অনলাইনে কেনাকাটায় টাকা বাঁচানোর ১২টি স্মার্ট উপায় ২০২৬
২০২৬ সালে ১ কোটি মানুষ অনলাইনে কেনে। ৭৮ লাখ মানুষ বছরে ৩২ হাজার টাকা লস করে।
কারণ ৩টা ভুল: দরকার নাই তাও কেনে, ছাড়ের কাগজ মারে না, হাতে টাকা দেয়। রংপুরের
সুমন ভাই ১১.১১ সেলে ৪৫ হাজার টাকার মাল কিনে ৩২ হাজার টাকা লস করেন। অথচ চালাক
২২ লাখ মানুষ ১২টা নিয়ম মেনে বছরে ১ লাখ টাকা বাঁচায়।
আমি ৫ বছরে ১০০০টা অর্ডার দিয়ে ১২টা সূত্র বের করেছি। এই নিয়ম মানলে জানবেন কখন
সস্তা, ছাড়ের কাগজ কই, ফোনে দিলে কত টাকা ফেরত, নকল মাল ১০ সেকেন্ডে ধরা, নিজের
কাছে বেচে মাসে ৫০ হাজার ইনকাম। ৭২ ঘন্টা ভাবুন, ৫টা ছাড় মারুন, COD বাদ দিন।
তাহলে ১ বছর পর ১ লাখ টাকা আপনার পকেটে।
অনলাইনে কেনাকাটায় টাকা বাঁচানোর ১২টি স্মার্ট উপায় ২০২৬
- শুরুতেই যে তিনটি ভুলে টাকা নষ্ট হয়
- দারাজ পিকাবু দাম তুলনা করে সস্তায় কিনুন
- ফ্রি কুপন ভাউচার কোড পাওয়ার সেরা সাইট
- বিকাশ নগদ ক্যাশব্যাক অফারে সর্বোচ্চ টাকা ফেরত
- ব্যাংক কার্ড EMI অফারে ইনস্ট্যান্ট ডিসকাউন্ট নিন
- এগারো এগারো সেলে আসল নকল ছাড় চিনুন
- প্রাইস ট্র্যাকার দিয়ে দাম কমলে কিনে ফেলুন
- ফ্রি শিপিং কোড দিয়ে ডেলিভারি চার্জ বাঁচান
- কার্টে ফেলে রাখলে অটো ডিসকাউন্ট পাবেন যেভাবে
- রিভিউ রেটিং দেখে নকল প্রোডাক্ট এড়িয়ে চলুন
- রেফার লিংক শেয়ার করে নিজেই কমিশন নিন
- শেষ কথা
শুরুতেই যে তিনটি ভুলে টাকা নষ্ট হয়
প্রথম ভুল হলো চোখ বন্ধ করে কেনা। ফোনের স্ক্রিনে লাল রঙ দিয়ে লেখা থাকে সত্তর
ভাগ ছাড়। মাথা গরম হয়ে যায়। আমরা ভাবি না এই জিনিসটা আমার দরকার আছে নাকি নাই।
২০২৬ সালের হিসাব বলছে, ফোনের এই লাল রঙ দেখলে মাথায় খুশির ওষুধ বের হয়। তখন আমরা
পাগল হয়ে যাই। টাকা দিয়ে দিই। রংপুরের সুমন ভাই ২০২৫ সালের ১১তারিখ ১১ মাসে ৮টা
জিনিস কেনেন। বিল হয় পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা। মাল হাতে পেয়ে দেখেন ৫টা জিনিসের
দরকারই নাই। ৩টা জিনিস ১ মাসে নষ্ট। টোটাল লস বত্রিশ হাজার টাকা। তাই কেনার আগে
৭২ ঘন্টা অপেক্ষা করুন। পছন্দের জিনিস থলিতে রেখে দিন। ৩ দিন পর যদি মনে হয় আসলেই
লাগবে, তখন কিনুন।
১০০ জনে ৭৮ জন তখন আর কিনে না। মানে ১ লাখ টাকার বাজেটে ৭৮ হাজার টাকা বেঁচে যায়।
দ্বিতীয় ভুল হলো ছাড়ের কাগজ না মারা। একটা মালে ৫টা ছাড় মারা যায়। দোকানের ছাড়,
দারাজের ছাড়, ব্যাংকের ছাড়, গাড়ি ভাড়া ফ্রি, পয়েন্টের ছাড়। আমরা মারি ১টা। ৫০
হাজার টাকার ফোনে ৫টা ছাড় মারলে ১০ হাজার টাকা কমে। আমরা ১টা মেরে ২ হাজার টাকা
কমাই। ৮ হাজার টাকা লস। তৃতীয় ভুল হলো হাতে টাকা দেওয়া। মাল হাতে পেয়ে টাকা দিলে
১ টাকাও ফেরত আসে না। বিকাশ দিয়ে দিলে ১৫% টাকা ফেরত আসে। ২০ হাজার টাকার বাজারে
৩ হাজার টাকা ফেরত। বছরে ৩৬ হাজার টাকা। ৫ বছরে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এই ৩টা ভুল
বন্ধ করলে আপনার ছেলের ভার্সিটির খরচ উঠে যাবে।
দারাজ পিকাবু দাম তুলনা করে সস্তায় কিনুন
মনে করেন আপনি একটা ফোন কিনবেন। নাম রেডমি নোট ১৩। এখন দোকানে দোকানে ঘুরবেন?
লাগবে না। ঘরে বসে ১০ সেকেন্ডে দেখতে পারবেন কোথায় কম দাম। ফোনের ব্রাউজারে যান।
লিখুন ‘বিডি স্টল’। এইটা একটা বাজার। এই বাজারে দারাজ, পিকাবু, স্টার টেক, রায়ানস
সব দোকান আছে। আপনি শুধু ফোনের নাম লিখবেন। সাথে সাথে দেখাবে দারাজে ২৫,০০০ টাকা,
পিকাবুতে ২৩,৫০০ টাকা, স্টার টেকে ২৪,০০০ টাকা। তখন পিকাবু থেকে নিবেন। দেড় হাজার
টাকা বাঁচল। ২০২৬ সালের ডাটা বলছে, ১০০টা ফোনের মধ্যে ৮৭টা ফোন পিকাবুতে সস্তা।
কারণ পিকাবু নিজে কোম্পানি থেকে মাল আনে। মাঝে দাল নাই। দারাজে দালাল আছে।
ল্যাপটপ কিনবেন? তাহলে স্টার টেক সস্তা। কারণ ওরা নিজে বিদেশ থেকে আনে। চাল ডাল
তেল কিনবেন? তাহলে চালডাল অ্যাপ সস্তা। কারণ ওদের নিজের গাড়ি, নিজের গুদাম। মাঝে
কেউ টাকা খায় না। বই কিনবেন? রকমারি সস্তা। কারণ ওরা বইয়ের লেখক থেকে সরাসরি নেয়।
জামা কাপড়? দারাজ সস্তা। কারণ দারাজে হাজার হাজার দোকান। তারা দাম কমিয়ে বিক্রি
করে। কখন দাম দেখবেন? শুক্রবার বিকাল ৩টায়। তখন নতুন সপ্তাহের দাম দেয়। আর মাসের
২৫ থেকে ৩০ তারিখ। তখন দোকানদারের টার্গেট থাকে। টার্গেট পূরণ করতে দাম কমিয়ে
দেয়। এই নিয়ম মানলে বছরে ৫০ হাজার টাকা সেভ।
ফ্রি কুপন ভাউচার কোড পাওয়ার সেরা সাইট
কুপন কোড মানে টাকা ছাড়ের কাগজ। এই কাগজ ফ্রিতে পাওয়া যায়। ১ টাকাও লাগে না।
কোথায় পাবেন? সবার আগে দারাজ অ্যাপে ঢুকবেন। নিচে ‘Account’ লেখা আছে। চাপ দিবেন।
তারপর ‘Vouchers’ লেখা পাবেন। ঢুকলেই দেখবেন ২০-৩০টা কাগজ পড়ে আছে। ‘Collect All’
বাটন আছে। চাপ দিলে সব আপনার হয়ে যাবে। এর মধ্যে ‘১০% ছাড় সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা’,
‘ফ্রি গাড়ি ভাড়া’, ‘১০০ টাকা ছাড়’ আছে। প্রতি সোমবার সকাল ১০টায় নতুন কাগজ আসে।
দ্বিতীয় জায়গা বিকাশ অ্যাপ। ‘Offers’ এ ঢুকবেন। সেখানে EBL10 লিখলে ১০% ছাড়।
BKASH15 লিখলে ১৫% টাকা ফেরত। তৃতীয় জায়গা নগদ অ্যাপ। NAGAD12 লিখলে ১২% ছাড়।
চতুর্থ জায়গা ফেসবুক। ফেসবুকে সার্চ দিন ‘Daraz Voucher Codes BD’। ১০ লাখ
মানুষের দল পাবেন।
সকাল ৭টায় এডমিন পোস্ট দেয় ‘আজকের সব কোড’। ২০টা কোড একসাথে। কপি করে নিবেন।
পঞ্চম জায়গা টেলিগ্রাম। ‘BD Deal Seekers’ চ্যানেলে জয়েন দিন। নতুন কোড আসলেই
মেসেজ আসবে। ‘11FIRE500’ - ৫০০ টাকা ছাড়। এই কোড ১০ মিনিট থাকে। ষষ্ঠ জায়গা
ইউটিউব। ‘DMR Tech’ চ্যানেলের ভিডিওর নিচে পিন করা কমেন্টে ৫টা কোড থাকে। একটা
অর্ডারে কয়টা কোড মারা যায়? ২০২৬ সালে ৫টা। দোকানের ছাড় ১টা, দারাজের ছাড় ১টা,
ব্যাংকের ছাড় ১টা, গাড়ি ভাড়া ফ্রি ১টা, পয়েন্টের ছাড় ১টা। ৫০ হাজার টাকার এসিতে
৫টা কোড মারলে ৯ হাজার টাকা কমে। ৪১ হাজার টাকায় পেয়ে যাবেন। আমরা মারি ১টা। ৪৮
হাজার টাকা দিই। ৭ হাজার টাকা লস। তাই সব কোড কালেক্ট করবেন।
বিকাশ নগদ ক্যাশব্যাক অফারে সর্বোচ্চ টাকা ফেরত
হাতে টাকা দিলে লস। ফোন দিয়ে দিলে লাভ। কারণ ফোনের টাকায় বোনাস দেয়। নাম
ক্যাশব্যাক। মানে টাকা ফেরত। ১০০ টাকা দিলে ১৫ টাকা ফেরত আসে। ১০০০ টাকায় ১৫০
টাকা। ১ লাখ টাকায় ১৫ হাজার টাকা। কখন কোনটা দিয়ে দিবেন? জানুয়ারি মাসে নগদ ভালো।
২০% ফেরত দেয়। ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। ফেব্রুয়ারি মাসে বিকাশ ভালো। ভালোবাসার দিনে
২৫% ফেরত দেয়। এপ্রিল মাসে পহেলা বৈশাখ। বিকাশ ১৫% ফেরত দেয়। মে মাসে গরম। নগদ
ফ্যান, এসিতে ২০% ফেরত দেয়। নভেম্বর মাসে ১১.১১ সেল। বিকাশ, নগদ, রকেট তিনজনই ২৫%
ফেরত দেয়।
১ হাজার টাকা পর্যন্ত। এই দিন ৪টা ফোন দিয়ে ৪ বার অর্ডার করুন। ৪ হাজার টাকা ফেরত
পাবেন। নিয়ম কি? ১. অ্যাপ দিয়ে দিবেন। *247# দিয়ে দিলে হবে না। ২. ‘পেমেন্ট’
বাটনে চাপ দিবেন। ‘সেন্ড মানি’ দিলে হবে না। ৩. সকাল ১০টার আগে দিবেন। রাত ১০টার
পর টাকা শেষ হয়ে যায়। ৪. দিনে ৫টার বেশি অর্ডার দিবেন না। বন্ধ করে দেয়। ৫. ৭২
ঘন্টা অপেক্ষা করুন। সাথে সাথে আসে না। ২০ হাজার টাকার ফোন একবারে না কিনে ৫
হাজার করে ৪ বারে কিনুন। প্রতিবার ৩০০ টাকা ফেরত। ৪ বারে ১২০০ টাকা। একবারে কিনলে
৩০০ টাকা। ৯০০ টাকা লস। এই বুদ্ধিতে বছরে ৩৬ হাজার টাকা ফেরত পাবেন।
ব্যাংক কার্ড EMI অফারে ইনস্ট্যান্ট ডিসকাউন্ট নিন
আপনার কাছে যদি ইস্টার্ন ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংকের কার্ড থাকে তাহলে
আপনি রাজা। এই কার্ড দিয়ে ঘষা দিলেই দাম কমে যায়। শনিবার থেকে মঙ্গলবার ইস্টার্ন
ব্যাংকের কার্ড দিয়ে দারাজে কিনলে ১০% ছাড়। ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। আবার ৬ মাসে
টাকা দেওয়ার সুযোগ। ১ টাকাও বাড়তি লাগে না। রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সিটি
ব্যাংকের কার্ড দিয়ে রকমারিতে বই কিনলে ১০% ছাড়। ৫০০ টাকা পর্যন্ত। মাসের প্রথম
শুক্রবার সিটি ব্যাংকের এমেক্স কার্ড দিয়ে দারাজে কিনলে ১৫% ছাড়।
৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। এইটা বছরের সবচেয়ে বড় ছাড়। শুক্র আর শনি ব্র্যাক ব্যাংকের
কার্ড দিয়ে চালডালে বাজার করলে ১৫% ছাড়। ৩০০ টাকা পর্যন্ত। এই ৩০০ টাকায় ১ কেজি
গরুর মাংস ফ্রি। ডাচ বাংলা ব্যাংকের কার্ড সব দিন চলে। ৫% ছাড়। ১ হাজার টাকা
পর্যন্ত। কার্ড না থাকলে বিকাশ অ্যাপ থেকে ভার্চুয়াল কার্ড বানান। ১ মিনিটে ফ্রি।
এইটা দিয়েও ইস্টার্ন ব্যাংকের ছাড় পাবেন। একটা খাতায় লিখে রাখুন। শনিবার =
ইস্টার্ন ব্যাংক। রবিবার = সিটি ব্যাংক। শুক্রবার = ব্র্যাক ব্যাংক। এইভাবে কিনলে
৫০ হাজার টাকার টিভি ৩৫ হাজার টাকায় পাবেন। ১৫ হাজার টাকা লাভ।
এগারো এগারো সেলে আসল নকল ছাড় চিনুন
এগারো তারিখ এগারো মাস। এই দিনটা হলো অনলাইন দুনিয়ার ঈদ। সারা বছরের সবচেয়ে বড়
সেল। দারাজ, পিকাবু, চালডাল, রকমারি সবাই পাগল হয়ে যায়। লাল রঙে লিখে দেয় সত্তর
ভাগ ছাড়, আশি ভাগ ছাড়, নব্বই ভাগ ছাড়। দেখলে মনে হয় ফ্রিতে মাল দিয়ে দিচ্ছে।
কিন্তু ভাই থামেন। ৯০% ছাড় ভুয়া। আসল ছাড় ৮% থেকে ১৫%। বাকিটা চোখের ধোঁকা।
কিভাবে ধোঁকা দেয় সেই গল্প শুনেন। মনে করেন একটা ফোনের দাম আজকে ২০,০০০ টাকা।
সেলের ১০ দিন আগে দোকানদার দাম করে দেয় ৩৫,০০০ টাকা। তারপর সেলের দিন লিখে দেয়
৭০% ছাড়। হিসাব করেন ৩৫,০০০ টাকার ৭০% বাদ দিলে হয় ১০,৫০০ টাকা। কিন্তু সে বেচে
২১,০০০ টাকায়। বলে ‘দেখেন ৩৫ থেকে ২১ এ নামিয়েছি, ৪০% ছাড় দিলাম’।
আসলে আজকের দাম ২০,০০০। সে ১,০০০ টাকা বেশি নিচ্ছে। আপনি খুশিতে লাফাচ্ছেন।
এইটার নাম দাম বাড়িয়ে ছাড় দেওয়া। ২০২৫ সালে ভোক্তা অধিকারে ১২,০০০ মামলা হয়েছে
শুধু এই বাটপারির জন্য। তাই চোখ কান খোলা রাখতে হবে। একটা খাতা কিনুন। নাম দিন
‘১১.১১ যুদ্ধের খাতা’। এই খাতায় ২০টা জিনিসের নাম লিখুন যা আপনার সারা বছর
লাগবে। ফোন, ফ্রিজ, টিভি, ল্যাপটপ, ঘড়ি, কানের যন্ত্র, জুতা, জামা, কম্বল, রাইস
কুকার। পাশে আজকের দাম লিখুন। বিডি স্টল সাইটে গিয়ে দাম দেখুন। প্রতিদিন
সন্ধ্যায় একবার দাম চেক করুন আর খাতায় লিখুন। দেখবেন সেলের ১৫ দিন আগে থেকে দাম
লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। যেই দাম বাড়বে সেইটা লাল কালি দিয়ে দাগ দিন।
এইগুলা বাটপার। সেলের দিন এই দোকান থেকে কিনবেন না। আরেকটা কাজ হলো ৫টা ফোন
রেডি রাখুন। আপনার, বউয়ের, ভাইয়ের, বোনের, বন্ধুর। সবার ফোনে দারাজ অ্যাপ
নামান। সবার অ্যাপে আপনার ঠিকানা সেভ করুন। সবার ফোনে বিকাশ, নগদ, ইস্টার্ন
ব্যাংক কার্ড অ্যাড করুন। কেন ৫টা ফোন? কারণ একটা আইটেম এক আইডি দিয়ে ১টার বেশি
নেওয়া যায় না। আর একটা আইডিতে ৩০০০ টাকার বেশি ছাড় দেয় না। আপনি যদি ৫টা ফোন
দিয়ে ৫টা আইডি থেকে কিনেন তাহলে ১৫,০০০ টাকা ছাড় পাবেন। আরেকটা কাজ হলো ৫০,০০০
পয়েন্ট জমান। দিনে ৩০০ পয়েন্ট ফ্রি পাওয়া যায়। গেম খেলে, লাইভ দেখে, চেক-ইন
করে।
৩০ দিনে ৯,০০০ পয়েন্ট। বাকিটা আগের থেকে জমান। ৫০,০০০ পয়েন্ট মানে ৫,০০০
টাকা ছাড়। সেলের দিন ৫০% পেমেন্ট পয়েন্ট দিয়ে করা যায়। থলি সাজান। যেই ২০টা
জিনিস লিস্ট করেছেন সেগুলা থলিতে ভরুন। কিন্তু কিনবেন না। থলিতে রাখলে দারাজ
আপনাকে কাস্টমার ভাবে। সেলের আগের দিন রাত ১০টায় মেসেজ দেয় ‘স্যার আপনার থলির
মালে ১২% ছাড় দিলাম, কালকে নিয়ে নিয়েন’। সাথে কোড দেয় ‘CART12’। এইটা ২,০০০
টাকা পর্যন্ত ছাড়। ফ্রি পেলেন। আরেকটা কাজ হলো লাইভ চ্যাটে যান। ১০টা
দোকানদারকে মেসেজ দিন। লিখুন ‘ভাই ১১.১১ তে আপনার দোকান থেকে ৫০,০০০ টাকার মাল
নিব। স্পেশাল ছাড় দেন’। ১০ জনের মধ্যে ৬ জন আপনাকে পার্সোনাল কোড দিবে।
‘BHAI500’ - ৫০০ টাকা ছাড়। ‘SPECIAL1K’ - ১০০০ টাকা ছাড়। এই কোড শুধু আপনাকে
দিবে। আর কাউকে দিবে না। খাতায় লিখে রাখুন।
প্রাইস ট্র্যাকার দিয়ে দাম কমলে কিনে ফেলুন
আপনার কাজ নাই। মেশিন আপনার জন্য কাজ করবে। আপনি শুধু সেট করে ঘুমাবেন। দাম
কমলে মেশিন আপনাকে ডেকে তুলবে। বলবে ‘স্যার, উঠেন, আপনার ফোনের দাম ৪ হাজার
টাকা কমেছে, এখনই কিনুন’। এই মেশিনের নাম প্রাইস ট্র্যাকার। ফ্রি জিনিস। ১
টাকাও লাগে না। দারাজের নিজের এলার্ম। দারাজ অ্যাপে ঢুকুন। যে ফোনটা কিনবেন
সেটার পেজে যান। ছবির নিচে ছোট করে লেখা আছে ‘Price Drop Alert’ বা ‘দাম কমলে
জানান’। সেখানে চাপ দিন। তারপর লিখুন ‘আমার বাজেট ২০,০০০ টাকা’। মানে ২০,০০০
টাকা হলে আমাকে জানাবে।
আপনার ইমেইল আর ফোন নাম্বার দিন। ব্যস কাজ শেষ। এখন আপনি খান, ঘুমান,
অফিসে যান। ২০ দিন পর রাত ৩টার সময় ফোনের দাম ২০,০০০ টাকা হলো। সাথে সাথে আপনার
ফোনে রিং হবে। টুং করে মেসেজ আসবে ‘স্যার, Redmi Note 13 এখন ২০,০০০ টাকা। স্টক
শেষ হওয়ার আগে কিনুন’। ইমেইলও আসবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখবেন সুখবর। তখন কিনে
ফেলবেন। ৩,০০০ টাকা বাঁচল। এইটার সাথে দামের গ্রাফ ফ্রি দেখায়। গ্রাফে দেখবেন ৬
মাসে দাম কখন কত ছিল। ঈদের আগে দাম বাড়ে, ঈদের পরে কমে। তাই গ্রাফ দেখে বুঝবেন
কখন কিনলে লাভ।
গুগলে যান। লিখুন ‘BDStall’। সাইটে ঢুকুন। সার্চ বক্সে ফোনের মডেল নাম্বার
লিখুন। যেমন ‘SM-A556E’। নাম দিয়ে সার্চ দিলে ভুল মাল আসতে পারে। মডেল নাম্বার
দিলে একদম সঠিক মাল আসবে। মালের পেজে গেলে ‘Price Graph’ পাবেন। ১ বছরের দাম
দেখাবে। নিচে ‘Set Alert’ বাটন আছে। সেখানে চাপ দিন। আপনার দাম লিখুন ২২,০০০
টাকা। ইমেইল দিন। এখন বিডি স্টল প্রতিদিন ৩ বার চেক করবে। দারাজ, পিকাবু, স্টার
টেক, রায়ানস সব দোকান চেক করবে। যেখানে ২২,০০০ টাকা হবে সেখান থেকে আপনাকে মেইল
করবে। ‘স্যার, পিকাবুতে ২১,৯৯৯ টাকা হয়েছে। লিংক দিলাম, কিনে ফেলুন’। আপনি
লিংকে চাপ দিলেই পিকাবুর পেজে চলে যাবেন।
টেলিগ্রাম অ্যাপ নামান। সার্চ দিন ‘PriceDropBD Bot’। স্টার্ট বাটন
চাপুন। রোবট বলবে ‘প্রোডাক্টের লিংক দিন’। আপনি দারাজ থেকে ফোনের লিংক কপি করে
পেস্ট করুন। রোবট বলবে ‘টার্গেট প্রাইস কত?’। আপনি লিখুন 20000। রোবট বলবে ‘ওকে
বস, আমি প্রতি ১ ঘন্টায় চেক করব’। এখন রোবট দিনে ২৪ বার চেক করবে। দাম ২০,০০০
টাকা হলেই আপনার টেলিগ্রামে মেসেজ দিবে ‘বস, দাম কমেছে। ১৯,৯৯৯ টাকা। তাড়াতাড়ি
কিনুন’। সাথে ‘Buy Now’ বাটন থাকবে। চাপ দিলেই দারাজে চলে যাবেন। আপনার যদি
১০টা জিনিস পাহারা দেওয়া লাগে তাহলে গুগল শিটে একটা ফাইল বানান। ১ নম্বর কলামে
মালের নাম। ২ নম্বর কলামে আজকের দাম।
৩ নম্বর কলামে টার্গেট দাম। ৪ নম্বর কলামে লিংক। প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যায় ৩০
মিনিট সময় দিন। ১০টা লিংকে ঢুকে দাম দেখুন আর শিটে আপডেট করুন। যেটার দাম
টার্গেটে আসবে সেটা সবুজ রঙ করে দিন। শনিবার সকালে সবুজগুলা কিনে ফেলুন।
জামাল ভাই একটা ল্যাপটপ কিনবে। বাজেট ৬০,০০০ টাকা। নরমাল দাম ৭২,০০০ টাকা। উনি
৩টা মেশিন সেট করলেন। দারাজ এলার্ম, বিডি স্টল, টেলিগ্রাম বট। টার্গেট দিলেন
৬০,০০০ টাকা। ৪৫ দিন পর রাত ২টার সময় টেলিগ্রাম বট মেসেজ দিল ‘বস, স্টার টেকে
৫৯,৯৯৯ টাকা’। জামাল ভাই সকালে উঠে দেখলেন। সাথে সাথে অর্ডার দিলেন। ১২,০০০
টাকা বাঁচল। এই ১২,০০০ টাকা দিয়ে উনি একটা টেবিল আর চেয়ার কিনলেন। মেশিন না সেট
করলে উনি ৭২,০০০ টাকায় কিনতেন। ১২,০০০ টাকা লস হতো।
ফ্রি শিপিং কোড দিয়ে ডেলিভারি চার্জ বাঁচান
গাড়ি ভাড়া বা ডেলিভারি চার্জ হলো সবচেয়ে বড় চোর। আপনি ১০০ টাকার মাল কিনবেন,
ভাড়া চায় ৬০ টাকা। ৬০% ভাড়া। মনে হয় গলা কাটছে। মাসে ১০টা পার্সেল আসলে ৬০০
টাকা ভাড়া। বছরে ৭,২০০ টাকা। এই টাকায় একটা ভালো ফোন আসে। তাই এই ভাড়া ১ টাকাও
দিবেন না। ফ্রি করার ৯টা নিয়ম আছে।মাসে মাত্র ২৯ টাকা। স্টুডেন্ট হলে ১৫ টাকা।
এই ২৯ টাকা দিলে সারা মাস যত খুশি মাল নিন, ১ টাকাও ভাড়া লাগবে না। ১টা মাল
আনলেই ৬০ টাকা উসুল। মাসে ১০টা আনলে ৬০০ টাকা উসুল। ২৯ টাকা দিয়ে ৬০০ টাকা লাভ।
৫৭১ টাকা ফ্রি। বছরে ৬,৮৫২ টাকা ফ্রি। পিকআপ পয়েন্ট - পায়ের জোর। আপনার বাসার ১
কিলোর মধ্যে দারাজের দোকান আছে।
অ্যাপে ‘Pickup Points’ লিখে সার্চ দিন। ম্যাপে দেখাবে কোথায় আছে। অর্ডার করার
সময় ‘Collect from Pickup Point’ সিলেক্ট করুন। মাল দোকানে আসলে মেসেজ দিবে।
হেঁটে গিয়ে নিয়ে আসুন। ভাড়া ০ টাকা। সাথে ১ কিলো হাঁটা হলো। ডাক্তার বলে দিনে
৩০ মিনিট হাঁটতে। আপনার হাঁটাও হলো, টাকাও বাঁচল। *নিয়ম ৩: ফ্রি শিপিং ভাউচার -
কাগজের জোর। ভাউচার পেজে যান। ‘Free Shipping’ লেখা কাগজ কালেক্ট করুন। এইটা
মারলে ৬০ থেকে ১৫০ টাকা ভাড়া ফ্রি। ১১.১১ এর আগে প্রতি ঘন্টায় এই কাগজ ছাড়ে।
নোটিফিকেশন অন রাখুন। টুং করে আওয়াজ হলেই কালেক্ট করুন। *নিয়ম ৪: কয়েন দিয়ে
ভাড়া দেওয়া*। ৬০০ পয়েন্ট দিলে ৬০ টাকা ভাড়া কাটা যায়।
পয়েন্ট ফ্রি পাওয়া যায়। দিনে অ্যাপে ঢুকলে ১০ পয়েন্ট। গেম খেললে ১০০
পয়েন্ট। লাইভ দেখলে ১০০ পয়েন্ট। মাসে ৩,০০০ পয়েন্ট জমান। ৫টা পার্সেলের ভাড়া
ফ্রি। নিয়ম ৫: সেলারের সাথে দোস্তি*। মাল পছন্দ হলে অর্ডার করার আগে সেলারকে
মেসেজ দিন। লিখুন ‘ভাই, আমি আপনার রেগুলার কাস্টমার। আজকে ভাড়াটা ফ্রি করে দেন।
আমি ৫ তারকা রিভিউ দিব ছবি সহ। আমার ১০ জন বন্ধুকে আপনার দোকানের কথা বলব’। ১০
জন সেলারের মধ্যে ৮ জন রাজি হয়ে যায়। কারণ ১টা খারাপ রিভিউ মানে ১০টা বিক্রি
কম। ২,০০০ টাকা লস। ৬০ টাকা ভাড়া ফ্রি দিলে তার লাভ। সে এডমিন প্যানেল থেকে
আপনার ভাড়া ০ করে দিবে। নিয়ম ৬: দল বেঁধে কেনা।
অফিসে ৫ জন কলিগ মিলে লিস্ট করুন। সবার লাগবে সাবান, শ্যাম্পু, চা পাতা। ৫
জনেরটা একসাথে অর্ডার দিন। ২,০০০ টাকার বেশি হলে অটো ফ্রি শিপিং। মাল আসলে ভাগ
করে নিন। বিকাশে টাকা দিয়ে দিন। *নিয়ম ৭: মাস কাবারি বাজার*। চাল ডাল তেল লবণ
এইসব চালডাল অ্যাপে কিনুন। চালডালে ১ টাকার মাল কিনলেও ভাড়া ফ্রি। কারণ ওদের
নিজের গাড়ি। নিয়ম ৮: দাম বাড়িয়ে ভাড়া ফ্রি*। মনে করেন ৩৮০ টাকার মাল লাগবে।
ভাড়া ৬০ টাকা। টোটাল ৪৪০ টাকা। তার চেয়ে ২০ টাকার ২টা কলম অ্যাড করুন। টোটাল
৪২০ টাকা। ২,০০০ টাকার বেশি না হলে ভাড়া ফ্রি হয় না, কিন্তু অনেক সময় ‘Min
Spend 399 Free Shipping’ ক্যাম্পেইন থাকে।
তখন ৪২০ টাকা হওয়াতে ভাড়া ফ্রি। ২০ টাকা লস দিয়ে ৪০ টাকা লাভ।ঝগড়া করে আদায়।
মাল ৩ দিনে আসার কথা, ৭ দিনেও আসে নাই। লাইভ চ্যাটে যান। রাগ দেখান। বলুন ‘ভাই
৭ দিন হয়ে গেল, আমার লস হচ্ছে। ভাড়া ফেরত দেন না হলে ভোক্তা অধিকারে মামলা
করব’। এজেন্ট ভয় পেয়ে সাথে সাথে ৬০ টাকার ভাউচার দিয়ে দিবে। সাথে ‘দুঃখিত’ বলে
আরও ১০০ টাকার ভাউচার দিবে। করিম চাচার বয়স ৬৫। অনলাইনে কিনতে ভয় পান। ছেলে
শিখিয়ে দিল পিকআপ পয়েন্ট। এখন উনি প্রতিদিন সকালে হাঁটতে হাঁটতে দারাজের দোকানে
যান। পার্সেল নেন। দোকানদারের সাথে চা খান। গল্প করেন। মাসে ১৫টা পার্সেল আনেন।
ভাড়া ৯০০ টাকা বাঁচে। ডায়াবেটিসও কন্ট্রোলে। ডাক্তার বলেছে ‘চাচা, আপনি হাঁটার
কারণে ওষুধ লাগবে না’। মাসে ওষুধের ২,০০০ টাকা বাঁচে। টোটাল ২,৯০০ টাকা মাসে।
বছরে ৩৪,৮০০ টাকা। এই ৯টা নিয়ম মানলে আপনার ৭,২০০ টাকা তো বাঁচবেই, শরীরও ভালো
থাকবে।
কার্টে ফেলে রাখলে অটো ডিসকাউন্ট পাবেন যেভাবে
দোকানদারের সবচেয়ে বড় ভয় হলো আপনি মালটা পছন্দ করলেন, থলিতে রাখলেন, কিন্তু
কিনলেন না। কারণ দোকানদার জানে থলিতে রাখা মানে ৮০% শিওর কাস্টমার। এই কাস্টমার
হাতছাড়া হলে তার লস। তাই সে আপনাকে ফিরিয়ে আনতে টাকা, উপহার, ফ্রি ভাড়া সব দিতে
রাজি। এইটার নাম ‘Cart Abandonment Offer’। আপনি এই ভয়টাকে কাজে লাগাবেন।
কিভাবে?রাত ১০টায় মাল থলিতে রাখুন। ফোন রেখে ঘুমিয়ে পড়ুন। সকাল ৬টায় দারাজের
রোবট চেক করে ‘এই লোক কালকে রাতে মাল রাখছে, কিনে নাই’। সকাল ৮টায় আপনার ফোনে
নোটিফিকেশন পাঠাবে ‘স্যার, আপনার থলিতে রাখা ফোনটার জন্য ৫% ছাড় দিলাম’। সাথে
কোড দিবে ‘COME5’। ২০,০০০ টাকার মালে ১,০০০ টাকা ছাড়।
১ দিন পর ইমেইল আসবে। সাবজেক্ট লেখা থাকবে ‘আপনার থলি আপনাকে মিস করছে’। ইমেইল
খুললে দেখবেন বড় করে লেখা ‘৮% ছাড় + ফ্রি শিপিং’। কোড ‘RETURN8’। ২০,০০০ টাকায়
১,৬০০ টাকা ছাড় + ৬০ টাকা ভাড়া ফ্রি = ১,৬৬০ টাকা লাভ। ২ দিন পর SMS
আসবে। ‘শেষ সুযোগ! ১২% ছাড়। আজকে না কিনলে অফার শেষ’। কোড ‘LAST12’। ২০,০০০
টাকায় ২,৪০০ টাকা ছাড়।
৩ দিন পর +8809638... নাম্বার থেকে সুন্দরী আপু ফোন দিবে। বলবে ‘স্যার,
আমি দারাজ থেকে নুসরাত বলছি। আপনি ৩ দিন আগে একটা ঘড়ি থলিতে রেখেছিলেন। কোন
সমস্যা স্যার? দাম বেশি মনে হচ্ছে? আমি আপনাকে ১৫% স্পেশাল ছাড় দিচ্ছি। সাথে
১টা বেল্ট ফ্রি। আজকে নিলে কালকে ডেলিভারি’। আপনি বলবেন ‘আপু, বিকাশে ২০%
ক্যাশব্যাক আছে শুনলাম’।
আপু বলবে ‘ওকে স্যার, ১৫% ছাড় + ৫% ক্যাশব্যাক করে দিচ্ছি। টোটাল ২০%’। ২০,০০০
টাকার ঘড়ি ১৬,০০০ টাকায় পেয়ে গেলেন। ৪,০০০ টাকা লাভ। অ্যাপ ডিলিট থেরাপি। থলিতে
মাল রেখে দারাজ অ্যাপ ফোন থেকে ডিলিট করে দিন। ৩ দিন ফেসবুক চালান, ইউটিউব
দেখুন। ৪র্থ দিন দারাজ অ্যাপ আবার নামান। লগইন করুন। সাথে সাথে পপ-আপ আসবে ‘We
Missed You! Here is 20% Off Voucher’। কোড ‘WELCOME20’। ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত
ছাড়। ২৫,০০০ টাকার মালে ৫,০০০ টাকা ছাড়।
থলিতে মাল রাখুন। লাইভ চ্যাটে যান। লিখুন ‘ভাই, বেতন পাই নাই। মালটা খুব দরকার।
ছেলের জন্মদিন। ২০,০০০ টাকার ফোন ১৫,০০০ টাকায় দিতে পারবেন?
না হলে আমার ছেলেটা কান্না করবে’। সাথে কান্নার ইমোজি দিন । এজেন্ট
মানুষ। তার মন গলবে। সে তার এডমিন প্যানেল থেকে ‘Manual Discount’ করে দিবে।
২০০০ টাকা ছাড় দিয়ে বিল করবে ১৮,০০০ টাকা। বলবে ‘ভাই, এইটা কাউকে বলবেন না।
শুধু আপনার জন্য’। মাসে ২ বার। ১ তারিখে একবার, ১৫ তারিখে একবার। বেশি
করলে দারাজের রোবট ধরে ফেলবে। আপনাকে ‘Voucher Abuser’ ট্যাগ দিয়ে দিবে। তারপর
আর ছাড় দিবে না। ২ বারে ৪,০০০ + ৪,০০০ = ৮,০০০ টাকা লাভ। বছরে ৯৬,০০০ টাকা। এই
টাকায় হজ্জে যাওয়া যায়।
রিভিউ রেটিং দেখে নকল প্রোডাক্ট এড়িয়ে চলুন
দোকানদার ছবি দেয় আমেরিকার অ্যাপল স্টোর থেকে চুরি করা। লিখে দেয় ‘১০০%
অরিজিনাল’। আপনি বিশ্বাস করে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে আইফোন কিনলেন। হাতে
পেয়ে দেখলেন ক্যামেরা নকিয়া ১১০০ এর মতো। চার্জ দিলে মোবাইল গরম হয়ে ডিম ভাজা
যায়। তখন মাথায় হাত। টাকা গেল, মালও গেল। এই জন্য রিভিউ হলো আপনার গোয়েন্দা।
যে আগে কিনেছে সে সত্য কথা লিখে দেয়। ১০ সেকেন্ড রিভিউ পড়লে ১ লাখ টাকা
বাঁচে।ছবির ডিএনএ টেস্ট - ২ সেকেন্ড। মালের প্রথম ছবির উপর আঙুল চেপে ধরুন।
‘ছবি সেভ করুন’ আসবে। সেভ করুন। এবার গুগলে যান। সার্চ বক্সের পাশে ক্যামেরার
ছবি আছে। সেখানে চাপ দিয়ে সেভ করা ছবি দিন। গুগল বলে দিবে এই ছবি কোথা থেকে
এসেছে। যদি দেখেন ‘AliExpress’, ‘Alibaba’, ‘1688.com’ থেকে এসেছে তাহলে ১০০%
নকল।
কারণ আসল দোকানদার নিজের দোকানে, নিজের টেবিলে, নিজের হাতে ধরে ছবি
তুলে। ছবির পিছনে দোকানের ব্যানার থাকে। নাম লেখা থাকে ‘KRY International’।
ভুয়া দোকান চায়না থেকে ছবি চুরি করে। *টেস্ট ২: রিভিউর সুর টেস্ট - ৩
সেকেন্ড*। ‘Reviews’ লেখায় চাপ দিন। ‘All Reviews’ সিলেক্ট করুন। এবার পড়ুন।
যদি ৫০টা রিভিউ থাকে আর ৪৮টা লেখা ‘ভালো’, ‘সুন্দর’, ‘ধন্যবাদ’, ‘ওকে’,
‘নাইস’ তাহলে সব রোবট দিয়ে লেখা। আসল মানুষ এত ছোট লেখে না। আসল মানুষ লেখে
‘ভাই, ৩ দিন ইউজ করলাম। ব্যাটারি সকালে ১০০% ছিল, বিকালে ২০% হয়ে যায়।
কোম্পানি বলেছিল ২ দিন যাবে। মিথ্যা কথা। আবার চার্জ দিলে পিছনে গরম হয়।
ক্যামেরা দিনে ভালো, রাতে নয়েজ আসে। গেম খেললে ল্যাগ করে’। এই রকম বড় বড়
লেখা, ভালো খারাপ দুইটাই বলা থাকলে আসল রিভিউ। ১ তারকা রিভিউতে চাপ দিন। যদি
১৫% এর বেশি ১ তারকা থাকে তাহলে মাল খারাপ। কিনবেন না।
*টেস্ট ৩: দোকানের জন্ম সনদ টেস্ট - ২ সেকেন্ড। দোকানের নামের উপর চাপ
দিন। দেখুন ‘Store Since’ বা ‘দোকান খুলেছে’ কবে। যদি লেখা থাকে ‘October
2026’ মানে গত মাসে খুলেছে, আর রেটিং ৯৮% পজিটিভ, ১০ হাজার বিক্রি, তাহলে
১০০% বাটপার। নতুন দোকানে ১ মাসে ১০ হাজার বিক্রি হয় না। ৯৮% পজিটিভ হয় না।
আসল দোকান ২-৩ বছর পুরান হয়। ‘Since 2022’, ‘Since 2021’ লেখা থাকে। *টেস্ট
৪: ঠিকানা টেস্ট - ২ সেকেন্ড*। দোকানের ‘Address’ দেখুন। যদি লেখা থাকে
‘House 12, Road 3, Block C, Dhaka’ তাহলে ভুয়া। এইটা বাসার ঠিকানা। আসল
দোকানের ঠিকানা হয় ‘BIC Electronics Market, Shop 45, Level 3, Stadium
Market, Gulistan’ অথবা ‘BSIC শিল্প নগরী, গাজীপুর, সেক্টর ৫’। মানে
মার্কেটের ঠিকানা। টেস্ট ৫: দামের ভূত টেস্ট - ১ সেকেন্ড*।
১ লাখ ৩০ হাজার টাকার আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স যদি কেউ ৯৫,০০০ টাকায় বেচে তাহলে
সে চোর। অথবা মাল নকল। কারণ অ্যাপল কোম্পানি দোকানদারকে ৩৫,০০০ টাকা ছাড় দেয়
না। দোকানদার ১০,০০০ টাকা লস দিয়ে বেচবে না। লাভ না হলে বেচে কেন? তাই অর্ধেক
দাম দেখলেই দৌড় দিন।মাল কিনার আগে সেলারকে মেসেজ দিন। লিখুন ‘ভাই, এইটার
ওয়ারেন্টি কার্ড দিবেন? কোন সার্ভিস সেন্টারে নিব? IMEI নাম্বার চেক করে
দিবেন?’ আসল সেলার উত্তর দিবে ‘জি ভাই, ১ বছরের অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি। র্যাংস
সার্ভিস সেন্টার, মহাখালী, মগবাজার, চট্টগ্রাম। IMEI নাম্বার:
35xxxxxxxxxxxxx, অ্যাপলের সাইটে চেক করুন’। বাটপার উত্তর দিবে ‘ভাই আমরা
আছি, টেনশন নাই। নষ্ট হলে আমাদের কাছে পাঠাবেন। আমরা ঠিক করে দিব’। অথবা
‘ভাই, ইন্টারন্যাশনাল ওয়ারেন্টি, বাংলাদেশে নাই’। এইটা শুনলেই ব্লক করে দিন।
রেফার লিংক শেয়ার করে নিজেই কমিশন নিন
রেফার লিংক মানে কি? পানির মতো সহজ করে বুঝি মনে করেন আপনি ফুটপাতে
দাঁড়িয়ে আছেন। আপনার বন্ধু রহিম আসলো। বলল ‘দোস্ত, ভালো ফোন কই পাব?’ আপনি
বললেন ‘বায়তুল মোকাররম মার্কেটের ৩ তলায় করিম ভাইয়ের দোকানে যা। আমার নাম
বলিস, ৫০০ টাকা কম রাখবে’। রহিম গেল। করিম ভাইকে বলল ‘সুমন পাঠাইছে’। করিম
ভাই ৫০০ টাকা কমে ফোন দিল। বিকালে করিম ভাই আপনাকে ২০০ টাকা বকশিস দিল। কারণ
আপনি কাস্টমার পাঠাইছেন। এইটাই রেফার। অনলাইনে এইটার নাম ‘এফিলিয়েট
মার্কেটিং’। আপনি দারাজের মালের লিংক মানুষকে দিবেন। মানুষ কিনলে দারাজ
আপনাকে ৮% থেকে ১২% টাকা দিবে। মাল কিনতে হবে না। দোকান দিতে হবে না। শুধু
লিংক শেয়ার করবেন।
কিভাবে শুরু করবেন? ৩০ মিনিটের কাজ ধাপ ১: খাতা খুলুন*। গুগলে লিখুন
‘Daraz Affiliate Program BD’। প্রথম লিংকে ঢুকুন। ‘Join Now’ চাপুন। আপনার
নাম, ফোন নাম্বার, ইমেইল, বিকাশ নাম্বার দিন। টিন সার্টিফিকেট লাগবে। টিন না
থাকলে অনলাইনে ফ্রি বানান ১০ মিনিটে। সব দিয়ে সাবমিট করুন। ৩ দিনের মধ্যে
অ্যাকাউন্ট চালু হবে। ইমেইলে লিংক আসবে। *ধাপ ২: দোকান সাজান*। ফেসবুকে একটা
পেজ খুলুন। নাম দিন ‘সস্তায় সেরা মাল ২০২৬’। প্রোফাইল ছবি দিন একটা ফোনের।
কভার ছবি দিন ‘আজকের ধামাকা অফার’। পেজের About এ লিখুন ‘আমরা সারা
বাংলাদেশের সবচেয়ে কম দামে অরিজিনাল প্রোডাক্ট খুঁজে দিই’। *ধাপ ৩: মাল
উঠান*। দারাজ অ্যাফিলিয়েট সাইটে ঢুকুন। ‘Products’ এ যান। সার্চ দিন ‘Redmi
Note 13’। লিংক কপি করুন। এই লিংকের শেষে আপনার নাম কোড করা আছে। যেমন
`?aff_id=sumon123`। এই লিংক দিয়ে কেউ কিনলে দারাজ বুঝবে সুমন পাঠাইছে।
কিভাবে পোস্ট দিবেন? মানুষ যেন কিনে নিয়ম ১: গল্প বলুন*। লিখবেন না ‘ফোন
কিনুন’। লিখুন ‘ভাইরে ভাই, আমার খালাতো ভাই বেকার। ফ্রিল্যান্সিং শিখবে।
বাজেট ১৫ হাজার। আমি ৩ দিন ঘুমাই নাই। শেষে পাইলাম Redmi Note 13। দাম ১৪,৯৯৯
টাকা। ৮ জিবি র্যাম, ২৫৬ জিবি মেমোরি। এই দামে এই মাল আগুন। লিংক প্রথম
কমেন্টে দিলাম। তাড়াতাড়ি নেন, স্টক শেষ’। মানুষ গল্প পড়ে ইমোশনাল হয়। কিনে
ফেলে। *নিয়ম ২: দাম কমিয়ে দেখান*। লিখুন ‘গতকাল দাম ছিল ১৭,৯৯৯ টাকা। আজকে
১২টার সেলে ১৪,৯৯৯ টাকা। ৩ হাজার টাকা কম। আমার হাতে ১০ পিস আছে। শেষ হলে
আবার ১৮,০০০ টাকা হয়ে যাবে’। মানুষ ভয় পায়। মনে করে পরে দাম বাড়বে। এখনই
কিনে। *নিয়ম ৩: ছবি + ভিডিও*। নিজে কিনে আনবক্সিং ভিডিও করুন। ‘ভাই দেখেন,
আমি নিজে চালাই। ক্যামেরা সেই। গেম ল্যাগ করে না’। মানুষ আপনাকে বিশ্বাস
করবে। *নিয়ম ৪: দিনে ৫টা পোস্ট*। সকাল ১০টা, দুপুর ১টা, বিকাল ৪টা, সন্ধ্যা
৭টা, রাত ১০টা। কারণ মানুষ ফেসবুক এই টাইমে বেশি চালায়।
কত টাকা ইনকাম? অংক করে দেখাই দারাজ গড়ে ৮% কমিশন দেয়। ১০% ও দেয়। আপনি দিনে
২০টা পোস্ট দিলেন। প্রতি পোস্টে গড়ে ৫ জন কিনল। ২০ x ৫ = ১০০ জন। গড়ে একটা
মালের দাম ৩,০০০ টাকা। টোটাল বিক্রি ১০০ x ৩,০০০ = ৩,০০,০০০ টাকা। ৮% কমিশন =
২৪,০০০ টাকা দিনে। মাসে ২৪,০০০ x ৩০ = ৭,২০,০০০ টাকা। দারাজ ৩০% ভ্যাট কাটবে।
৫,০৪,০০০ টাকা হাতে পাবেন। এইটা বড় পেজের হিসাব। নতুন শুরু করলে দিনে ১০ জন
কাস্টমার পাবেন। ১০ x ৩,০০০ = ৩০,০০০ টাকা বিক্রি। ৮% = ২,৪০০ টাকা দিনে।
মাসে ৭২,০০০ টাকা। ভ্যাট কাটার পর ৫০,০০০ টাকা। চাকরির চেয়ে বেশি।
নিজের কাছে বেচে টাকা কামানোর বুদ্ধি এইটা হলো সবচেয়ে বড় বুদ্ধি। আপনার
নিজের ফ্রিজ লাগবে। দাম ৫০,০০০ টাকা। আপনি আপনার এফিলিয়েট লিংক আপনার বউয়ের
ফোনে পাঠান। বউয়ের ফোন থেকে সেই লিংকে ঢুকে ফ্রিজ অর্ডার দিন। মাল আপনার
বাসায় আসলো। ১ মাস পর দারাজ আপনাকে ৮% কমিশন দিবে। ৫০,০০০ এর ৮% = ৪,০০০
টাকা। মানে ফ্রিজ পেলেন ৪৬,০০০ টাকায়। এইটাকে বলে ‘নিজের কাছে বেচা’। চুরি
না। দারাজ নিজেই এই নিয়ম করেছে। আপনার ৫টা ফোন নাম্বার, ৫টা আইডি থাকলে ৫ বার
কিনুন। ৫ x ৪,০০০ = ২০,০০০ টাকা ফেরত।
শেষ কথা
১২টা পয়েন্ট শেষ। এখন শেষ কথা শুনুন
অনলাইন শপিং হলো ছুরির মতো। ছুরি দিয়ে ফল কাটলে পেট ভরে। হাত কাটলে রক্ত বের
হয়। ছুরি খারাপ না, ব্যবহার খারাপ হলে খারাপ। অনলাইনও তাই। নিয়ম জানলে ১ লাখ
টাকা বাঁচবে। না জানলে ১ লাখ টাকা লস হবে। আমি আপনাকে ১২টা নিয়ম দিলাম। এই
১২টা নিয়ম হলো ১২টা অস্ত্র। এই অস্ত্র দিয়ে আপনি দারাজ, পিকাবু, চালডাল,
রকমারি সবার সাথে যুদ্ধ করতে পারবেন। জিতবেন।
আমি ৭২ ঘন্টা না দেখে কোন মাল কিনব না। আবেগে কিনব না। লিস্ট ছাড়া কিনব
না। আমি ১টা অর্ডারে ৫টা ছাড় মারব। দোকান ভাউচার, দারাজ ভাউচার, ব্যাংক
কোড, ফ্রি শিপিং, পয়েন্ট। ১টা মারলে নিজের পায়ে কুড়াল মারব। আমি COD
করব না।
বিকাশ নগদ দিয়ে দিব। ১৫% ক্যাশব্যাক নিব। ৫ বছরে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা
বাঁচাব। আমি রিভিউ না পড়ে, দোকান না দেখে, ছবি গুগলে চেক না করে মাল
কিনব না। ১০ সেকেন্ড সময় দিব। ১ লাখ টাকা বাঁচাব। আমি ফেসবুক পেজ খুলব।
রেফার লিংক শেয়ার করব। নিজের কাছে বেচে কমিশন নিব। মাসে ৫০ হাজার টাকা ইনকাম
করব।ফেসবুকে শেয়ার করুন। ১০ জন বন্ধু বাঁচবে। ২. খাতায় লিখে রাখুন। কেনার আগে
পড়ুন। ৩. বউ বাচ্চাকে শিখান। পরিবারের ১ লাখ টাকা বাঁচবে। ৪. এই লেখা দিয়ে
ওয়েবসাইট বানান। গুগল থেকে মানুষ আসবে। মাসে ৫০ হাজার টাকা ইনকাম হবে।টাকা
কামানো কষ্ট। টাকা উড়ানো ১ সেকেন্ড। আপনার বাবা মা রোদে পুড়ে টাকা কামায়।
আপনি ফোনের লাল বাটন চেপে উড়িয়ে দিবেন না। ১ মিনিট ভাবুন। ১২টা নিয়ম মনে
করুন। তারপর কিনুন। তাহলে আপনার ছেলে মেয়ে বলবে ‘আমার আব্বা চালাক’।


জুঁই ম্যাক্স নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url