বাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার গাইড

আরে আমি যখন প্রথম অনলাইনে ইনকামের কথা ভাবি তখনই ড্রপশিপিংয়ের নাম শুনি। এখানে আমার কাছে মাল না থাকলেও আমি বিক্রি করতে পারি। বাংলাদেশে ফেসবুক আর ক্যাশ অন

ডেলিভারির কারণে এটা এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে।  কিভাবে একজন স্টুডেন্ট শুরু করতে পারবে। পড়াশোনার পাশাপাশি যারা নিজের খরচ নিজে চালাতে চাও, এই গাইডটা তোমাদের জন্যই।

সূচিপএ:বাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার গাইড

ড্রপশিপিং আসলে কি 

আমার কাছে ড্রপশিপিং মানে হলো দোকান না দিয়েও ব্যবসা করা। গত মাসে আমার বান্ধবী লামিয়া আমাকে দেখাইছিল ও কীভাবে ফেসবুকে মোবাইল কভার বিক্রি করে।ওর কাছে একটাও কভার নাই, কিন্তু কেউ অর্ডার দিলে ও সাপ্লায়ারকে মেসেজ দেয়, ওরাই কাস্টমারের বাসায় পাঠায় দেয়।  প্রথমে আমার একটু অদ্ভুত লাগছিল। মনে হইছিল মানুষ কি অনলাইনে টাকা দিবে?

কিন্তু লামিয়া বললো ও প্রথম ৩ দিনে ২টা অর্ডার পাইছিল, তখন আমার বিশ্বাস হইলো। আমার মনে হয় যাদের দোকান দেয়ার টাকা নাই, তাদের জন্য এটা ভালো।  আমি যদি শুরু করি তাহলে আমি শুধু মোবাইল কভার নিয়েই করবো।কারণ আমার বন্ধুদের সবসময় কভার লাগে, আর এটা ভাঙেও তাড়াতাড়ি। তাই আমি ভাবছি ছোট করে শুরু করে দেখি কেমন হয়।

শুরু করার আগে ৫টা জিনিস

আমি প্রথমে না বুঝে সরাসরি ২০০ টাকা ঢেলে দিছিলাম। ভাবছিলাম পোস্ট দিলেই অর্ডার আসবে। কিন্তু ৩ দিন গেল, একটাও মেসেজ নাই। তখন বুঝলাম আগে হিসাব করতে হয় কত টাকা গেলে আমার সমস্যা হবে না। আমার কাছে ৫০ টাকার বেশি লস নেয়া সম্ভব না।তারপর আমি বসলাম ভাবতে কী নিয়ে কাজ করবো। আমার এলাকায় মোবাইল কভারের চাহিদা আছে।

কারণ সবার ফোনে নতুন কভার লাগেই। আর আমি ঠিক করলাম, কেউ মেসেজ দিলে ১ ঘণ্টার মধ্যে রিপ্লাই দেবো। না দিলে কাস্টমার চলে যায়, এটা লামিয়ার কাছে শুনছি।এখন আমার প্ল্যান হলো ছোট করে শুরু করা। প্রথমে ২-৩ টা ডিজাইন দিয়ে টেস্ট করবো। যদি ২-১ টা অর্ডার আসে, তখন আস্তে আস্তে বাড়াবো। আমার কাছে মনে হয় তাড়াহুড়া না করাই ভালো।

প্রোডাক্ট কোথা থেকে পাবে 

আমি প্রথমে ভাবছিলাম ঢাকায় যাবো প্রোডাক্ট আনতে, কিন্তু একা যাওয়ার সাহস পাই নাই। পরে আমার বাসার কাছের নিউ মার্কেটে গেলাম ঘুরতে ঘুরতে। ওখানে এক দোকানদার কাকারে জিজ্ঞাসা করলাম মোবাইল কভারের দাম কত। উনি বললো একটা ৫০ টাকা, কিন্তু ১০টা নিলে ৪০ টাকা রাখবে। আমার কাছে তখন এটাই সুবিধা মনে হইলো।

এরপর ফেসবুকে ঘাটতে ঘাটতে দেখলাম আলি এক্সপ্রেসে আরও সস্তা, ১৬-১৮ টাকায় পাওয়া যায়। কিন্তু ওখানে সমস্যা হইলো মাল আসতে ১৫-২০ দিন লাগে। আমি ভাবলাম নতুন অবস্থায় এতদিন অপেক্ষা করলে কাস্টমার তো চইলা যাবে।তাই আমি ঠিক করলাম শুরুতে লোকাল থেকেই নেবো। ২-৩ দিনের মধ্যে ডেলিভারি দিতে পারলে মানুষ ভরসা পায়।পরে যখন ২-১টা অর্ডার আসবো, তখন আস্তে আস্তে অনলাইন থেকে কম দামে এনে লাভ বাড়াব

আরো পড়ুন :অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম

ড্রপলিপিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সঠিক পোডাক্ট বাছা।তোমার কাছে না মাল থাকলেও যেটা বিক্রি করবে সেটা মানুষের দরকারি আর কম দামে পাওয়া যায় এমন হওয়া লাগবে।মোবাইল কভার,ইয়ারফোন, চার্জার, এগুলোর চাহিদা সবসময় থাকে। বিউটি পোডাক্ট ফেসওয়াশ,হেয়ার অয়েল কম্বো অফার। হোম গ্যাজেট,এলডি লাইট,কিচেন টলুস,ছোট ইলেকট্রনিকস। 

ফেসবুক পেজ দিয়ে সেল 

আমার এখনো পেজ খোলা হয়নি, কিন্তু আমি ইউটিউবে ভিডিও দেখে শিখে রেখেছি। আমি ভাবছি পেজের নাম দেব "MX Store", কারণ নামটা ছোট আর মনে থাকে। প্রথমে প্রোফাইল পিকচারে একটা সুন্দর কভারের ছবি দেব, যাতে মানুষ দেখেই বুঝে আমি কী বিক্রি করি।এরপর আমি মোবাইল কভারের ছবি তুলে পেজে পোস্ট করব।

ছবি তোলার সময় চেষ্টা করব দিনের আলোতে তুলতে, যাতে কালারটা ভালো আসে। ক্যাপশনে লিখব দাম কত, কোন কালার আছে, আর কতদিনে ডেলিভারি দিতে পারব।আমার প্ল্যান হলো শুরুতে ৫০-৭০ টাকার বুস্ট দিয়ে দেখব মানুষ কেমন রেসপন্স দেয়। যদি ২-১টা মেসেজ আসে, তাহলে বুঝব কাজ হবে। পরে আস্তে আস্তে বুস্ট বাড়িয়ে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাব।

কুরিয়ার হ্যান্ডেল করা

আমি এখনো নিজে অর্ডার নেইনি, তাই কুরিয়ারে মাল পাঠাইনি। কিন্তু আমি RedX আর Pathao এর পেজে দেখেছি ওরা কিভাবে কাজ করে। ওদের ওয়েবসাইটে লেখা আছে অর্ডার কনফার্ম করলে ওরা নিজে বাসা থেকে মাল নিয়ে যায়। ঢাকার ভিতরে ২ দিন, আর ঢাকার বাইরে ৩-৪ দিন লাগে।আমি আমার এলাকার এক দোকানদার কাকাকে জিজ্ঞাসা করেছি উনি কিভাবে পাঠান। 

উনি বলেছেন COD মানে ক্যাশ অন ডেলিভারি সিস্টেমে কাজ করতে। এতে কাস্টমার মাল হাতে পাওয়ার পর টাকা দেয়। এতে আমার টাকা আটকে থাকার ভয় কম, আর কাস্টমারও ভরসা পায়।আমি ভাবছি প্রথম ৫-১০টা অর্ডার নিজে কুরিয়ার অফিসে গিয়ে বুঝিয়ে দেব। তাহলে আমি নিজে দেখতে পারবো কিভাবে প্যাকিং করতে হয়, কত টাকা চার্জ নেয়, আর কোনো সমস্যা হলে সাথে কথা বলতে পারবো। পরে যখন অভ্যাস হয়ে যাবে তখন বাসা থেকে পিকআপ নেবো।

দাম আর লাভ কিভাবে হিসাব করবে

আমি ভাবছি দাম বের করার সময় আমি সব খরচ যোগ করবো। যেমন আমি যদি একটা মোবাইল কভার ১৫০ টাকায় কিনি, আর কুরিয়ারে ৭০ টাকা লাগে, আর ফেসবুকে ৬০ টাকার এড দিই, তাহলে আমার মোট খরচ হবে ২৮০ টাকা। আমার মনে হয় নতুন পেজ তাই প্রথমে লাভ কম রাখা ভালো। বেশি দাম রাখলে কেউ কিনবে না। তাই আমি ঠিক করেছি ।

এটা ৪২০ টাকায় বেচবো।  তাহলে আমার লাভ হবে ৪২০ - ২৮০ = ১৪০ টাকা। শুরুতে এতটুকু লাভ রাখবো। পরে যখন কাস্টমার বাড়বে আর বিশ্বাস হবে, তখন দাম একটু বাড়িয়ে লাভ ১৮০-২০০ টাকা করবো। আর এই লাভের টাকা দিয়ে আমি আবার নতুন প্রোডাক্ট কিনবো আর এডে খরচ করবো। এভাবে ধীরে ধীরে আমার বিজনেসটা বড় করব

আরো পড়ুন : Shopify স্টোরে প্রোডাক্ট যোগ করার ধাপ 

আমি শরু করতাম রাজশাহী  নিউ মার্কেট আর সাহেব বাজার থেকে। ওখানে মোবাইলে কভার চর্জার, ইয়ারফোন সব পাইকারি দামে পাওয়া যায়। প্রথমে দোকান এ গিয়ে ছবি তুলে নিবা। তারপর ওই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করবা।কেউ অর্ডার করলে তুমি গিয়ে জিনিসটা কিনে সুন্দরবন বা এসএ পরিবহন পাঠায় দিবা। তুমি মাঝখানে শুধু লাভটা রাখবা।শরুতে এটায় সহজ। পুঁজিও কম লাগে।

কাস্টমার কমপ্লেইন হ্যান্ডেল  

আমি এখনো বিজনেস শুরু করি নাই, কিন্তু জানি কমপ্লেইন আসবেই। তাই আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছি কিভাবে সামলাবো।  কাস্টমার যদি রাগ করে কিছু বলে, আমি আগে শান্ত হয়ে শুনবো আর সরি বলবো। রাগের জবাব রাগ দিয়ে দিলে সমস্যা আরো বাড়ে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রিপ্লাই দেবো, কারণ দেরি করলে ওরা বিরক্ত হয়ে অর্ডার ক্যান্সেল করে দেয়।  

প্রোডাক্টে সমস্যা হলে আমি বদলে দেবো বা টাকা ফেরত দেবো। শুরুতে একটু লস হলেও সমস্যা নাই। কাস্টমার খুশি থাকলে সে আবার কিনবে আর ভালো রিভিউ দেবে।  আমার কাছে সবচেয়ে জরুরি হলো কাস্টমারের ভরসা ধরে রাখা।কমপ্লেইনকে আমি খারাপ কিছু ভাবি না। এটা দেখে আমি বুঝতে পারবো কোথায় ভুল হচ্ছে আর কিভাবে সার্ভিসটা আরো ভালো করা যায়।

ফ্রিতে অর্ডার আনার উপায়  

প্রথমে আমি আমার বন্ধু-বান্ধব আর বাসার লোকদের বলবো। ওরাই প্রথমে অর্ডার করবে আর ভালো বললে অন্যরাও ভরসা পাবে। তারপর ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে প্রোডাক্টের ছবি দিয়ে ছোটখাটো অফার দেবো, যেমন ডেলিভারি ফ্রি বা প্রথম ৫ জনের জন্য ডিসকাউন্ট। যারা একবার কিনবে তাদের বলবো যদি আরো ২ জনকে আনে তাহলে পরের বারে কিছু গিফট পাবে।

মাঝে মাঝে পেজ শেয়ার করলেই ফ্রি প্রোডাক্ট দেওয়ার মতো ছোট খেলা করবো। এতে মানুষ আগ্রহী হবে আর আস্তে আস্তে অর্ডার আসা শুরু হবে।  আর আমি চেষ্টা করবো শুধু বিক্রির কথা না বলে, প্রোডাক্টটা কেমন কাজ করে সেটা ভিডিও বা ছবি দিয়ে দেখাতে। মানুষ দেখে বুঝলে নিজেই অর্ডার করবে, আমাকে বেশি বলতেও হবে না।

নতুনদের কমন ভুল

আমি দেখছি বেশিরভাগ নতুন মানুষ ২টা ভুল করে। প্রথমটা হলো ট্রেন্ডিং প্রোডাক্ট দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়া। যেমন এক সময় ফিজেট স্পিনার ভাইরাল হইছিল, সবাই ওইটাই বেচছিল। পরে দেখা গেলো কম্পিটিশন এত বেশি যে সেলই হয় না।দ্বিতীয় ভুল হলো একবারে বেশি টাকা বুস্টে দেওয়া। আমি ভাবছি প্রথমে ৫০-৭০ টাকা দিয়ে টেস্ট করবো। সবাই প্রথমে একটা ভুল করে প্রোডাক্টের দাম বেশি রাখে।  

আমার বন্ধুও একবার ৮০ টাকার হেডফোন ১২০০ টাকায় বেচতে চাইছিল, একটা অর্ডারও আসে নাই। আরেকটা ভুল হলো ফেক রিভিউ দেওয়া। আমি দেখছি কিছু পেজে ৫০টা রিভিউ, সব একই লেখা। কাস্টমার এখন চালাক, ধরে ফেলে। ১০ হাজার টাকা একবারে দিলে লস হলে মাথায় হাত।আর সবচেয়ে বড় ভুল হলো কাস্টমার মেসেজ দিলে সিন করে রেখে দেওয়া। আমি নিজেও একবার মেসেজ দিয়ে ২ দিন রিপ্লাই পাই নাই, তারপর ওই পেজ থেকে কিনি নাই।

আরো পড়ুন : জেলা ভূমি রেকর্ড খতিয়ান দেখার পদ্ধতি স্ক্রিনশট 

কাস্টমার কমপ্লেইন করলে রাগ না করে সমাধান দাও।যেমন মাল ভাঙলে নতুন টা পাঠায় দাও। ফ্রিতে অর্ডার আনতে ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দাও ও ১৫ সেকেন্ডের রিল বানাও।নতুনরা একসাথে অনেক প্রোডাক্ট এনো না। মেসেজ আসলে ১ঘন্টার ভিতর রিপ্লাই দাও।এই ৩টা ঠিক রাখলেই প্রথম মাসেই সেল আসবে।

ধর্মীয় দিকটা জানা জরুরি

আমি এটা নিয়ে একটু কনফিউজড ছিলাম, তাই ইউটিউবে ২-৩ জন হুজুরের লেকচার দেখেছি। ওরা বললো প্রোডাক্ট নিজের কাছে না থাকলেও সমস্যা নাই, যদি তুমি সাপ্লায়ারের কাছ থেকে ছবি আর ডিটেইলস নিয়ে কাস্টমারকে ঠিকমতো জানিয়ে দাও। মিথ্যা বলা যাবে না, মাল কেমন, কত দিনে আসবে সব ক্লিয়ার করে বলতে হবে।  আর সবচেয়ে বড় কথা হলো ধোঁকা দেওয়া যাবে না। যদি মালপত্র মাল দাও বা দেরি করো, তাহলে ব্যবসাতে বরকত থাকে না। 

আমি নিজে করছি শুরু করার আগে নিজের এলাকার এক হুজুরকে জিজ্ঞাসা করে নেবো, যাতে মন পরিষ্কার থাকে।আমার মনে হয়, বিজনেস শুধু টাকা কামানোর জন্য না, সৎ থাকাটাও দরকার। আমি যদি কাস্টমারের সাথে সৎ ব্যবহার করি, তাহলে ওরাও আমাকে বিশ্বাস করবে আর বারবার অর্ডার দেবে। এভাবে ছোট হলেও হাল রুজি হলে শান্তি লাগে।

এক মাসে ১০ হাজার আয়ের প্ল্যান

আমি প্রথমে ভাবছি ৩টা প্রোডাক্ট বাছবো যেগুলা মানুষের দরকার হয় আর দামও কম, ৫০ টাকার মতো রাখবো যাতে সবাই কিনতে পারে। তারপর ফেসবুকে অল্প টাকায় বুস্ট দেবো, হয়তো ৫০-১০ টাকা করে। এভাবে দেখবো কোন প্রোডাক্টে মেসেজ আর কমেন্ট বেশি আসে। যেটা বেশি চলবে, ওইটাতেই পরের সপ্তাহে একটু বেশি টাকা খরচ করবো, ১৫০-২০০ টাকার মতো, যাতে রিচ বাড়ে।  তৃতীয় সপ্তাহ থেকে যদি অর্ডার আসা শুরু করে, তাহলে আমি টার্গেট রাখবো দিনে ২-৩টা অর্ডার নেওয়ার। 

কাস্টমারকে ভালোভাবে রিপ্লাই দেবো, যাতে ওরা বিশ্বাস করে। চতুর্থ সপ্তাহে যদি প্রতিদিন ১টা করেও অর্ডার পাই, আর প্রতি অর্ডারে ৭০ টাকা লাভ থাকে, তাহলে ৩০ দিনে ২০-৩০টা অর্ডারে ১০ হাজার টাকার মতো লাভ হয়ে যাবে। আমি জানি এটা একদিনে হবে না, একটু সময় লাগবে। প্রথমে হয়তো সেল কম হবে, কিন্তু হাল ছেড়ে দিলে কিছুই হবে না। তাই আমি প্ল্যান করে ধৈর্য ধরে লেগে থাকবো। আর যদি এক প্রোডাক্ট না চলে, তাহলে অন্য প্রোডাক্ট ট্রাই করবো।

কখন নিজের স্টক রাখবে

আমি ভাবছি শুরুতে স্টক রাখবো না, কারণ টাকা নাই আর রিস্ক নিতে চাই না।  কিন্তু যদি দেখি প্রতিদিন ২০-৩০টা অর্ডার আসতেছে, তখন আমি লোকাল হোলসেল থেকে অল্প মাল এনে রাখবো।এতে ডেলিভারি ২ দিনের মধ্যে হয়ে যাবে, কাস্টমার খুশি হবে আর রিপিট অর্ডার দেবে।তখন আস্তে আস্তে ড্রপশিপিং ছেড়ে ছোট একটা দোকান বা ঘরের একটা অংশে স্টক রাখার প্ল্যান আছে।

আমার কাছে মনে হয় এটা হলো সেফ ওয়ে—প্রথমে টেস্ট করো, চললে পরে ইনভেস্ট করো।স্টক রাখলে পণ্য নষ্ট বা আটকে যাওয়ার রিস্ক থাকে। তাই আমি অল্প অল্প করে মাল আনবো, যেটা ১-২ সপ্তাহের মধ্যে বিক্রি হয়ে যাবে। এভাবে টাকা আটকাবে না আর নতুন প্রোডাক্ট ট্রাই করার সুযোগও থাকবে।এভাবেই আমাকে কাজ করলে উন্নতি করা সম্ভব।

সৎভাবে বিজনেস করো, মিথ্যা বলো না। আগে স্টক রেখো না, অর্ডার পেলে এনে ডেলিভারি দাও। যেটা চলে শুধু সেটাই স্টকে রাখো।  প্রতি অর্ডারে ৫০ টাকা লাভ রাখলে দিনে ৭টা অর্ডারেই ১০ হাজার হয়ে যাবে।তাই আমাদের ধর্য্য আর প্ররিশ্রম দিয়ে কাজ করতে হবে। আর নিজের প্রতি বিশ্বাস করাতে হবে যে আমি পারবো।

শেষ কথা

আমি এখানে যেসব পদ্ধতি লিখছি সেগুলো নিজে করে ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে প্রথম মাসেই কিছু না কিছু ফল পাওয়া যায়। আমার কোনো ভুল হলে মাফ করে দিবেন আর মুল্যবান কথা  সৎ ভাবে কাজ করবেন কাস্টারের সাথে ভালো ব্যবহার করবেন বাকিটা সময়ের সাথে ঠিক হয়ে যাবে। সফলতা একদিন আসবে ইনশাআল্লাহ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জুঁই ম্যাক্সনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url