেই বেশিরভাগ মানুষ খতিয়ান খুঁজে পায় না। মৌজা সিলেক্ট করা হয়ে গেলে নিচে খতিয়ানের ধরন আর অনুসন্ধানের ঘরগুলো খুলে যাবে। তখন বুঝবেন আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসে গেছেন। এই ধাপটা পার করতে পারলেই মূল তথ্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাবেন।

আরো পড়ুনঃবাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার সম্পূর্ণ গাইড

খতিয়ানের ধরন বাছাই – আর এস, বি আর এস, সি এস, এস এ  

খতিয়ানের ধরন বাছাই করা মানে হলো আপনি কোন আমলের জরিপের রেকর্ড দেখতে চান সেটা ঠিক করা। আমাদের দেশে জমির জরিপ কয়েক দফায় হয়েছে, যেমন সি এস, এস এ, আর এস আর বি আর এস। প্রত্যেকটা আলাদা সময়ে করা হয়েছে, তাই তথ্যও একটু আলাদা হয়। আপনি যদি না জানেন কোনটা লাগবে, তাহলে সাধারণত আর এস বা বি আর এস সিলেক্ট করাই নিরাপদ, কারণ এগুলো সবচেয়ে হালনাগাদ। সি এস মানে ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে, এটা ব্রিটিশ আমলে করা হয়েছিল। অনেক পুরনো জমির রেকর্ড এখানে পাওয়া যায়। 

এরপর এস এ বা স্টেট অ্যাকুইজিশন সার্ভে হয় পাকিস্তান আমলে। তাই বর্তমান মালিকানা জানতে হলে এই দুইটার যেকোনো একটা দেখাই ভালো।ওয়েবসাইটে গেলে “খতিয়ানের ধরন” নামে একটা ড্রপডাউন পাবেন। সেখানে এই চারটা অপশন দেখাবে। আপনি যেটা দরকার সেটা বেছে নেবেন। যদি ভুলটা বেছে ফেলেন, তাহলে খতিয়ান খুঁজে পেলেও সেটা পুরনো তথ্য হতে পারে, যেটা এখন আর কাজে লাগবে না। এই ধাপটা ঠিকঠাক করলে পরের ধাপে খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর দিয়ে সার্চ দিলে সঠিক রেজাল্ট আসবে। অনেকেই এখানে গুলিয়ে ফেলে, তাই একটু খেয়াল করে নিলে পরে আর ঝামেলায় পড়তে হয় না।

খতিয়ান নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান  

খতিয়ান নম্বর জানা থাকলে খোঁজার কাজটা সবচেয়ে সহজ হয়ে যায়। মৌজা আর খতিয়ানের ধরন সিলেক্ট করার পর নিচে একটা ঘর দেখাবে যেখানে “খতিয়ান নম্বর” লেখা থাকবে। সেখানে আপনার কাছে থাকা নম্বরটা হুবহু লিখে দেবেন। একটারও এদিক-সেদিক হলে সিস্টেম কিছু দেখাবে না। নম্বরটা লেখার সময় খেয়াল রাখবেন ইংরেজি নাকি বাংলা সংখ্যা চাইছে। সাধারণত ইংরেজি সংখ্যাই কাজ করে ভালো। ভুল করে স্পেস বা ডট দিয়ে ফেললেও রেজাল্ট আসবে না। তাই সরাসরি শুধু নম্বরটা টাইপ করাই ভালো।

খতিয়ান নম্বর দেওয়ার পর পাশে থাকা “খুঁজুন” বাটনে চাপ দিলে সিস্টেম সাথে সাথেই ডাটাবেজ চেক করে। যদি ওই নম্বরের খতিয়ান ডিজিটাল হয়ে থাকে, তাহলে একটা লিস্ট আকারে সামনে চলে আসবে। তখন সেটায় ডাবল ক্লিক করলেই পুরো তথ্য দেখতে পারবেন। এই পদ্ধতিটা দ্রুত, কারণ সিস্টেমকে পুরো মৌজা ঘেঁটে খুঁজতে হয় না। শুধু একটা নির্দিষ্ট রেকর্ড টেনে আনে। তাই সময় বাঁচাতে চাইলে আগে দলিল বা পুরনো পর্চা থেকে খতিয়ান নম্বরটা বের করে রাখা ভালো।

দাগ নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান  

খতিয়ান নম্বর না থাকলেও সমস্যা নেই, তখন দাগ নম্বর দিয়ে খোঁজা যায়। দাগ নম্বর হলো জমির একেকটা প্লটের আলাদা পরিচয় নম্বর, যেটা নকশা বা মাঠ পর্চায় লেখা থাকে। মৌজা আর খতিয়ানের ধরন ঠিক করার পর “অধিকতর অনুসন্ধান” অপশনে ক্লিক করলে দাগ নম্বর দেওয়ার ঘর চলে আসবে। সেখানে আপনার জমির দাগ নম্বরটা লিখে দেবেন। একই মৌজায় অনেক দাগ থাকে, তাই নম্বরটা ঠিকঠাক দিতে হবে। যদি একাধিক রেজাল্ট আসে, তাহলে জমির পরিমাণ আর মালিকের নাম দেখে মিলিয়ে নিতে হবে কোনটা আপনার জমি। এভাবে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

অনেক সময় একটা দাগে একাধিক মালিকের নাম থাকে। সেক্ষেত্রে সিস্টেম সবগুলো খতিয়ান একসাথে দেখিয়ে দেবে। আপনি যার নাম খুঁজছেন সেটা মিলিয়ে খতিয়ানে ক্লিক করলেই বিস্তারিত চলে আসবে। এজন্য দাগ নম্বরের পাশাপাশি মালিকের নাম মনে থাকলে কাজটা আরও সহজ হয়। এই পদ্ধতিটা একটু সময় নেয় কারণ সিস্টেমকে পুরো মৌজার ভেতর খুঁজতে হয়। তবে দাগ নম্বর থাকলে ৯০% ক্ষেত্রেই সঠিক খতিয়ান পাওয়া যায়। তাই দলিল বা নকশায় দাগ নম্বরটা আগে থেকে দেখে রাখা ভালো।

আরো পড়ুনঃ Shopify স্টোরে প্রোডাক্ট যোগ করার ধাপ

মালিকের নাম দিয়ে অনুসন্ধান  

মালিকের নাম দিয়ে খোঁজার অপশনটা তখন কাজে লাগে যখন আপনার কাছে খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর কিছুই নেই। মৌজা আর খতিয়ানের ধরন সিলেক্ট করার পর “মালিকের নাম” লেখার একটা ঘর পাবেন। সেখানে যার নামে জমি আছে তার পুরো নাম লিখে দেবেন। একদম দলিলে যেভাবে আছে সেভাবে লিখলে রেজাল্ট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। নাম লেখার সময় শুধু প্রথম অংশ লিখলেও চলে, কারণ সিস্টেম আংশিক মিল দেখালেও রেজাল্ট দেখায়। যেমন “মোহাম্মদ” লিখলে “মোহাম্মদ আলী”, “মোহাম্মদ করিম” সবগুলো চলে আসবে। 

এরপর আপনি ঠিকানার সাথে মিলিয়ে বুঝে নিতে পারবেন কোনটা আপনার দরকার। তবে একই নামে অনেক মানুষ থাকলে একটু সময় লাগবে সঠিকটা বের করতে।এই পদ্ধতিতে অনেক সময় একসাথে অনেকগুলো রেকর্ড চলে আসে। তখন আপনাকে বাবার নাম, গ্রামের নাম, জমির পরিমাণ এসব দেখে মিলাতে হবে। ধৈর্য ধরে চেক করলে ভুল খতিয়ান বেছে নেওয়ার ভয় থাকে না। এজন্যই এই অপশনটা নতুনদের জন্য একটু ঝামেলার মনে হয়।

খতিয়ানের তালিকা থেকে খতিয়ান বাছাই  

খোঁজার তথ্য দেওয়ার পর সিস্টেম সাধারণত একটা লিস্ট আকারে খতিয়ানগুলো দেখায়। এই লিস্টে খতিয়ান নম্বর, মালিকের নাম, জমির পরিমাণ আর দাগ নম্বর সংক্ষেপে লেখা থাকে। এখানে আপনার কাজ হলো নিজের জমির তথ্যের সাথে মিলিয়ে দেখা কোনটা ঠিক আছে। তাড়াহুড়া করে প্রথমটায় ক্লিক করলে ভুল খতিয়ান খুলে যেতে পারে। অনেক সময় একই নামে একাধিক খতিয়ান থাকে, বিশেষ করে বড় পরিবারে। তখন বাবার নাম, গ্রাম আর জমির দাগ দেখে বুঝতে হবে কোনটা আপনারটা। যদি কনফিউশন লাগে, পুরনো পর্চার সাথে একটু মিলিয়ে নিলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। 

এটা একটু সময় নেয়, কিন্তু পরে ভুল সংশোধনের ঝামেলা থেকে বাঁচায়।ঠিক খতিয়ানটা চিনতে পারলে শুধু সেটার উপর ক্লিক করতে হবে। ক্লিক করার সাথে সাথেই পুরো খতিয়ানের বিস্তারিত তথ্য নতুন পেজে খুলে যাবে। সেখানে মালিকের নাম, হিস্যা, জমির শ্রেণি সব লেখা থাকবে। এটাই আসল রেকর্ড যেটা আপনি দেখতে চেয়েছিলেন। লিস্ট থেকে বাছাই করার সময় একটু মনোযোগ দিলেই হয়। ভুল খতিয়ান ডাউনলোড করে ফেললে পরে আবার খুঁজতে হবে। তাই নাম আর দাগ নম্বর দুইটা মিলিয়ে দেখে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

আরো পড়ুনঃ চীনের প্রোডাক্ট বাংলাদেশে আমদানি করার প্রক্রিয়া – স্টেপ বাই স্টেপ স্ক্রিনশট সহ

মোবাইলে স্ক্রিনশট নেওয়ার নিয়ম 

মোবাইলে খতিয়ান দেখার পর সেটার ছবি তুলে রাখা সবচেয়ে সহজ কাজ। তথ্য খোলার পর পুরো পেজটা একবার নিচে স্ক্রল করে দেখে নেবেন যাতে সব লেখা স্ক্রিনে চলে আসে। তারপর ফোনের ভলিউম ডাউন বাটন আর পাওয়ার বাটন একসাথে চেপে ধরলেই স্ক্রিনশট হয়ে যাবে। কিছু ফোনে তিন আঙুল দিয়ে উপর থেকে নিচে টানলেও হয়। স্ক্রিনশট নেওয়ার পর গ্যালারিতে গিয়ে দেখবেন ছবিটা ঠিকমতো এসেছে কিনা। যদি লেখা ঝাপসা লাগে, তাহলে ব্রাইটনেস বাড়িয়ে আবার একবার চেষ্টা করুন। একাধিক পেজ হলে প্রতিটা পেজ আলাদা আলাদা করে স্ক্রিনশট নিতে হবে, কারণ একসাথে পুরোটা আসে না।

এই ছবিগুলো পরে প্রয়োজনে দেখাতে পারবেন, যেমন জমি নিয়ে কারো সাথে কথা বলার সময় বা দলিল লেখার সময়। তবে মনে রাখবেন এটা শুধু নিজের রেফারেন্সের জন্য। অফিসিয়াল কাজে জমা দিতে হলে সরকারি সিলসহ কপি লাগবে। তাই স্ক্রিনশট নেওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন যেন খতিয়ান নম্বর, মালিকের নাম আর দাগ নম্বর স্পষ্ট দেখা যায়। একবার ঠিকঠাক ছবি তুলে রাখলে বারবার সাইটে ঢুকে খোঁজার ঝামেলা থাকে না।

কম্পিউটারে স্ক্রিনশট নেওয়ার নিয়ম  

কম্পিউটারে খতিয়ান দেখার পর সেটা সেভ করে রাখতে চাইলে স্ক্রিনশট নেওয়াই সবচেয়ে সহজ। খতিয়ানের পুরো তথ্য পেজে আসার পর মাউস দিয়ে একবার নিচে স্ক্রল করে দেখে নিন সব লেখা ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে কিনা। উইন্ডোজ কম্পিউটার হলে কীবোর্ড থেকে PrtScn বাটন চাপলে পুরো স্ক্রিনের ছবি কপি হয়ে যাবে। তারপর Paint বা Word খুলে Ctrl + V দিলে ছবিটা পেস্ট হয়ে যাবে। সেখান থেকে Save করে রাখতে পারবেন। 

যদি শুধু খতিয়ানের অংশটুকু নিতে চান, তাহলে Windows + Shift + S চাপুন। কার্সর দিয়ে যেটুকু সিলেক্ট করবেন শুধু সেটাই ক্যাপচার হবে। ম্যাক ইউজ করলে Command + Shift + 4 চাপলে মাউস দিয়ে এরিয়া সিলেক্ট করে স্ক্রিনশট নিতে পারবেন। ছবিটা অটোমেটিক ডেস্কটপে সেভ হয়ে যাবে। স্ক্রিনশট নেওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন যেন খতিয়ান নম্বর, মালিকের নাম আর দাগ নম্বর স্পষ্ট দেখা যায়। একবার ঠিকমতো সেভ করে রাখলে পরে আর বারবার সাইটে ঢুকে খোঁজার দরকার পড়ে না।

অনলাইন কপির জন্য আবেদন ও ফি পরিশোধ

অনলাইনে খতিয়ানের সার্টিফাইড কপির জন্য আবেদন করাটা এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। আগে যেটার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভূমি অফিসে বসে থাকতে হতো, এখন ঘরে বসেই আবেদন করা যায়। http://eportcha.gov.bd সাইটে ঢুকে “সার্টিফাইড কপির আবেদন” অপশনে ক্লিক করলেই ফরম চলে আসবে। সেখানে জেলা, উপজেলা, মৌজা আর খতিয়ান নম্বর দিলে সিস্টেম বুঝে নেবে কোন রেকর্ডটা চান। ফরম পূরণ করার পর ফি পরিশোধের পালা। এখানে বিকাশ, নগদ, রকেট, কার্ড—যেটা সুবিধা সেটা দিয়ে পেমেন্ট করা যায়।

ফি খুব বেশি না, সাধারণত ১০-২০০ টাকার মতো। পেমেন্ট সফল হলে একটা ট্র্যাকিং নম্বর পাবেন। এই নম্বরটা সেভ করে রাখবেন, কারণ এটা দিয়েই পরে আবেদনের অবস্থা চেক করা যায়।আবেদন জমা হওয়ার পর অফিস থেকে রেকর্ড ভেরিফাই করে। সব ঠিক থাকলে ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে ডিজিটাল সইসহ কপি তৈরি হয়ে যায়। তখন আবার সাইটে লগইন করে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। এই কপিটা অফিসিয়াল কাজে ব্যবহার করা যায়, কারণ এতে কিউআর কোড আর ডিজিটাল সিল থাকে।

আরো পড়ুনঃঅনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম

শেষ কথা

অনলাইনে খতিয়ান পেতে হলে তথ্য ঠিক দেওয়া জরুরি। জেলা, উপজেলা, মৌজা আর দাগ নম্বর দলিলের সাথে মিলিয়ে দিলে eportcha সাইটে সঙ্গে রেজাল্ট চলে আসে। নিজের দেখার জন্য PDF বা স্ক্রিনশট নিলেই হয়, কিন্তু জমি রেজিস্ট্রি, মিউটেশনের মতো অফিসিয়াল কাজে সেটা গ্রহণযোগ্য না। অফিসিয়াল কাজের জন্য eportcha থেকে অল্প ফি দিয়ে সার্টিফাইড কপির আবেদন করতে হয়। পেমেন্ট হয়ে গেলে ৩-৭ দিনের মধ্যে কিউআর কোড আর ডিজিটাল সিলসহ কপি ডাউনলোড করা যায়। আর লেখায় কোথাও ভুল থাকলে ক্ষমা করে দেবেন।

অনলাইনে খতিয়ান পেতে হলে তথ্য ঠিক দেওয়া জরুরি। জেলা, উপজেলা, মৌজা আর দাগ নম্বর দলিলের সাথে মিলিয়ে দিলে eporcha সাইটে সঙ্গে রেজাল্ট চলে আসে। নিজের দেখার জন্য PDF বা স্ক্রিনশট নিলেই হয়, কিন্তু জমি রেজিস্ট্রি, মিউটেশনের মতো অফিসিয়াল কাজে সেটা গ্রহণযোগ্য না।অফিসিয়াল কাজের জন্য eporcha থেকে অল্প ফি দিয়ে সার্টিফাইড কপির আবেদন করতে হয়। পেমেন্ট হয়ে গেলে ৩-৭ দিনের মধ্যে কিউআর কোড আর ডিজিটাল সিলসহ কপি ডাউনলোড করা যায়। এই কপি দিয়ে আপনি মিউটেশন, ব্যাংক লোন, জমি বিক্রি সব কাজ করতে পারবেন।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জুঁই ম্যাক্সনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url