উইন্ডোজ ১১ ইন্টল করার সহজ পদ্ধতি
উইন্ডোজ ১ হলো মাইক্রোসফটের নতুন ও আধুনিক অপারেটিং সিস্টেম। এর ডিজাইন সুন্দর, স্পিড বেশি এবং নিরাপত্তা আগের চেয়ে ভালো। অনেকেই মনে করে উইন্ডোজ ১ ইন্সটল করা কঠিন। কিন্তু
সঠিক ধাপ জানলে আপনি নিজেই সহজে ঘরে বসে ইন্সটল করতে পারবেন। এই গাইডে ধাপে ধাপে দেখানো হয়েছে কীভাবে উইন্ডোজ ১ ইন্সটল করতে হয়, কী প্রস্তুতি লাগে এবং সাধারণ সমস্যার সমাধান কী।
সূচিপত্র:উইন্ডোজ ১১ ইন্টল করার সহজ পদ্ধতি
- উইন্ডোজ ১ কী এবং কেন ইন্সটল করবে
- ইন্সটলের আগে যা লাগবে পিসি উইন্ডোজ ১ সাপোর্ট করে কিনা চেক করা
- মাইক্রোসফটের অফিসিয়াল সাইট থেকে ISO ফাইল ডাউনলোড
- বুটেবল USB বানোর নিয়ম
- BIOS/UEFI সেটিংস ঠিক করা
- USB থেকে বুট করে সেটআপ শুরু করা
- পার্টিশন তৈরি ও ফরম্যাট করা
- উইন্ডোজ ১ ইন্সটল প্রক্রিয়া
- ইন্সটলের পর প্রাথমিক সেটআপ
- ড্রাইভার আর আপডেট ইন্সটল করা
- কমন সমস্যা আর সমাধান
- শেষ কথা
উইন্ডোজ ১ কী এবং কেন ইন্সটল করবে
উইন্ডোজ ১ হলো মাইক্রোসফটের সবচেয়ে নতুন অপারেটিং সিস্টেম। ২০২১ সালে এটা রিলিজ হয় আর দেখতেই বোঝা যায় আগের ভার্সনের চেয়ে অনেক আধুনিক। স্টার্ট মেনু মাঝখানে চলে আসছে, আইকনগুলো গোলগোল করা। দেখতে একদম নতুন লাগে। অনেকেই বলে পুরনো উইন্ডোজ ১০ই ভালো ছিল। সেটা ঠিক আছে, কিন্তু উইন্ডোজ ১ তে সিকিউরিটি অনেক বাড়ানো হয়েছে। ভাইরাস, ম্যালওয়ার, হ্যাকিং থেকে বাঁচার জন্য TPM 2.0 আর সিকিউর বুট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে আপনার পিসি নিরাপদ থাকে।
গেমিং আর মাল্টিটাস্কিং এর জন্যও এটা অপ্টিমাইজ করা। DirectStorage আর Auto HDR এর মতো ফিচার আছে যেটা গেম লোডিং স্পিড বাড়ায়। অফিসের কাজ, ভিডিও এডিটিং, প্রোগ্রামিং সবকিছুতেই স্মুথ পারফরম্যান্স পাবেন। স্ন্যাপ লেআউট আর ভার্চুয়াল ডেস্কটপের ফিচারটা আমার কাছে সবচেয়ে কাজের লেগেছে। একসাথে ৩-৪টা কাজ করলে স্ক্রিন গোছানো থাকে। উইন্ডো ম্যানেজ করা অনেক সহজ হয়ে গেছে।
আরেকটা বড় কারণ হলো মাইক্রোসফট ধীরে ধীরে উইন্ডোজ ১০ এর সাপোর্ট বন্ধ করে দিচ্ছে। ২০২৫ সালের পর আর সিকিউরিটি আপডেট পাবে না। তখন আপনার পিসি রিস্কে পড়বে। তাই এখনই নতুন ভার্সনে চলে আসা বুদ্ধিমানের কাজ। তবে হ্যাঁ, সব পিসিতে উইন্ডোজ ১ চলবে না। হার্ডওয়্যার একটু নতুন হতে হয়। যদি আপনার পিসি সাপোর্ট করে তাহলে ইন্সটল করাই উচিত। পারফরম্যান্স আর লুক দুটোই ভালো পাবেন।
ইন্সটলের আগে যা লাগবে
সবার আগে আপনার একটা ৮ জিবির উপরের পেনড্রাইভ লাগবে। ৪ জিবি পেনড্রাইভে উইন্ডোজ ১ এর ফাইল ধরবে না। পেনড্রাইভটা একদম খালি রাখবেন কারণ বুটেবল বানোর সময় ফরম্যাট হয়ে যাবে। পুরনো ডেটা থাকলে আগেই সরিয়ে নেবেন। ইন্টারনেট কানেকশন থাকা জরুরি। ISO ফাইল ডাউনলোড করতে ৫.৫ জিবির মতো ডেটা লাগে। ওয়াইফাই থাকলে ভালো, নইলে মোবাইল ডেটা দিয়ে করলে অনেক টাকা খরচ হবে। ডাউনলোডের মাঝে নেট চলে গেলে আবার শুরু থেকে করতে হয়।
আপনার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, ছবি, ডকুমেন্ট সব অন্য ড্রাইভ বা এক্সটার্নাল হার্ডডিস্কে ব্যাকআপ রাখবেন। অনেকেই এই ভুলটা করে, পরে সব ডেটা হারায়। একটা কাজ করা পিসি লাগবে যেটাতে বুটেবল USB বানাবেন। নিজের পিসি যদি নষ্ট থাকে তাহলে বন্ধুর পিসি বা সাইবার ক্যাফে ব্যবহার করতে পারেন। এটা ১০-১৫ মিনিটের কাজ। পাওয়ার সাপ্লাই ঠিক রাখুন। ল্যাপটপ হলে চার্জে লাগিয়ে রাখবেন। ইন্সটলের মাঝে ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে উইন্ডোজ করাপ্ট হতে পারে। ডেস্কটপ হলে UPS ব্যবহার করুন। সবশেষে একটু ধৈর্য লাগবে। প্রথমবার করলে ১-২ ঘন্টা লাগতে পারে। তাড়াহুড়া করলে ভুল হওয়ার চান্স থাকে। একবার শিখে গেলে পরেরবার ৩০ মিনিটেই শেষ করতে পারবেন।
পিসি উইন্ডোজ ১ সাপোর্ট করে কিনা চেক করা
উইন্ডোজ ১ সব পিসিতে চলে না। মাইক্রোসফটের কিছু হার্ডওয়্যার শর্ত আছে। সবচেয়ে বড় শর্ত হলো TPM 2.0 আর সিকিউর বুট। এগুলো না থাকলে ইন্সটল হবে না। পুরনো পিসিতে এটা বড় সমস্যা। চেক করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো PC Health Check অ্যাপ। মাইক্রোসফটের সাইট থেকে ফ্রিতে ডাউনলোড করা যায়। ইন্সটল করে এক ক্লিকে চেক করতে পারবেন আপনার পিসি কমপ্যাটিবল কিনা। যদি না বলে তাহলে কারণটাও দেখিয়ে দেয়। আরেকটা উপায় হলো রান বক্স খুলে http://tpm.msc লিখুন। TPM ম্যানেজমেন্ট উইন্ডো আসলে দেখুন ভার্সন 2.0 লেখা আছে কিনা। না থাকলে BIOS থেকে এনাবল করতে হয়। অনেক নতুন মাদারবোর্ডে ডিফল্ট অফ থাকে।
প্রসেসরও একটু নতুন হতে হয়। ৮ম জেনারেশনের ইন্টেল বা রাইজেন 2000 সিরিজের পরের প্রসেসর লাগে। পুরনো পিসি হলে হয়তো চলবে না। CPU-Z সফটওয়্যার দিয়ে চেক করে নিতে পারেন। RAM কমপক্ষে 4GB লাগবে, তবে 8GB হলে ভালো চলে। স্টোরেজ 64GB ফাঁকা থাকতে হবে। SSD হলে স্পিড অনেক বেড়ে যায়। HDD তে ইন্সটল করলেও চলবে, কিন্তু স্লো হবে। যদি আপনার পিসি সাপোর্ট না করে তাহলেও কিছু ট্রিক আছে। কিন্তু নতুন ইউজারের জন্য অফিসিয়াল নিয়ম ফলো করাই সেফ। নইলে পরে আপডেট নিয়ে সমস্যা হয়।
আরো পড়ুন :ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট খোলার উপায়
মাইক্রোসফটের অফিসিয়াল সাইট থেকে ISO ফাইল ডাউনলোড
ISO ফাইল মানে হলো উইন্ডোজ ১ এর পুরো সেটআপ ফাইল। এটা সবসময় মাইক্রোসফটের অফিসিয়াল সাইট থেকে ডাউনলোড করবেন। অন্য সাইট থেকে নিলে ভাইরাস, ম্যালওয়ার থাকতে পারে। ক্র্যাক ভার্সন ব্যবহার করাও রিস্ক। গুগলে লিখবেন "Windows 11 ISO download Microsoft"। প্রথম লিংকটাই অফিসিয়াল। সেখানে গিয়ে ভাষা আর এডিশন সিলেক্ট করবেন। সাধারণত Windows 11 Pro/Home দুটোই থাকে। Home Single Language নিলে হালকা হয়। ৬৪ বিট ভার্সনই ডাউনলোড করবেন। ৩২ বিট এখন আর নেই। ফাইল সাইজ প্রায় ৫.৫ জিবি, তাই ডাউনলোড হতে ২০-৩০ মিনিট লাগতে পারে। ইন্টারনেট স্লো হলে রাতে ডাউনলোড দিয়ে রাখুন।
ডাউনলোড শেষ হলে ফাইলটা কোথায় সেভ হলো মনে রাখবেন। পরে বুটেবল USB বানাতে লাগবে। নামটা Windows 11 ISO রাখলে খুঁজে পেতে সুবিধা হয়। ডাউনলোড ফোল্ডারে রাখলেও চলবে। ইন্টারনেট স্লো হলে মাইক্রোসফটের Media Creation Tool ব্যবহার করতে পারেন। এটা নিজেই USB বুটেবল বানিয়ে দেয়। তবে ISO ম্যানুয়ালি রাখলে পরে অন্য পিসিতেও কাজে লাগানো যায়। ডাউনলোডের সময় পিসি বন্ধ করবেন না। একবার ক্যান্সেল হলে আবার শুরু থেকে ডাউনলোড করতে হয়। ডাউনলোড ম্যানেজার ব্যবহার করলে সুবিধা হয়।
বুটেবল USB বানোর নিয়ম
ISO ফাইল পাওয়ার পর সেটাকে USB তে বুটেবল করতে হয়। সবচেয়ে সহজ সফটওয়্যার হলো Rufus। এটা ফ্রি, হালকা আর পোর্টেবল। গুগলে Rufus লিখে অফিসিয়াল সাইট থেকে ডাউনলোড করে নিন। Rufus ওপেন করে পেনড্রাইভটা সিলেক্ট করুন। তারপর ISO ফাইলটা ব্রাউজ করে সিলেক্ট করুন। পার্টিশন স্কিম GPT রাখবেন যদি আপনার পিসি নতুন হয়। পুরনো পিসি হলে MBR রাখতে হয়। File System NTFS রাখবেন। Cluster Size ডিফল্ট রাখলেই চলবে। Start বাটনে ক্লিক করলে ওয়ার্নিং আসবে যে সব ডেটা ডিলিট হবে। OK দিয়ে দিন। ১০-১৫ মিনিটে বুটেবল USB রেডি হয়ে যাবে।
বানানো শেষ হলে পেনড্রাইভ খুলে আবার লাগান। ভিতরে কিছু ফাইল দেখতে পাবেন। http://setup.exe, sources ফোল্ডার থাকলে বুঝবেন ঠিকমতো হয়েছে। যদি ফাইল না দেখেন তাহলে আবার বানাতে হবে। কেউ কেউ Media Creation Tool ব্যবহার করে। ওটাও ভালো, কিন্তু ISO আগে ডাউনলোড করে রাখলে পরে কাজে লাগে। Rufus এ Windows To Go অপশনও আছে। USB বের করার সময় Safely Remove করবেন। নইলে ফাইল করাপ্ট হতে পারে। বুটেবল USB একবার বানালে ২-৩ বার ব্যবহার করা যায়।
BIOS/UEFI সেটিংস ঠিক করা
এখন পিসি রিস্টার্ট দিয়ে USB থেকে বুট করতে হবে। কিন্তু তার আগে BIOS এ গিয়ে কিছু সেটিংস ঠিক করতে হয়। পিসি অন করার সময় Del, F2, F12, ESC চাপতে হয়। মাদারবোর্ড ভেদে কী আলাদা হয়। BIOS এ গিয়ে Secure Boot এনাবল করুন। এটা Security বা Boot ট্যাবে থাকে। Secure Boot অন না থাকলে উইন্ডোজ ১ ইন্সটল হবে না। কিছু মাদারবোর্ডে এটা ডিফল্ট অফ থাকে। TPM 2.0 ও এনাবল করে দিন। Intel হলে PTT নামে থাকে, AMD হলে fTPM নামে থাকে। Advanced > CPU Configuration এ গেলে পাবেন। এনাবল করে সেভ করুন।
Boot মেনুতে গিয়ে USB কে প্রথমে রাখুন। Save and Exit দিলে পিসি রিস্টার্ট হবে আর USB থেকে বুট শুরু হবে। যদি USB না দেখায় তাহলে CSM বা Legacy Boot অফ করে দিন। কোনো অপশন না পেলে মাদারবোর্ডের মডেল লিখে গুগলে সার্চ দিন। "How to enable TPM in ASUS B450" টাইপ করলে ইউটিউবে ভিডিও পেয়ে যাবেন। ভিডিও দেখে করলে ভুল হবে না। এই স্টেপটা একবার ঠিক করলে পরে আর লাগে না। ভয় পাবেন না, সেভ না করলে কোনো ক্ষতি হবে না। ভুল করলে BIOS রিসেট দিলেই ঠিক হয়ে যাবে।
আরো পড়ুন :সৌদি আরবে বাংলাদেশি ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি
USB থেকে বুট করে সেটআপ শুরু করা
BIOS সেভ করে বের হলে পিসি রিস্টার্ট হবে। স্ক্রিনে "Press any key to boot from USB" লেখা আসবে। তখন যেকোনো বাটন চাপুন। না চাপলে আবার পুরনো উইন্ডোজ বুট হবে। উইন্ডোজের নীল লোগো আসবে। ভাষা, টাইম, কীবোর্ড সিলেক্ট করে Next দিন। এখানে English US রাখাই ভালো। পরে চেঞ্জ করা যায়। Install Now তে ক্লিক করুন। প্রোডাক্ট কি চাইলে Skip করুন। পরে উইন্ডোজ এক্টিভেট করা যাবে। কোন ভার্সন ইন্সটল করবেন সেটা সিলেক্ট করুন। Home বা Pro যেটার লাইসেন্স আছে সেটা নিন। Pro তে একটু বেশি ফিচার থাকে।
Accept লাইসেন্স টার্মস টিক দিয়ে Next দিন। Custom Install সিলেক্ট করুন। Upgrade দিলে পুরনো ফাইল থেকে যায়, কিন্তু ক্লিন ইন্সটল ভালো। ক্লিন ইন্সটলে পিসি ফাস্ট থাকে। এখান থেকে আসল কাজ শুরু। ভুল করলে ডেটা যেতে পারে, তাই সাবধানে করুন। ভুল ড্রাইভ সিলেক্ট করলে সব ফাইল মুছে যাবে। দুবার চেক করে নিন। স্ক্রিনের নির্দেশনা ফলো করলেই হবে। কঠিন কিছু না। যারা প্রথমবার করবেন তারা ইউটিউবে ভিডিও দেখে পাশাপাশি মিলিয়ে করুন।
পার্টিশন তৈরি ও ফরম্যাট করা
এখন ড্রাইভ লিস্ট আসবে। যেখানে উইন্ডোজ ইন্সটল করবেন সেই ড্রাইভ সিলেক্ট করুন। সাধারণত C ড্রাইভ। ড্রাইভের সাইজ দেখে বুঝবেন কোনটা C ড্রাইভ। যদি পুরনো উইন্ডোজ থাকে তাহলে ড্রাইভটা ডিলিট করে দিন। Delete ক্লিক করলে Unallocated Space হবে। তারপর New ক্লিক করে সাইজ দিন। ১০ জিবি দিলে ভালো চলে। System Reserved আর MSR নামের ছোট পার্টিশন অটো তৈরি হবে।
এগুলোতে হাত দেবেন না। এগুলো বুটের জন্য দরকার। শুধু বড় পার্টিশনটা সিলেক্ট করুন। যে পার্টিশনে ইন্সটল করবেন সেটা সিলেক্ট করে Format দিন। এতে আগের সব ডেটা মুছে যাবে। তাই ব্যাকআপ জরুরি ছিল। ফরম্যাট না করলে পুরনো ফাইল মিক্স হয়ে যায়। ফরম্যাট শেষ হলে Next দিন। উইন্ডোজ ফাইল কপি হওয়া শুরু হবে। এটা ১৫-২০ মিনিট লাগে। এই সময় পিসি কয়েকবার রিস্টার্ট নেবে।
উইন্ডোজ ১ ইন্সটল প্রক্রিয়া
ফাইল কপি শেষ হলে পিসি রিস্টার্ট নেবে। এবার USB খুলে ফেলুন। নইলে আবার সেটআপ শুরু হবে। স্ক্রিনে Windows logo আসবে। স্ক্রিনে "Getting things ready" লেখা আসবে। এটা সেটআপের ফাইনাল স্টেজ। এখানে ধৈর্য ধরতে হবে। পিসি স্লো হলে ২০ মিনিটও লাগতে পারে। কান্ট্রি, কীবোর্ড লেআউট সিলেক্ট করুন। Bangladesh আর US Keyboard সিলেক্ট করলেই হবে। ইন্টারনেট কানেক্ট করুন যদি ওয়াইফাই থাকে। না থাকলে Skip করুন।
মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট লগইন করতে বলবে। চাইলে অফলাইন অ্যাকাউন্ট বানাতে পারেন। Shift + F10 চেপে কমান্ড প্রম্পট খুলে oobe\bypassnro লিখলে অফলাইন অপশন আসে। প্রাইভেসি সেটিংসে সব অফ রাখলে ভালো। লোকেশন, ডায়াগনস্টিক ডেটা বন্ধ রাখুন। পরে সেটিংস থেকে চেঞ্জ করা যায়। শেষে ডেস্কটপ আসবে। মানে ইন্সটল সফল হয়েছে। এখন পিসি ব্যবহারের জন্য রেডি।
আরো পড়ুন :ইসলামী ব্যাংকে অনলাইনে একাউন্ট খোলার সহজ উপায়
ইন্সটলের পর প্রাথমিক সেটআপ
উইন্ডোজ ওপেন হওয়ার পর প্রথমে ডিসপ্লে রেজুলেশন ঠিক করুন। Settings > System > Display থেকে রেজুলেশন বাড়ান। মনিটরের নেটিভ রেজুলেশন সিলেক্ট করুন। থিম আর ওয়ালপেপার চেঞ্জ করতে পারেন। Personalization অপশনে সব আছে। ডার্ক মোড দিলে চোখ আরাম পায়। রাতে কাজ করলে ডার্ক মোড বেস্ট। OneDrive অফ করে দিন যদি ব্যবহার না করেন। এটা ব্যাকগ্রাউন্ডে চলে র্যাম খায়। Settings > Apps > Startup থেকে অফ করে দিন।
Windows Update চেক করুন। Settings > Windows Update থেকে আপডেট দিন। নতুন আপডেটে বাগ ফিক্স থাকে। আপডেটের পর পিসি একবার রিস্টার্ট দিন। ডিফল্ট অ্যাপ সেট করুন। ব্রাউজার, মিউজিক প্লেয়ার, ভিডিও প্লেয়ার নিজের পছন্দমতো রাখুন। Chrome, VLC ইন্সটল করে নিন। এই স্টেপগুলো করলে পিসি ব্যবহারের জন্য রেডি হয়ে যাবে। এখন সফটওয়্যার ইন্সটল করা শুরু করতে পারেন।
ড্রাইভার আর আপডেট ইন্সটল করা
উইন্ডোজ ১ বেশিরভাগ ড্রাইভার অটো ইন্সটল করে। কিন্তু গ্রাফিক্স আর অডিও ড্রাইভার ম্যানুয়ালি দিলে ভালো চলে। অটো ড্রাইভারে গেমিং এ ল্যাগ হতে পারে। ল্যাপটপ হলে ব্র্যান্ডের সাইটে গিয়ে মডেল নাম্বার দিয়ে ড্রাইভার ডাউনলোড করুন। Dell, HP, Lenovo এর সাইটে সাপোর্ট সেকশনে পাবেন। ডেস্কটপ হলে মাদারবোর্ড আর গ্রাফিক্স কার্ডের সাইটে যান। Device Manager খুলে দেখুন কোনো হলুদ চিহ্ন আছে কিনা। থাকলে সেটার ড্রাইভার মিসিং। রাইট ক্লিক করে Update Driver দিলে অটো সার্চ করে।
Chipset, LAN, WiFi ড্রাইভার আগে দিন। নইলে ইন্টারনেট চলবে না। তারপর গ্রাফিক্স, অডিও, ব্লুটুথ ড্রাইভার দিন। অর্ডার ঠিক রাখা জরুরি। ড্রাইভার ইন্সটলের পর পিসি একবার রিস্টার্ট দিন। পারফরম্যান্স বাড়বে। গেম খেললে FPS বেড়ে যাবে। Driver Booster এর মতো থার্ড পার্টি সফটওয়্যার ব্যবহার না করাই ভালো। অফিসিয়াল সাইটের ড্রাইভার সবচেয়ে স্টেবল।
কমন সমস্যা আর সমাধান
অনেক সময় "This PC can’t run Windows 11" এরর আসে। এর মানে TPM বা Secure Boot অফ আছে। BIOS এ গিয়ে এনাবল করুন। এনাবল করার পর আবার চেক করুন। ইন্সটলের সময় 0x80070005 এরর আসলে পার্টিশন ফরম্যাট করুন। পুরনো ফাইল থাকলে এমন হয়। পুরো ড্রাইভ ডিলিট করে নতুন পার্টিশন বান। ইন্টারনেট না চললে WiFi ড্রাইভার ম্যানুয়ালি ইন্সটল করুন। মোবাইল দিয়ে ডাউনলোড করে USB তে নিয়ে আসুন। ড্রাইভার ইন্সটল করলেই ওয়াইফাই চলে আসবে।
স্ক্রিন কালো হয়ে থাকলে গ্রাফিক্স ড্রাইভার সমস্যা। Safe Mode এ ঢুকে ড্রাইভার রিমুভ করুন। তারপর অফিসিয়াল ড্রাইভার ইন্সটল করুন। স্লো চললে Startup App বন্ধ করুন। Task Manager > Startup থেকে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ডিসেবল করুন। অ্যান্টিভাইরাসও একটা ব্যবহার করুন, দুইটা না। সব সমাধান না হলে ইউটিউবে এরর কোড লিখে সার্চ দিন। "Windows 11 0x80070005 fix" লিখলে অনেক ভিডিও পাবেন। ভিডিও দেখে স্টেপ ফলো করলেই ঠিক হয়ে যাবে।
আরো পড়ুন :ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডলার রিসিভ করার একাউন্ট খোলার পদ্ধতি
শেষ কথা
উইন্ডোজ ১ ইন্সটল করা প্রথমে শুনলে অনেকের কাছেই জটিল মনে হয়। BIOS সেটিংস, বুটেবল USB, পার্টিশন—এসব শব্দ শুনে ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সঠিক ধাপগুলো জানা থাকলে কাজটা আসলে অনেক সহজ। একটু ধৈর্য ধরে ধাপে ধাপে করলে আপনি নিজেই সফলভাবে ইন্সটল করতে পারবেন। নিজে ইন্সটল করার সবচেয়ে বড় লাভ হলো শেখা। দোকানে দিলে কাজ হয়ে যায় ঠিকই, কিন্তু আপনি কিছু শেখেন না।
আর নিজে করলে ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হলে নিজেই ঠিক করতে পারবেন। পাশাপাশি অযথা টাকাও খরচ হবে না।তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন, ইন্সটলের আগে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো ব্যাকআপ করে নেবেন। ভুল করে ফরম্যাট করলে ডেটা ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। এই গাইডের ধাপগুলো মনোযোগ দিয়ে ফলো করুন, আশা করি কোনো ঝামেলা ছাড়াই উইন্ডোজ ১১ সেটআপ করতে পারবেন।
জুঁই ম্যাক্সনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url