মাইগ্রেনের ব্যথায় মাথার কোন পাশ
মাইগ্রেন একটি সাধারণ কিন্তু কষ্টদায়ক স্নায়ুবিষয়ক সমস্যা। অনেকেই জানতে চান মাইগ্রেনের ব্যথা মাথার কোন পাশে হয় এবং কেন হয়। কারও ক্ষেত্রে ডান পাশে আবার কারও ক্ষেত্রে বাম পাশে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এই নিবন্ধে মাইগ্রেনের ব্যথার অবস্থান।
কারণ লক্ষণ চিকিৎসা এবং প্রতিরোধের কার্যকর উপায় সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। সঠিক তথ্য জানলে মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রয়োজনীয় সময়ে চিকিৎসা নেওয়া সহজ হয়।
সূচিপত্র:মাইগ্রেনের ব্যথায় মাথার কোন পাশ
- মাইগ্রেনের ব্যথায় মাথার কোন পাশ
- মাইগ্রেনের ব্যথায় মাথার কোন পাশে বেশি ব্যথা হয়?
- মাইগ্রেনের ব্যথা কেন সাধারণত এক পাশে অনুভূত হয়?
- ডান পাশে মাইগ্রেনের ব্যথা হলে কী বোঝায়?
- বাম পাশে মাইগ্রেনের ব্যথা হলে কী বোঝায়?
- মাইগ্রেনের ব্যথা কি দুই পাশেও হতে পারে?
- মাইগ্রেনের সাধারণ লক্ষণ ও সতর্ক সংকেত
- কোন কারণগুলো মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়িয়ে দেয়?
- মাইগ্রেনের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া ও চিকিৎসাবিষয়ক উপায়
- কখন মাইগ্রেনের জন্য দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?
- মাইগ্রেন প্রতিরোধে দৈনন্দিন জীবনযাপনে কী পরিবর্তন আনবেন?
- মাইগ্রেন সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা ও বাস্তব তথ্য
- উপসংহার
মাইগ্রেনের ব্যথায় মাথার কোন পাশ?
মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত মাথার এক পাশেই বেশি অনুভূত হয়। কারও ক্ষেত্রে ডান পাশে ব্যথা শুরু হয়। আবার কারও ক্ষেত্রে বাম পাশে ব্যথা দেখা দেয়। তবে এটি সব মানুষের ক্ষেত্রে একই রকম হয় না। অনেক সময় একবার ডান পাশে ব্যথা হলেও পরবর্তী আক্রমণে বাম পাশে ব্যথা হতে পারে। আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মাথার দুই পাশেও ব্যথা অনুভূত হয়। তাই শুধু ব্যথার অবস্থান দেখে মাইগ্রেন নির্ণয় করা সম্ভব নয়।
মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণ মাথাব্যথার তুলনায় অনেক বেশি তীব্র এবং ধুকপুক ধরনের হয়ে থাকে। ব্যথার সময় হাঁটাচলা। সিঁড়ি ওঠানামা। বা সামান্য শারীরিক পরিশ্রম করলেও অস্বস্তি বেড়ে যেতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে ব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব। বমি। চোখে ঝাপসা দেখা। আলো সহ্য করতে না পারা। তীব্র শব্দে বিরক্তি। এবং তীব্র গন্ধে অস্বস্তির মতো লক্ষণও দেখা দেয়। কিছু রোগী ব্যথা শুরু হওয়ার আগে চোখের সামনে আলোর ঝলকানি বা জিগজ্যাগ রেখা দেখতে পারেন। একে মাইগ্রেন অরা বলা হয়।
মাইগ্রেনের ব্যথা কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে টানা ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব। অতিরিক্ত মানসিক চাপ। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা। পানিশূন্যতা। হরমোনের পরিবর্তন। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার। অথবা কিছু নির্দিষ্ট খাবার অনেকের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের আক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই নিজের ট্রিগারগুলো শনাক্ত করা এবং সেগুলো এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
যদি মাথার এক পাশে বারবার তীব্র ব্যথা হয়। ব্যথার সঙ্গে বমি। দৃষ্টির সমস্যা। কথা বলতে অসুবিধা। হাত বা পা দুর্বল হয়ে যাওয়া। অথবা অন্য কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দেয়। তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক রোগ নির্ণয়। নিয়মিত জীবনযাপন। পর্যাপ্ত ঘুম। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
মাইগ্রেনের ব্যথায় মাথার কোন পাশে বেশি ব্যথা হয়?
মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত মাথার এক পাশেই বেশি অনুভূত হয়। অনেকের ক্ষেত্রে এটি ডান পাশে শুরু হয়। আবার অনেকের ক্ষেত্রে বাম পাশে ব্যথা দেখা দেয়। তবে মাইগ্রেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ব্যথার অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে। অর্থাৎ একবার ডান পাশে ব্যথা হলেও পরবর্তী আক্রমণে বাম পাশে ব্যথা হতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মাথার দুই পাশেও মাইগ্রেনের ব্যথা অনুভূত হয়। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যথা চলতে থাকলে বা তীব্রতা বেড়ে গেলে ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে।
মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণ মাথাব্যথার মতো নয়। এটি সাধারণত ধুকপুক ধরনের হয় এবং শারীরিক পরিশ্রম। হাঁটাচলা। সিঁড়ি ওঠানামা। বা মাথা নাড়ালে ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে। অনেক সময় ব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব। বমি। আলো সহ্য করতে না পারা। তীব্র শব্দে অস্বস্তি। এবং গন্ধে বিরক্তির মতো লক্ষণও দেখা দেয়। তাই মাথার এক পাশে বারবার একই ধরনের ব্যথা হলে সেটিকে সাধারণ মাথাব্যথা ভেবে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মাইগ্রেনের ব্যথা কেন সাধারণত এক পাশে অনুভূত হয়?
মাইগ্রেনের সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে গবেষণায় দেখা গেছে। মস্তিষ্কের স্নায়ু। রক্তনালি। এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পরিবর্তনের কারণে এই ব্যথা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু সক্রিয় হয়ে গেলে এবং প্রদাহজনিত কিছু রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হলে মাথার নির্দিষ্ট এক পাশে ব্যথা শুরু হতে পারে। এই কারণেই বেশিরভাগ মানুষ এক পাশের মাথাব্যথা অনুভব করেন।
আরো পড়ুন :কিডনির পাথর গলানোর ডাবের পানি
তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নয়। কারণ প্রত্যেক মানুষের শরীর এবং স্নায়ুতন্ত্রের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন। তাই কারও সব সময় একই পাশে ব্যথা হয়। আবার কারও ক্ষেত্রে ব্যথার পাশ পরিবর্তন হয়। এমনকি অনেকের দুই পাশেও ব্যথা হতে পারে। তাই শুধু এক পাশে ব্যথা হচ্ছে বলেই সেটি মাইগ্রেন। অথবা দুই পাশে ব্যথা হচ্ছে বলে মাইগ্রেন নয়। এমন ধারণা সঠিক নয়। চিকিৎসকরা রোগীর লক্ষণ। ব্যথার ধরন। স্থায়িত্ব। এবং অন্যান্য উপসর্গ বিবেচনা করেই মাইগ্রেন নির্ণয় করেন।
ডান পাশে মাইগ্রেনের ব্যথা হলে কী বোঝায়?
ডান পাশে মাইগ্রেনের ব্যথা হওয়া একটি সাধারণ বিষয় এবং এটি অনেক মাইগ্রেন রোগীর ক্ষেত্রেই দেখা যায়। এর অর্থ এই নয় যে ডান পাশের মস্তিষ্কে কোনো বড় সমস্যা হয়েছে। বরং এটি মাইগ্রেনের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের অংশ হতে পারে। অনেক মানুষের ক্ষেত্রে প্রতিবারই ডান পাশে ব্যথা হয়। আবার কারও ক্ষেত্রে কখনো ডান পাশে। কখনো বাম পাশে ব্যথা অনুভূত হয়।ডান পাশের মাইগ্রেনের ব্যথার সঙ্গে প্রায়ই ধুকপুক অনুভূতি। বমি বমি ভাব। আলো ও শব্দে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা।
চোখে ঝাপসা দেখা। অথবা মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধার মতো লক্ষণ থাকতে পারে। ব্যথা কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। যদি ডান পাশের মাথাব্যথা হঠাৎ খুব তীব্র হয়। জ্বর। ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া। কথা বলতে সমস্যা। হাত বা পা অবশ হয়ে যাওয়া। অথবা দৃষ্টিশক্তির গুরুতর পরিবর্তনের মতো লক্ষণ দেখা দেয়। তাহলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। কারণ এমন ক্ষেত্রে অন্য কোনো গুরুতর রোগের সম্ভাবনাও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
বাম পাশে মাইগ্রেনের ব্যথা হলে কী বোঝায়?
মাথার বাম পাশে মাইগ্রেনের ব্যথা হওয়াও খুবই সাধারণ একটি বিষয়। অনেক মানুষের ক্ষেত্রে প্রতিবারই বাম পাশে ব্যথা শুরু হয়। আবার কারও ক্ষেত্রে কখনো বাম পাশে। কখনো ডান পাশে ব্যথা অনুভূত হয়। তাই শুধু বাম পাশে ব্যথা হচ্ছে বলেই এটি কোনো নির্দিষ্ট রোগের লক্ষণ। এমনটি ভাবার কারণ নেই। মাইগ্রেনের ব্যথা ব্যক্তি ভেদে ভিন্নভাবে প্রকাশ পায় এবং এর অবস্থানও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
বাম পাশের মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত ধুকপুক ধরনের হয় এবং ধীরে ধীরে তীব্র হতে পারে। ব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব। বমি। আলো বা তীব্র শব্দে অস্বস্তি। চোখে ঝাপসা দেখা। মনোযোগ কমে যাওয়া। অথবা অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে ব্যথা শুরু হওয়ার আগে চোখের সামনে আলোর ঝলকানি। জিগজ্যাগ রেখা। অথবা দৃষ্টির সাময়িক পরিবর্তন দেখা যায়। যাকে মাইগ্রেন অরা বলা হয়।
তবে যদি হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা অনুভূত হয়। ব্যথার সঙ্গে জ্বর। ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া। কথা বলতে সমস্যা। হাত বা পা দুর্বল হয়ে যাওয়া। অথবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। কারণ এসব ক্ষেত্রে অন্য কোনো গুরুতর সমস্যাও থাকতে পারে।
মাইগ্রেনের ব্যথা কি দুই পাশেও হতে পারে?
অনেকেই মনে করেন মাইগ্রেনের ব্যথা সব সময় শুধু এক পাশেই হয়। কিন্তু এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। যদিও বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে ব্যথা এক পাশে শুরু হয়। তবুও অনেক রোগীর মাথার দুই পাশেই মাইগ্রেনের ব্যথা অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যথা চললে। তীব্রতা বেড়ে গেলে। অথবা নির্দিষ্ট কিছু ট্রিগারের কারণে ব্যথা পুরো মাথায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।
শিশু এবং কিশোরদের ক্ষেত্রে অনেক সময় মাইগ্রেনের ব্যথা দুই পাশেই বেশি দেখা যায়। আবার প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও দুই পাশের ব্যথা মাইগ্রেনের অংশ হতে পারে। তাই দুই পাশে ব্যথা মানেই এটি মাইগ্রেন নয়। অথবা এক পাশে ব্যথা মানেই নিশ্চিতভাবে মাইগ্রেন। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য ব্যথার ধরন। স্থায়িত্ব। অন্যান্য উপসর্গ। এবং রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস একসঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
মাইগ্রেনের সাধারণ লক্ষণ ও সতর্ক সংকেত
মাইগ্রেন শুধু মাথাব্যথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে আরও অনেক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ধুকপুক ধরনের মাথাব্যথা। বমি বমি ভাব। বমি। আলো সহ্য করতে না পারা। শব্দে বিরক্তি। তীব্র গন্ধে অস্বস্তি। অতিরিক্ত ক্লান্তি। এবং মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা। অনেকের ক্ষেত্রে ব্যথা শুরু হওয়ার আগে চোখের সামনে আলোর ঝলকানি। কালো দাগ। অথবা জিগজ্যাগ রেখা দেখা যায়। যাকে অরা বলা হয়।
মাইগ্রেনের আক্রমণ কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব। মানসিক চাপ। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা। পানিশূন্যতা। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার। হরমোনের পরিবর্তন। এবং কিছু নির্দিষ্ট খাবার অনেকের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের আক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
আরো পড়ুন :ভিটামিন বি১২ এর অভাবে মাথা ঘোরা
তবে কিছু সতর্ক সংকেত কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। যেমন হঠাৎ অত্যন্ত তীব্র মাথাব্যথা শুরু হওয়া। জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা। ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া। কথা বলতে অসুবিধা। হাত বা পা অবশ হয়ে যাওয়া। দৃষ্টিশক্তি হঠাৎ কমে যাওয়া। অথবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বা জরুরি চিকিৎসা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোন কারণগুলো মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়িয়ে দেয়?
মাইগ্রেনের নির্দিষ্ট একটি কারণ নেই। তবে কিছু বিষয় অনেক মানুষের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের আক্রমণ শুরু করতে বা ব্যথার তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে। এগুলোকে ট্রিগার বলা হয়। সবচেয়ে সাধারণ ট্রিগারের মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া। অতিরিক্ত মানসিক চাপ। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা। পানিশূন্যতা। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার। তীব্র রোদ। ঝলমলে আলো। উচ্চ শব্দ। এবং তীব্র সুগন্ধি বা রাসায়নিক গন্ধ। অনেক নারীর ক্ষেত্রে মাসিকের আগে বা সময়ে হরমোনের পরিবর্তনের কারণেও মাইগ্রেনের ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।
কিছু খাবারও নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে। যেমন অতিরিক্ত ক্যাফেইন। চকলেট। প্রক্রিয়াজাত খাবার। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার। অথবা দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা। তবে সব মানুষের ক্ষেত্রে একই খাবার সমস্যা তৈরি করে না। তাই কোন কারণে আপনার মাইগ্রেন বাড়ছে তা খেয়াল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই একটি মাইগ্রেন ডায়েরি রাখেন। যেখানে ব্যথা শুরু হওয়ার সময়। খাওয়া খাবার। ঘুমের সময়। এবং মানসিক অবস্থার তথ্য লিখে রাখেন। এতে নিজের ট্রিগার শনাক্ত করা সহজ হয় এবং ভবিষ্যতে সেগুলো এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়।
মাইগ্রেনের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া ও চিকিৎসাবিষয়ক উপায়
মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হলে শান্ত। অন্ধকার। এবং নিরিবিলি ঘরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া অনেকের জন্য উপকারী হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করা। সময়মতো খাবার খাওয়া। পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা। এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার এড়িয়ে চলাও ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে কপাল বা ঘাড়ে ঠান্ডা সেঁক দিলে কিছুটা আরাম পাওয়া যায়। তবে এগুলো সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। সবার ক্ষেত্রে একইভাবে কাজ নাও করতে পারে।
যদি ব্যথা বারবার হয় বা খুব তীব্র হয়। তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা উচিত। কিছু ওষুধ মাইগ্রেনের আক্রমণের সময় ব্যথা কমাতে ব্যবহৃত হয়। আবার কিছু ওষুধ নিয়মিত ব্যবহার করা হয় যাতে ভবিষ্যতে আক্রমণের সংখ্যা কমে। নিজের ইচ্ছামতো ব্যথার ওষুধ বারবার খাওয়া উচিত নয়। কারণ অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারে উল্টো দীর্ঘমেয়াদি মাথাব্যথার সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
কখন মাইগ্রেনের জন্য দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?
মাইগ্রেন সাধারণত প্রাণঘাতী নয়। তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যদি জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা হঠাৎ শুরু হয়। মাথাব্যথার সঙ্গে জ্বর। ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া। কথা বলতে সমস্যা। হাত বা পা দুর্বল হয়ে যাওয়া। দৃষ্টিশক্তি হঠাৎ কমে যাওয়া। বিভ্রান্তি। অথবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। তাহলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত। কারণ এসব লক্ষণ অন্য গুরুতর রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে।
এছাড়াও যদি আগে কখনো মাইগ্রেন না থাকলেও হঠাৎ বারবার তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয়। ব্যথার ধরন আগের তুলনায় সম্পূর্ণ বদলে যায়। ওষুধ খেয়েও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে না আসে। অথবা মাসে অনেকবার মাইগ্রেনের আক্রমণ হয়। তাহলে অবশ্যই একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু করলে মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয় এবং দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমও বজায় রাখা সম্ভব।
মাইগ্রেন প্রতিরোধে দৈনন্দিন জীবনযাপনে কী পরিবর্তন আনবেন?
মাইগ্রেন পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সব সময় সম্ভব না হলেও কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনুসরণ করলে এর আক্রমণের সংখ্যা এবং তীব্রতা অনেকটাই কমানো যায়। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘ সময় খালি পেটে না থেকে নির্দিষ্ট সময়ে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া। পর্যাপ্ত পানি পান করা। এবং নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করার অভ্যাসও উপকারী হতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমানোর জন্য ধ্যান। শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম। অথবা নিজের পছন্দের কোনো কাজে সময় দেওয়া ভালো অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হয়।
আরো পড়ুন :ব্রণের দাগ ৭ দিনে হালকা করার উপায়
এছাড়া দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন। কম্পিউটার। অথবা টেলিভিশনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা কমানো উচিত। তীব্র আলো। অতিরিক্ত শব্দ। ধূমপানের ধোঁয়া। এবং যেসব বিষয় আপনার ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের ট্রিগার হিসেবে কাজ করে সেগুলো যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। যদি চিকিৎসক প্রতিরোধমূলক ওষুধ দিয়ে থাকেন। তাহলে নিয়মিত সেই ওষুধ সেবন করুন এবং নিজে থেকে বন্ধ করবেন না। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে অধিকাংশ মানুষের মাইগ্রেন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
মাইগ্রেন সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা ও বাস্তব তথ্য
মাইগ্রেন নিয়ে সমাজে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন মাইগ্রেন মানেই শুধু এক পাশের মাথাব্যথা। কিন্তু বাস্তবে অনেক রোগীর দুই পাশেও ব্যথা হতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করেন মাইগ্রেন সাধারণ মাথাব্যথার মতোই একটি ছোটখাটো সমস্যা। অথচ এটি একটি স্নায়ুবিষয়ক রোগ। যা অনেকের দৈনন্দিন জীবন। কাজের সক্ষমতা। এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
আরেকটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো ব্যথানাশক ওষুধ খেলেই মাইগ্রেন পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়। বাস্তবে ওষুধ সাময়িকভাবে ব্যথা কমাতে সাহায্য করলেও মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণের জন্য জীবনযাপনের পরিবর্তন। ট্রিগার শনাক্ত করা। এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক চিকিৎসাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই অন্যের পরামর্শে বা নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকর উপায়।
উপসংহার
মাইগ্রেন এমন একটি সমস্যা যা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে এর জন্য রোগ সম্পর্কে সচেতনতা এবং নিয়মিত যত্ন প্রয়োজন। অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে মাইগ্রেন কি পুরোপুরি ভালো হয়। এর উত্তর হলো অনেক ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসা। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। এবং ট্রিগার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মাইগ্রেনের আক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়। আবার কেউ জানতে চান মাইগ্রেন কি বংশগত হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে পরিবারের অন্য সদস্যের মাইগ্রেন থাকলে ঝুঁকি কিছুটা বেশি হতে পারে।
সবশেষে বলা যায়। বারবার মাথার এক পাশে বা দুই পাশে ধুকপুক ধরনের ব্যথা হলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে যদি ব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব। আলো বা শব্দে অস্বস্তি। অথবা দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার মতো লক্ষণ থাকে। তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো রোগ নির্ণয়। সঠিক চিকিৎসা। নিয়মিত ঘুম। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। পর্যাপ্ত পানি পান। এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অধিকাংশ মানুষই মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

জুঁই ম্যাক্স নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url