নাম্বার দিয়ে লোকেশন বের করার অ্যাপ ৬০ আসল তথ্য ২০২৬

  

৫০০ টাকা দিয়ে নাম্বার ট্র্যাক করতে যাইয়েন না। টাকা যাবে, জেলও হবে। নাম্বার দিয়ে লোকেশন বের করার অ্যাপ ৬০ আসল তথ্য ২০২৬ এর সত্য হলো শুধু নাম্বার দিয়ে লাইভ লোকেশন বের হয় না। ফোনে আগে অ্যাপ থাকা লাগে, আপনার অনুমতিও লাগে। 
নাম্বার-দিয়ে-লোকেশন-বের-করার-অ্যাপ-৬০-আসল-তথ্য-২০২৬
ফেসবুকে "৫০০ টাকায় লোকেশন" সব বাটপার। টাকা নিয়ে ব্লক করে দেয়। আবার পুলিশ ধরলে ১০ বছর জেল, ২৫ লাখ টাকা জরিমানা। তাহলে উপায়? এই লেখায় ১২টা পয়েন্ট আছে। কোন ৩টা অ্যাপ ফ্রি আর লিগ্যাল, কোন ১৭টা নামালে জেল, পুলিশ কিভাবে ফ্রি তে ফোন খোঁজে, বাচ্চার জন্য কি কিনবেন – সব আছে। 

সূচিপত্র:নাম্বার দিয়ে লোকেশন বের করার অ্যাপ ৬০ আসল তথ্য ২০২৬

নাম্বার দিয়ে লাইভ লোকেশন বের হয় না ২০২৬ সালেও

 ২০২৬ সালেও শুধু মোবাইল নাম্বার দিয়ে কারো লাইভ লোকেশন বের করা যায় না। এইটা একদম খাঁটি সত্য কথা। নাম্বার দিয়ে লোকেশন বের করার অ্যাপ ৬০ আসল তথ্য ২০২৬ এর প্রথম কথা এটাই। আপনি ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক খুললেই দেখবেন হাজার হাজার পাতা। নাম লেখা "বিডি নাম্বার ট্র্যাকার ২০২৬", "লাইভ লোকেশন বের করুন মাত্র ৫০০ টাকা", "নাম্বার দিয়ে ঠিকানা", "ফোন নাম্বার দিয়ে বাসা খুঁজুন", "প্রেমিকার লোকেশন"। এরা রঙিন ছবি দেয়, ভিডিও বানায়, কমেন্টে নিজের ১০টা ফেক আইডি দিয়ে লেখায় "ভাই আমার কাজ হইছে, ধন্যবাদ স্যার, ১০০% আসল"। বলে "ভাই শুধু নাম্বার দেন, ২ মিনিটে গুগল মানচিত্রে দেখায় দিবো কোথায় আছে। খরচ মাত্র ৫০০ টাকা বিকাশ করেন। আগে কাজ পরে টাকা"। স্যার, এইগুলা সব ধোঁকা। ১০০% মিথ্যা কথা। ১০০% বাটপারি। ২০২৬ এ এসেও এই বাটপারি বন্ধ হয় নাই। কারণটা মন দিয়ে বুঝেন।

 আপনার ফোনের লোকেশন কোথায় থাকে? আপনার ফোনের ভিতরে থাকে। ফোনের ভিতরে জিপিএস নামে একটা ছোট যন্ত্র থাকে। ওই যন্ত্র আকাশের কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে সিগন্যাল নিয়ে বের করে আপনি মিরপুর ১০ এ আছেন, নাকি ধানমন্ডি ২৭ এ আছেন, নাকি চট্টগ্রাম জিইসি মোড়ে আছেন, নাকি রাজশাহী সাহেব বাজারে আছেন। এই লোকেশন ফোনের বাইরে আসে না। ফোনের ভিতরেই তালা মারা থাকে। এখন এই তালা খুলতে ২টা চাবি লাগে। চাবি নম্বর এক, আপনার ফোনে আগে থেকে একটা ভালো অ্যাপ থাকা লাগবে। যেমন গুগল ফাইন্ড মাই ডিভাইস, লাইফ৩৬০, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, ইমো। চাবি নম্বর দুই, আপনি নিজে হাতে ফোনের সেটিংসে গিয়ে ওই অ্যাপকে বলতে হবে "হ্যাঁ বাবা, তুমি আমার লোকেশন নিতে পারো, আমার অনুমতি আছে"। 

সেটিংস > অ্যাপস > লোকেশন > অল টাইম অ্যালাও। এই ২টা চাবি ছাড়া দুনিয়ার কেউ আপনার তালা খুলতে পারবে না। গুগলের মালিক সুন্দর পিচাই পারবে না, অ্যাপলের মালিক টিম কুক পারবে না, বিটিআরসি এর চেয়ারম্যান পারবে না, প্রধানমন্ত্রীও পারবে না, সেনাবাহিনীর প্রধানও পারবে না, র‍্যাবের ডিজিও পারবে না। কারণ ২০২৪ সালে বাংলাদেশে নতুন আইন পাস হইছে। নাম "ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ২০২৪"। এই আইনের ২৯ ধারায় বড় বড় করে লেখা আছে "কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানি, কোনো মানুষের অনুমতি ছাড়া তার লোকেশন, ছবি, ফোনের তালিকা, মেসেজ, কল রেকর্ড, ব্যাংক তথ্য নিতে পারবে না। নিলে ১০ বছর জেল আর ২৫ লাখ টাকা জরিমানা"। তাহলে মোবাইল কোম্পানি কি জানে? গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, টেলিটক এরা শুধু জানে আপনি কোন টাওয়ারের নিচে আছেন। ধরেন আপনি বসুন্ধরা সিটির সামনে দাঁড়ায় আছেন। 

ওখানে গ্রামীণফোনের একটা বড় টাওয়ার আছে। কোম্পানি বলতে পারবে "০১৭১... এই নাম্বার এখন বসুন্ধরা সিটি টাওয়ারে যুক্ত আছে"। কিন্তু বসুন্ধরা সিটি টাওয়ারের নিচে ৫০০ মিটার জায়গা। এই ৫০০ মিটারের মধ্যে আছে বসুন্ধরা শপিং মল, ২০টা খাবার দোকান, ২টা হাসপাতাল, ১০০টা দোকান, ৫০০টা বাসা, ২টা স্কুল, ৩টা মসজিদ, ১টা ব্যাংক, ১টা সিনেমা হল। এই ৫০০ মিটারে ৫০ হাজার মানুষ থাকে। এখন বলেন, ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে আপনি স্টার কাবাবে বসে কাচ্চি খাচ্ছেন, নাকি পাশের ওষুধের দোকানে নাপা কিনতেছেন, নাকি মসজিদে আছর নামাজ পড়তেছেন, নাকি ব্যাংকে টাকা তুলতেছেন, নাকি সিনেমা দেখতেছেন, এটা কোম্পানি কিভাবে বলবে? বলতে পারবে না। তাই নাম্বার দিয়ে বাসা খোঁজা অসম্ভব। পুলিশ কিভাবে ধরে? পুলিশের কাছে আদালতের কাগজ থাকে।

 নাম সার্চ ওয়ারেন্ট। ওই কাগজ নিয়ে তারা বিটিআরসি তে যায়। তারপর মোবাইল কোম্পানিকে বলে "এই ডাকাত, এই খুনি, এই চোর, এই সন্ত্রাসীকে এখনই লাইভ ট্র্যাক করো, এইটা আদালতের অর্ডার"। তখন কোম্পানি বাধ্য হয়ে লাইভ ট্র্যাকিং চালু করে। আপনার-আমার জন্য এই সুবিধা নাই। তাই আইনের রাস্তা ২টা। রাস্তা এক, আপনার নিজের ফোন হারায় গেলে ফাইন্ড মাই ডিভাইস দিয়ে খোঁজা। কারণ ফোন আপনার, জিমেইল আপনার, আপনি নিজেই খুঁজতেছেন। রাস্তা দুই, আপনার বউ-বাচ্চা-মা-বাবার ফোনে তাদের হাতে ধরে লাইফ৩৬০ ইন্সটল করে দেওয়া। তারা অ্যাপে "পরিবারে যোগ দিন" এ ক্লিক করবে। তারপর আপনারা সবাই সবাইকে দেখবেন। তারা ক্লিক না করলে আপনি কিছুই দেখবেন না। এর বাইরে তৃতীয় কোনো রাস্তা নাই। যে বলবে আছে, সে আপনার বিকাশের টাকা মারবে, তারপর ব্লক করে দিবে, তারপর ফেসবুক আইডি বন্ধ করে দিবে, তারপর নতুন নামে নতুন পেজ খুলবে।

 অনুমতি ছাড়া ফোন ট্র্যাক করলে জেল দশ বছর ২০২৬

২০২৬ এ আইন অনেক কড়া। আগে ৭ বছর জেল ছিল, এখন ১০ বছর জেল + ২৫ লাখ টাকা জরিমানা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ৩৪ ধারা আর ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ২০২৪ এর ২৯ ধারা একসাথে চলে। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটা রায় হইছে। এক গার্মেন্টস মালিকের ৬ বছর জেল হইছে। তার নাম রহিম মিয়া, বয়স ৪৫ বছর, বাড়ি গাজীপুর। তার অপরাধ কি? সে তার ১২০ জন কর্মীর ফোনে লুকায়া ফ্লেক্সিস্পাই নামে একটা চোরাই অ্যাপ বসাইছিল। কেন বসাইছিল? দেখার জন্য কে কখন অফিস ফাঁকি দিয়ে বাইরে যায়, কে দুপুরে ঘুমায়, কে অন্য চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যায়, কে বেতন নিয়ে আন্দোলন করে, কে মালিকের নামে বদনাম করে। বিটিআরসি এর নতুন একটা যন্ত্র আছে, নাম "ধূমকেতু"। 

এই যন্ত্র সারা বাংলাদেশের ১৮ কোটি ফোন ২৪ ঘণ্টা চেক করে। কোনো ফোনে যদি লুকায়া ক্যামেরা অন হয়, মাইক্রোফোন অন হয়, বা লোকেশন আমেরিকা-চীন-রাশিয়া-ইসরাইল চলে যায়, তাহলে সাথে সাথে ওই ফোনের আইএমইআই নাম্বার লাল হয়ে যায়। তারপর র‍্যাব-১৫ এর সাইবার দল বাসায় হানা দেয়। রহিম মিয়ার বেলায় কি হইছে? তার এক কর্মী খেয়াল করে ফোন গরম হয়, চার্জ থাকে না, ডাটা বেশি কাটে। সে থানায় জিডি করে। পুলিশ ফোন চেক করে দেখে ফ্লেক্সিস্পাই। তারপর ধূমকেতু দিয়ে চেক করে দেখে ১২০টা ফোনে একই অ্যাপ। সব আইএমইআই মালিকের নামে কেনা, মালিকের ওয়াইফাই দিয়ে ইন্সটল করা। র‍্যাব রাত ৩টায় বাসায় রেইড দিয়ে ধরে নিয়ে গেছে। এই মামলায় জামিন নাই স্যার। একবার ধরা পড়লে সোজা জেলে।

 জেলের সাথে আরও ৪টা শাস্তি বিনা পয়সায় দেয়। এক নম্বর, পাসপোর্ট ৫ বছরের জন্য বন্ধ। হজ্বে যেতে পারবেন না, ইন্ডিয়া ডাক্তার দেখাতে যেতে পারবেন না, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, দুবাই, সৌদি, আমেরিকা, কানাডা ঘুরতে যেতে পারবেন না। দুই নম্বর, আপনার যত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে – ডাচ বাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড – সব বন্ধ করে দিবে। টাকা তুলতে পারবেন না, টাকা পাঠাতেও পারবেন না। বেতন ঢুকলেও তুলতে পারবেন না। বিকাশ, নগদ, রকেট সব বন্ধ। তিন নম্বর, সরকারি চাকরি, ব্যাংকের চাকরি, স্কুল-কলেজের চাকরি, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, ইউনিভার্সিটির টিচার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল – সব সাথে সাথে চলে যাবে। চাকরি গেলে পেনশনও গেল, গ্র্যাচুইটিও গেল, প্রভিডেন্ট ফান্ডও গেল। 

চার নম্বর, নতুন লোন, ক্রেডিট কার্ড, কিস্তিতে ফ্রিজ-টিভি-মোবাইল-বাইক-গাড়ি-ফ্ল্যাট কেনা – সব বন্ধ। জীবন শেষ হয়ে যাবে। নাম্বার দিয়ে লোকেশন বের করার অ্যাপ ৬০ আসল তথ্য ২০২৬ এর সবচেয়ে বড় সাবধান বাণী এটাই। বউকে সন্দেহ হলে বাসায় বসে চা খান, কথা বলেন। মন থেকে কথা বলেন। না মিললে কাজী অফিসে গিয়ে তালাক দেন। আইন আছে, উকিল আছে, কোর্ট আছে। কর্মী চুরি করলে অফিসে ৮টা সিসি ক্যামেরা লাগান, বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন লাগান, লোক রাখেন, ম্যানেজার রাখেন। কিন্তু ভুলেও এমস্পাই, ইউমোবিক্স, কোকোস্পাই, স্পাইজি, আইকিমনিটর, হোভারওয়াচ, দ্য ট্রুথস্পাই, মোবিস্টেলথ, হাইস্টার মোবাইল নামায়া ৯৪০০ টাকা নষ্ট কইরেন না। টাকাও যাবে, ১০ বছর জেলও খাটবেন, সমাজে মুখ দেখাতে পারবেন না, ছেলে-মেয়ে স্কুলে যেতে লজ্জা পাবে, বউ তালাক দিয়ে চলে যাবে, বাবা-মা সমাজে মুখ দেখাতে পারবে না। আপনার ফোনে লুকানো অ্যাপ আছে কিনা বুঝবেন কিভাবে? 

৩টা লক্ষণ আছে। লক্ষণ এক, হঠাৎ ফোন গরম হয়ে যায়। গেম না খেললেও গরম, ভিডিও না দেখলেও গরম, চার্জে না দিলেও গরম, এসির নিচে রাখলেও গরম, ফ্রিজে রাখলেও গরম। লক্ষণ দুই, রাতে ১০০% চার্জ দিয়ে ঘুমালে সকালে উঠে দেখেন ৬০% বা ৫০% বা ৪০% বা ৩০% বা ২০% হয়ে গেছে। অথচ রাতে ফোন ধরেনও নাই, ডাটা অফ, ওয়াইফাই অফ, ব্লুটুথ অফ, হটস্পট অফ, লোকেশন অফ। লক্ষণ তিন, সেটিংস > অ্যাপস এ গেলে "সিস্টেম আপডেট", "গুগল সার্ভিস", "অ্যান্ড্রয়েড কোর", "ডিভাইস হেলথ", "সিকিউরিটি সার্ভিস", "প্লে সার্ভিস আপডেট" নামে অচেনা অ্যাপ দেখবেন। ওই অ্যাপে ক্লিক করলে আনইনস্টল লেখা নাই, শুধু ডিজেবল বা ফোর্স স্টপ লেখা। এই ৩টা লক্ষণ দেখলে বুঝবেন আপনার ফোনে গোপন অ্যাপ আছে। তখন কি করবেন? সাথে ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট দেন। সেটিংস > সিস্টেম > রিসেট > ফ্যাক্টরি রিসেট। সব মুছে যাবে। ছবি, ভিডিও, নাম্বার সব গুগল ড্রাইভে ব্যাকআপ রাখেন আগে।

 গুগল ফাইন্ড মাই ডিভাইস ফোন বন্ধ থাকলেও খুঁজে পায়

২০২৬ সালের ফাইন্ড মাই ডিভাইস এখন জাদুর মতো কাজ করে স্যার। আগে কি হতো? চোর ফোন চুরি করে সাথে সাথে ফোন বন্ধ করে দিত। অথবা প্লেন মোড অন করে দিত। অথবা সিম খুলে ফেলে দিত। অথবা পানিতে ফেলে দিত। অথবা ভেঙে ফেলতো। ব্যাস, খেলা শেষ। ফাইন্ড মাই ডিভাইস এ দেখাতো "লাস্ট সিন ২ ঘণ্টা আগে, গুলশান ২, ডিভাইস অফলাইন"। এখন আর সেই দিন নাই। নতুন ৫টা জাদু শুনেন: জাদু এক, ফোন বন্ধ থাকলেও খুঁজে পায়। কিভাবে? আপনার ফোনের ভিতর ব্লুটুথ নামে একটা জিনিস আছে। ফোন ফুল বন্ধ করলেও, ব্যাটারি ০% দেখালেও, এই ব্লুটুথ এর ছোট একটা অংশ চালু থাকে। এই অংশটা প্রতি ১৫ মিনিটে একবার খুব ছোট একটা সিগন্যাল ছাড়ে। 

এই সিগন্যালে আপনার নাম নাই, নাম্বার নাই, ছবি নাই, মেসেজ নাই, ওটিপি নাই, ব্যাংকের পিন নাই। শুধু আছে একটা গোপন কোড। ধরেন চোর আপনার ফোন নিয়ে নিউ মার্কেট কাঁচা বাজারের সামনে দিয়ে হাঁটতেছে। ওই রাস্তায় যত মানুষের পকেটে অ্যান্ড্রয়েড ফোন আছে – রিকশাওয়ালার ফোন, বাসের যাত্রীর ফোন, দোকানদারের ফোন, স্কুলের ছাত্রের ফোন, কলেজের মেয়ের ফোন, অফিসের স্যারের ফোন – সবার ফোন আপনার চোরের ফোনের সিগন্যাল ধরে ফেলবে। তারপর ওই ফোনগুলা নিজের ইন্টারনেট খরচ করে গুগলকে বলে দিবে "ভাই, আমি নিউ মার্কেট কাঁচা বাজারের সামনে একটা হারানো ফোনের সিগন্যাল পাইছি, কোড নম্বর এইটা, আমার লোকেশন এইটা, সময় এইটা"। গুগল তখন আপনার জিমেইলে মানচিত্র পাঠায় দিবে।

 আপনি দেখবেন "আপনার স্যামসাং এস২৪ আলট্রা লাস্ট দেখা গেছে নিউ মার্কেট কাঁচা বাজারের সামনে, ২ মিনিট আগে, ব্যাটারি ১৫%"। জাদু দুই, কাছে গেলে তীর চিহ্ন দেখায়। আপনার কাছে পিক্সেল ৯, এস২৫ আলট্রা, বা নাথিং ফোন ৩ থাকলে ফোন ২০ মিটারের মধ্যে আসলে আপনার স্ক্রিনে বড় তীর দেখাবে। লেখা থাকবে "৩ মিটার সামনে, ডান দিকে ওই বস্তার নিচে" বা "৫ মিটার পিছনে, বাম দিকে চায়ের দোকানের টেবিলের নিচে" বা "৮ মিটার উপরে, ২ তলার বারান্দায়" বা "১২ মিটার নিচে, বেজমেন্টে"। জাদু তিন, চোর রিসেট দিতে পারবে না। চোর যদি সেটিংসে গিয়ে ফ্যাক্টরি রিসেট দিতে চায়, ফোন সাথে সাথে আপনার জিমেইল আর আঙুলের ছাপ চাইবে। না দিলে রিসেট হবে না। ফোন আটকায় যাবে। চোর বেচতেও পারবে না, ইউজও করতে পারবে না। জাদু চার, নেট ছাড়া ৭ দিনের রাস্তা মনে রাখে।

আরও পড়ুন:বাচ্চার নিরাপত্তার জন্য এয়ারট্যাগ বনাম জিওট্যাগ ২০২৬ কোনটা কিনবেন

 চোর যদি ৭ দিন ফোন বন্ধ রাখে, সিম ভরে না, ওয়াইফাই দেয় না, তারপর ৮ দিনের দিন অন করে, তাহলে অন করার সাথে সাথে গত ৭ দিন চোর কোথায় কোথায় গেছে, কোন দোকানে গেছে, কোন বাসায় গেছে, কোন হোটেলে গেছে, সব মানচিত্রে লাল দাগ দিয়ে দেখায় দিবে। জাদু পাঁচ, লক স্ক্রিনে মেসেজ। আপনি ঘরে বসে ফোন লক করে দিতে পারবেন। আর লক স্ক্রিনে বড় করে লিখতে পারবেন "এই ফোন হারানো গেছে। যে পাবেন দয়া করে এই নাম্বারে কল দিন - ০১৭১...। ফোন ফেরত দিলে ৫০০০ টাকা পুরস্কার দিবো। পুলিশ কেস করা আছে, আইএমইআই ব্লক করা আছে, সিসি ক্যামেরায় আপনার ছবি আছে"। চালু করবেন কিভাবে: আপনার ফোনের সেটিংস এ যান। তারপর গুগল লেখা খুঁজেন। তারপর ফাইন্ড মাই ডিভাইস লেখা। তারপর ইউজ ফাইন্ড মাই ডিভাইস অন করে দেন। আর "স্টোর রিসেন্ট লোকেশন" অন করে দেন। 

আর "অফলাইন ফাইন্ডিং" অন করে দেন। টাকা লাগে: এক টাকাও না স্যার, ১০০% ফ্রি। ২০২৬ এর আসল ঘটনা: মার্চ মাসে গুলশানে এক আপুর আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স উবার থেকে নামার সময় সিটে পড়ে যায়। ড্রাইভার ফোন পেয়ে সাথে সাথে বন্ধ করে দেয়। আপু ভাবছে ফোন শেষ। ২ দিন পর হঠাৎ আপুর ল্যাপটপে নোটিফিকেশন আসে। মানচিত্র খুলে দেখে ফোন বাড্ডা লিংক রোডের এক চায়ের দোকানের সামনে। কারণ ওই দোকানের সামনে দিয়ে একটা ছেলে হাঁটতেছিল, তার পকেটে রেডমি ফোন ছিল। ওই রেডমি ফোন সিগন্যাল ধরে ফেলছে। আপু পুলিশ নিয়ে গিয়ে দোকান থেকে ফোন নিয়ে আসছে। দোকানদার বলছে এক লোক চা খেয়ে ফোন টেবিলে রেখে গেছে।

লাইফ৩৬০ ২০২৬ ফ্যামিলির জন্য পাঁচটি জীবন বাঁচানো সুবিধা আছে

২০২৬ এ বাংলাদেশে ৩০ লাখ পরিবার লাইফ৩৬০ চালায় স্যার। কেন চালায়? কারণ এটাতে ৫টা জিনিস আছে যা আসলেই জীবন বাঁচায়। নাম্বার দিয়ে লোকেশন বের করার অ্যাপ ৬০ আসল তথ্য ২০২৬ এর আসল সিস্টেম এটাই। সুবিধা এক: বিপদের বাটন। ধরেন আপনার মেয়ে রাত ৯টায় কোচিং থেকে বাসায় আসতেছে। রাস্তা অন্ধকার। হঠাৎ ২টা খারাপ লোক তার পথ আটকায়। আপনার মেয়ে কি করবে? সে শুধু ফোনের পাওয়ার বাটন ৫ বার টিপ দিবে। সাথে সাথে তার ফোনের সামনের ক্যামেরা আর পিছনের ক্যামেরা দুইটাই অন হয়ে ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও তুলবে। তার লাইভ লোকেশন, ফোনে কত চার্জ, সে হাঁটতেছে নাকি দৌড়াচ্ছে – সব তথ্য আপনার ফোনে, আপনার জামাইর ফোনে, বড় ছেলের ফোনে, আর ৯৯৯ পুলিশের কাছে চলে যাবে। পুলিশ ৫ মিনিটে ওই জায়গায় পৌঁছায় যাবে।

 সুবিধা দুই: গাড়ি এক্সিডেন্ট ধরতে পারে। আপনার ছেলে নতুন বাইক কিনছে। আল্লাহ না করুক, রাত ১২টায় ৩০০ ফিট রাস্তায় এক্সিডেন্ট করলো। ফোনের ভিতর জাইরোস্কোপ আর অ্যাক্সেলেরোমিটার সেন্সর আছে। জোরে ধাক্কা খেলে ফোন বুঝে যায় এক্সিডেন্ট হইছে। ১০ সেকেন্ডের মধ্যে আপনার ফোনে কল আসবে "আপনার ছেলে রাফি এক্সিডেন্ট করছে"। সাথে মানচিত্রে দেখাবে কোন রাস্তায়, পাশে কোন হাসপাতাল আছে, অ্যাম্বুলেন্স নাম্বার কত। সুবিধা তিন: খারাপ রাস্তা চিনায় দেয়। অ্যাপের মানচিত্রে রাস্তাগুলা রং করা থাকে। সবুজ রং মানে সেফ রাস্তা। লাল রং মানে খারাপ রাস্তা। লাল রাস্তায় টাচ করলে লেখা আসবে "এই রাস্তায় গত ৩০ দিনে ৫টা ছিনতাই হইছে"। সুবিধা চার: দাদু-নানুর জন্য।

 আপনার আব্বার বয়স ৭০ বছর। মাঝে মাঝে রাস্তা ভুলে যায়। আপনি মানচিত্রে বাসার চারপাশে ৫০০ মিটারের একটা গোল দাগ দিয়ে দিবেন। উনি যদি ওই দাগের বাইরে চলে যায়, সাথে সাথে আপনার ফোনে কল আসবে "আব্বা বাসার সীমানার বাইরে চলে গেছে"। সুবিধা পাঁচ: বাচ্চার ফোনের রিপোর্ট। আপনার মেয়ে দিনে কয় ঘণ্টা ইউটিউব দেখে, রাত ১২টায় টিকটক চালায় কিনা, কয়টায় ঘুমায় – সব রিপোর্ট সকালে আপনার ফোনে চলে আসবে। চার্জ খায়: মাত্র ১.৮%। কোথায় পাবেন: প্লে স্টোর এ লাইফ৩৬০ লিখে সার্চ দেন, ফ্রি। সাবধান ২০২৬: টেলিগ্রামে "লাইফ৩৬০ প্রিমিয়াম হ্যাক ২০২৬.এপিকে" নামালে বাসার সব তথ্য চোরের কাছে যাবে।

ট্রুকলার ২০২৬ লোকেশন দেয় না শুধু বাটপার কল ধরে

স্যার, ট্রুকলার নিয়ে সবার একটা ভুল ধারণা আছে। সবাই ভাবে ট্রুকলার দিয়ে নাম্বার দিলেই বাসার ঠিকানা বের হয়। এইটা ১০০% মিথ্যা কথা। নাম্বার দিয়ে লোকেশন বের করার অ্যাপ ৬০ আসল তথ্য ২০২৬ এর ৫ নম্বর সত্য হলো ট্রুকলার কখনো লাইভ লোকেশন দেয় না। ২০২৬ সালেও দেয় না, ২০৩০ সালেও দিবে না। কোম্পানির মালিক অ্যালান মামেডি নিজে টুইটারে বড় করে লিখছে "উই উইল নেভার শেয়ার লাইভ লোকেশন। ইটস অ্যাগেইনস্ট আওয়ার প্রাইভেসি পলিসি। উই ডু নট সেল ইউজার ডাটা"। মানে "আমরা কখনো লাইভ লোকেশন দিবো না। এটা আমাদের প্রাইভেসি নিয়মের বিরুদ্ধে। আমরা মানুষের তথ্য বিক্রি করি না"। এখন প্রশ্ন হলো তাহলে ট্রুকলার ২০২৬ এ নতুন কি করতেছে? এক নম্বর, বাটপারের গলা চিনে ফেলে।

 আগে শুধু নাম্বার ব্লক করতো। এখন কথা শুনে বাটপার ধরে। কিভাবে? ধরেন আপনাকে কল আসলো। "হ্যালো আমি বিকাশের হেড অফিস থেকে বলছি, আপনার একাউন্ট ২ ঘণ্টা পর বন্ধ হয়ে যাবে। আপনি এখনই ওটিপি দিন, না হলে ৫০ হাজার টাকা কাটা যাবে"। এই কথা শুনলেই ট্রুকলার এর এআই বুঝে যায় এটা বাটপার। সাথে সাথে কল কেটে দিবে। তারপর লাল রং দিয়ে স্ক্রিনে লিখবে "স্ক্যাম কল ব্লকড। বিকাশ কখনো ফোন দিয়ে ওটিপি চায় না। বিকাশ কখনো একাউন্ট বন্ধ করার ভয় দেখায় না"। *দুই নম্বর, সরকারি নাম্বার চিনায় দেয়।৯৯৯, ৩৩৩, দুদক ১০৬, বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস, নির্বাচন কমিশন, ভূমি অফিস, সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, ডেসকো, তিতাস – এই সব নাম্বারের পাশে নীল টিক চিহ্ন থাকে। যাতে আপনি বুঝেন এটা আসল সরকারি অফিস, বাটপার না। আগে অনেক বাটপার ৯৯৯ নাম্বার নকল করে কল দিতো। এখন আর পারবে না। 

তিন নম্বর, এলাকার বাটপারের মানচিত্র। অ্যাপ খুললে দেখাবে "আপনার মিরপুর এলাকায় আজকে ১২০০টা বাটপারি কল আসছে, আমরা সব ব্লক করছি। আপনার এলাকা এখন ৯৫% সেফ। আপনার পাশের এলাকা মোহাম্মদপুরে ৮০০টা বাটপারি কল আসছে"। *চার নম্বর, এনআইডি চেক করে। অচেনা নাম্বার থেকে বিকাশে টাকা চাইলে, বা নগদে টাকা চাইলে, বা রকেটে টাকা চাইলে, ট্রুকলার বলে দিবে এই নাম্বারটা কোনো এনআইডি দিয়ে খোলা, নাকি ফেক এনআইডি দিয়ে খোলা, নাকি ১০টা সিম এক এনআইডি দিয়ে খোলা। যদি দেখেন ১টা এনআইডি দিয়ে ১৫টা সিম, তাহলে বুঝবেন এটা বাটপার গ্যাং। *পাঁচ নম্বর, স্প্যাম মেসেজ ব্লক।"আপনি ৫ লাখ টাকা লটারি জিতছেন", "সৌদি থেকে শেখ আপনার জন্য টাকা পাঠাইছে", "আপনার নামে ১০ কেজি স্বর্ণ আসছে", "আপনার ছেলে দুবাইতে এক্সিডেন্ট করছে" – এই সব মেসেজ অটো স্প্যাম বক্সে চলে যাবে। আপনি দেখতেও পাবেন না।

 মিথ্যা ভিডিও: টিকটকে ১ কোটি ভিউয়ের ভিডিও আছে। নাম "ট্রুকলার দিয়ে প্রেমিকার বাসার ঠিকানা বের করলাম, তারপর গিয়ে প্রপোজ করলাম"। ভিডিওতে দেখায় ছেলে ফোনে নাম্বার দিলো। সাথে সাথে মানচিত্রে লাল ফোঁটা। লেখা "গুলশান ২, রোড ৪৪, বাসা ১২"। তারপর ছেলে গিয়ে বেল বাজায়। মেয়ে দরজা খুলে। স্যার, এই ভিডিও ১০০% এডিট করা। স্ক্রিন রেকর্ড করে পরে কম্পিউটারে এডিট করছে। ট্রুকলার শুধু দেখায় "নাম: সুমন মিয়া, কোম্পানি: গ্রামীণফোন, জেলা: কুমিল্লা, ট্যাগ: ২০০ জন স্প্যাম বলছে, ৫০ জন বাটপার বলছে"। কুমিল্লা জেলা, কুমিল্লার কোন বাসা, কোন গ্রাম, কোন ইউনিয়ন, কোন পোস্ট অফিস সেটা দেখায় না। নাম্বার দিয়ে লোকেশন বের করার অ্যাপ ৬০ আসল তথ্য ২০২৬ এর নিয়ম: ট্রুকলার নামান বাটপার থেকে বাঁচার জন্য, টাকা বাঁচানোর জন্য, মানসিক শান্তির জন্য। কারো প্রাইভেসি নষ্ট করার জন্য না। কারো বাসা খোঁজার জন্য না। কারো পিছে লাগার জন্য না।

এমস্পাই ফ্লেক্সিস্পাই ২০২৬ বাংলাদেশে বন্ধ এয়ারপোর্টে ধরে ফেলবে

১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাংলাদেশ সরকার নতুন নিয়ম করছে স্যার। নাম "স্টকারওয়্যার প্রহিবিশন পলিসি ২০২৬"। এই নিয়মে এমস্পাই, ফ্লেক্সিস্পাই, ইউমোবিক্স, কোকোস্পাই, স্পাইজি, আইকিমনিটর, হোভারওয়াচ, দ্য ট্রুথস্পাই, মোবিস্টেলথ, হাইস্টার মোবাইল, স্পাইবাবল, এমোবাইল ট্র্যাকার, সেল ট্র্যাকার, গেস্টস্পাই, ফোনস্পাই, নেটস্পাই, ওয়াচার স্পাই সহ ১৭টা চোরাই অ্যাপের ওয়েবসাইট বাংলাদেশে বন্ধ। আপনি ভিপিএন দিয়ে ওই সাইটে ঢুকতে গেলেও আপনার নাম, এনআইডি নাম্বার, পাসপোর্ট নাম্বার, আইপি অ্যাড্রেস, ম্যাক অ্যাড্রেস বিএফআইইউ মানে বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট আর র‍্যাব-১৫ এর কম্পিউটারে চলে যাবে। শাস্তি কি কি শুনেন: এক, ২৫ লাখ টাকা জরিমানা। ক্যাশ দিতে হবে। কিস্তি নাই। দুই, ১০ বছর জেল, এই মামলায় জামিন নাই, হাইকোর্ট থেকেও জামিন নাই, সুপ্রিম কোর্ট থেকেও নাই। 

তিন, ৫ বছরের জন্য বিদেশ যাওয়া বন্ধ। হজ্বে যেতে পারবেন না, ইন্ডিয়া ডাক্তার দেখাতে যেতে পারবেন না, মালয়েশিয়া ঘুরতে যেতে পারবেন না, সৌদি ওমরাহ করতে যেতে পারবেন না, দুবাই বিজনেস করতে যেতে পারবেন না, আমেরিকা ছেলে-মেয়ের কাছে যেতে পারবেন না। চার, সরকারি চাকরি, ব্যাংকের চাকরি, স্কুল-কলেজের চাকরি, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, ইউনিভার্সিটির টিচার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, সাংবাদিক – সব সাথে সাথে চলে যাবে। পেনশনও পাবেন না, গ্র্যাচুইটিও পাবেন না, প্রভিডেন্ট ফান্ডও পাবেন না। পাঁচ, নতুন লোন, ক্রেডিট কার্ড, কিস্তিতে ফ্রিজ-টিভি-মোবাইল-বাইক-গাড়ি-ফ্ল্যাট কেনা – সব বন্ধ। জীবন শেষ হয়ে যাবে। দাম কত: এখন ৭৯.৯৯ ডলার, মানে ৯৪০০ টাকা। আগে ২৯.৯৯ ডলার ছিল। কেন কিনবেন না: এক, ৯৪০০ টাকা পানিতে যাবে। দুই, ২ দিন পর ফোন স্লো হবে, যার ফোনে লাগাইছেন সে বুঝে যাবে। তিন, এমস্পাই কোম্পানি নিজেই ২০২৫ এ হ্যাক হইছিল। 

আরও পড়ুন:হারানো ফোন খোঁজার ৫টি সরকারি নিয়ম ২০২৬ জিডি কিভাবে করবেন  

২ লাখ মানুষের ব্যাংক কার্ডের নাম্বার, সিভিভি, পাসওয়ার্ড, জিমেইল পাসওয়ার্ড, ফেসবুক পাসওয়ার্ড, ছবি, ভিডিও চুরি হয়ে গেছিল। চার, এই অ্যাপ ফোনের ৪০% চার্জ খায়। সকালে ১০০% চার্জ দিলে বিকাল ৩টায় ১০% হয়ে যায়। *২০২৬ এর ঘটনা: এপ্রিল মাসে এক ভাই সৌদি আরব থেকে ২ বছর পর ছুটিতে দেশে আসে। নাম করিম শেখ, বয়স ৩৫ বছর, পেশা ড্রাইভার। ঢাকা এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট স্ক্যান করতেই লাল বাতি জ্বলে উঠছে। কারণ ৬ মাস আগে সে দুবাইতে বসে বউয়ের ফোনে এমস্পাই কিনছিল। ভেবেছিল বউ কি করে দেখবে। র‍্যাব তাকে এয়ারপোর্ট থেকেই হাতকড়া পরায়া নিয়ে গেছে। এখন কাশিমপুর জেলে আছে। বউ তালাক দিয়ে দিছে। ২টা বাচ্চা এতিম হয়ে গেছে। *নাম্বার দিয়ে লোকেশন বের করার অ্যাপ ৬০ আসল তথ্য ২০২৬* এর কথা: টাকা দিয়ে জেল কিনবেন না।

২০২৬ সালের পাঁচটি লোকেশন বাটপারি বাঁচার পাঁচটি উপায়

 ২০২৬ এ বাটপাররা বাটপারি ১: এআই নকল ভিডিও কল। বাটপার আপনার ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টিকটক থেকে আপনার আব্বুর ৫ সেকেন্ডের ভিডিও নামায়। অথবা আপনার মায়ের, আপনার বউয়ের, আপনার ছেলের, আপনার মেয়ের। তারপর কম্পিউটারে হেইজেন বা সিনথেসিয়া বা ডি-আইডি নামে সফটওয়্যার এ ঢুকায়। ২ মিনিটে আপনার আব্বুর চেহারা আর গলা ১০০% নকল হয়ে যায়। তারপর আপনাকে হোয়াটসঅ্যাপ এ ভিডিও কল দেয়। ব্যাকগ্রাউন্ডে ফটোশপ করা গুগল মানচিত্র দেখায় "স্কয়ার হাসপাতাল ইমারজেন্সি ওয়ার্ড" বা "ইউনাইটেড হাসপাতাল আইসিইউ" বা "এভারকেয়ার হাসপাতাল ওটি"। কান্না করে বলে "বাবা আমি বাইক এক্সিডেন্ট করছি, ডাক্তার ৩ লাখ টাকা এখনই বিকাশ করতে বলছে, না হলে পা কেটে ফেলবে" বা "মা আমি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে, ৫ লাখ টাকা লাগবে ডায়ালাইসিস এর জন্য"। 
নাম্বার-দিয়ে-লোকেশন-বের-করার-অ্যাপ-৬০-আসল-তথ্য-২০২৬
বাঁচার উপায়: "ডান হাতের ৩ আঙুল দেখান, তারপর বাম কান ধরেন, তারপর নাক চুলকান, তারপর জিভ বের করেন" বলবেন। আসল মানুষ সহজে পারবে। নকল ভিডিও পারবে না। হাত নাকের ভিতর ঢুকে যাবে, বা ছবি ভেঙে যাবে, বা হাত ৬ আঙুল হয়ে যাবে, বা জিভ নাক থেকে বের হবে। বাটপারি ২: কিউআর কোড।* হোয়াটসঅ্যাপ এ মেসেজ আসবে "বিটিআরসি এর নতুন সেবা। এই কিউআর স্ক্যান করে হারানো ফোনের লোকেশন খুলুন, আইএমইআই দিয়ে ট্র্যাক করুন, চোর ধরুন"। বাঁচবেন: সরকার কখনো কিউআর দিয়ে সার্ভিস দেয় না। কিউআর স্ক্যান করলেই আপনার ফোন বাটপারের হাতে চলে যাবে। আপনার বিকাশ, নগদ, রকেট, ব্যাংক অ্যাপ সব হ্যাক হয়ে যাবে। ৫ মিনিটে একাউন্ট খালি। বাটপারি ৩: নকল পুলিশ। +৮৮০১৫৫..., +৮৮০১৯১..., +৮৮০১৬১... থেকে কল আসবে। বলবে "আমি ডিবি থেকে বলছি, আপনার নামে জিডি আছে। লোকেশন ভেরিফাই করতে ওটিপি দিন, এনআইডি নাম্বার দিন, মায়ের নাম বলুন"। 

বাঁচবেন: পুলিশের নাম্বার ৯৯৯। ০১৫৫, ০১৯১১, ০১৬১ দিয়ে শুরু হয় না। আর পুলিশ কখনো ওটিপি চায় না, এনআইডি চায় না, মায়ের নাম চায় না। পুলিশ ডাকলে থানায় যেতে বলে, বাসায় আসে। বাটপারি ৪: ফেসবুক পাতা। নাম "বিডি পুলিশ লোকেশন ফাইন্ডার ২০২৬", "ডিবি নাম্বার ট্র্যাকার", "র‍্যাব লোকেশন সার্ভিস", "সিআইডি ফোন ট্র্যাক"। ৫০ হাজার লাইক, কমেন্টে ২০০ জন লিখছে "ভাই আমার কাজ হইছে, ধন্যবাদ স্যার, ১০০% আসল, আমার হারানো ফোন পাইছি"। বাঁচবেন: পুলিশের সব কাজ ফ্রি। যে টাকা চায় সে বাটপার। আসল পুলিশের পাতায় নীল টিক থাকে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার এর পেজ চেক করেন। বাটপারি ৫: এপিকে ফাইল। "নাম্বার ট্র্যাকার ২০২৬.এপিকে", "জিপিএস ফোন লোকেটর প্রো.এপিকে", "লাইভ লোকেশন ফাইন্ডার.এপিকে" নামে ফাইল দিবে। বলবে "এইটা প্লে স্টোর এ নাই, আমার কাছে আছে, স্পেশাল ভার্সন"। বাঁচবেন: প্লে স্টোর এর বাইরে থেকে কোনো অ্যাপ নামাবেন না। নামালেই ভাইরাস ঢুকবে। আপনার ছবি, ভিডিও, ব্যাংক তথ্য সব চুরি হয়ে যাবে।

পুলিশ আইএমইআই দিয়ে ফোন খোঁজে ২০২৬ অনলাইন জিডি থেকে

ফোন হারালে বা চুরি হলে কান্না না করে এই কাজ করেন। ১০০% ফোন ফেরত পাবেন। ধাপ ১: ফোনের আইএমইআই নাম্বার বের করেন। ফোনের বক্সের গায়ে লেখা থাকে। বক্স না থাকলে ফোনে #০৬# ডায়াল করেন। ২টা সিম থাকলে ২টা আইএমইআই আসবে। ২টাই খাতায় লিখে রাখেন। ছবি তুলে গুগল ড্রাইভে রাখেন। ইমেইলে নিজেকে পাঠায় রাখেন। ধাপ ২: কম্পিউটার বা অন্য ফোনে `gd.police.gov.bd` ওয়েবসাইটে যান। এনআইডি নাম্বার আর আপনার মোবাইল নাম্বার দিয়ে লগইন করেন। ওটিপি আসবে। "নতুন জিডি" তে ক্লিক করেন। তারপর "হারানো/চুরি" সিলেক্ট করেন। তারপর "মোবাইল ফোন" সিলেক্ট করেন। এখন একটা ফর্ম আসবে। ওখানে আইএমইআই নাম্বার ২টা বসাবেন। ফোনের মডেল লিখবেন যেমন স্যামসাং এস২৪ আলট্রা, আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, শাওমি রেডমি নোট ১৩ প্রো, ভিভো ভি৩০। 

ফোনের রং লিখবেন কালো, নীল, সাদা, সবুজ, গোল্ড। কোথায় হারাইছে লিখবেন যেমন নিউ মার্কেট কাঁচা বাজার, গুলশান ২ ডিসিসি মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক। কয়টায় হারাইছে লিখবেন যেমন বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট, রাত ৮টা। চোরের চেহারা মনে থাকলে লিখবেন – বয়স কত, গায়ের রং কেমন, কি ড্রেস পরা, মুখে দাড়ি আছে নাকি নাই। সব লিখে সাবমিট করেন। সাথে সাথে পিডিএফ ডাউনলোড হয়ে যাবে। ওই পিডিএফ প্রিন্ট করে রাখেন। ধাপ :* জিডি করার ৫ মিনিটের মধ্যে আপনার ফোনের আইএমইআই বিটিআরসি এর সিইআইআর সার্ভারে চলে যাবে। সিইআইআর মানে সেন্ট্রাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার। এই সার্ভারে আপনার আইএমইআই "ব্ল্যাকলিস্টেড" হয়ে যাবে। এরপর চোর নতুন সিম ভরলেও নেট পাবে না। 

গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, টেলিটক – কোনো কোম্পানির নেট পাবে না। কল যাবে না, আসবে না। ইন্টারনেট চলবে না। ফোনটা লোহা হয়ে যাবে, ইট হয়ে যাবে, খেলনা হয়ে যাবে। *ধাপ ৪:* চোর যদি বোকা হয়, ওয়াইফাই অন করে। অথবা অন্য দেশের সিম ভরে। তখন বিটিআরসি ১০ মিনিটের মধ্যে টাওয়ার লোকেশন পেয়ে যায়। ২০২৬ এ নতুন মেশিন আসছে। নাম "ট্রায়াঙ্গুলেশন ২.০"। আগে ৫০০ মিটার বলতো। এখন ৫০-১০০ মিটারের মধ্যে বলে দেয় ফোন কোথায়। মানে ৩টা বিল্ডিং এর মধ্যে কোন বিল্ডিং এ আছে, কোন তলায় আছে, কোন রুমে আছে বলে দেয়। ধাপ ৫: লোকেশন পাওয়ার পর থানার ডিউটি অফিসার আপনাকে ফোন দিবে। 

বলবে "স্যার, আপনার ফোনের লোকেশন পাইছি। আপনি থানায় আসেন"। আপনি থানায় গেলে ২ জন পুলিশ সাথে নিয়ে ওই বাসায় বা দোকানে হানা দিবে। সময় কত লাগে: ঢাকা শহরে ১-৩ দিন। চোর যদি ফোন অন করে তাহলে ২৪ ঘণ্টায় পেয়ে যাবেন। জেলা শহরে ৭-১৫ দিন। গ্রামে ১৫-৩০ দিন। *টাকা লাগে: এক টাকাও না স্যার। ১০০% ফ্রি। মিথ্যা কথা: "ডিবি পুলিশকে ১৫ হাজার টাকা দিলে ১ দিনে ফোন এনে দেয়", "সিআইডি ২০ হাজার নেয়", "র‍্যাব ৩০ হাজার নেয়"। কেউ টাকা চাইলে সাথে সাথে ডিএমপি কমিশনার অফিসে ০১৩২০-০১০০০০ নাম্বারে ফোন দিয়ে অভিযোগ দিবেন। নাম্বার দিয়ে লোকেশন বের করার অ্যাপ ৬০ আসল তথ্য ২০২৬ এর কথা: দালাল ধরবেন না, নিজে জিডি করেন।

এয়ারট্যাগ ২ জিওট্যাগ প্রো ২০২৬ বাচ্চা বয়স্কদের জন্য কোনটা ভালো

স্যার, বাচ্চা হারায় যায়, দাদু-নানু রাস্তা ভুলে যায়, আলঝেইমার রোগী বাসা চিনে না, অটিস্টিক বাচ্চা হঠাৎ দৌড় দেয় – এই টেনশনের সমাধান হলো এয়ারট্যাগ আর জিওট্যাগ। *অ্যাপল এয়ারট্যাগ ২ ২০২৬:* দাম ৩৫০০ টাকা। সাইজ একটা ১০ টাকার কয়েনের সমান। ওজনে হালকা, ১১ গ্রাম। নতুন ইউ২ চিপ আছে। এটা দিয়ে কি হয় শুনেন। ধরেন আপনার ৫ বছরের বাচ্চার স্কুল ব্যাগে এয়ারট্যাগ ভরে দিলেন। স্কুল ছুটির পর বাচ্চা খেলতে গিয়ে ব্যাগ মাঠে ফেলে আসছে। আপনি আইফোন ১৫ নিয়ে মাঠে গেলেন। ৩০ মিটার দূর থেকে আপনার ফোনে তীর চিহ্ন দেখাবে। লেখা থাকবে "১২ মিটার সামনে, বাম দিকে ঘাসের উপর" বা "৫ মিটার পিছনে, ডান দিকে বেঞ্চের নিচে" বা "৮ মিটার উপরে, গাছের ডালে"।

 আপনি তীর ধরে হাঁটতে থাকবেন। ব্যাগের কাছে গেলে এয়ারট্যাগ পিঁ পিঁ করে আওয়াজ করবে। ব্যাটারি ১৮ মাস যায়। সিআর২০৩২ ব্যাটারি, ১০০ টাকা দাম, যেকোনো ঘড়ির দোকানে পাওয়া যায়। পানিতে পড়লে নষ্ট হয় না। আইপি৬৮ মানে ১ মিটার পানির নিচে ৩০ মিনিট থাকতে পারে। আওয়াজ ৯০ডিবি, মানে বাসের হর্নের মতো জোরে। জিওট্যাগ প্রো ২০২৬: দাম ১৮০০ টাকা। এটার আওয়াজ এয়ারট্যাগ এর চেয়েও জোরে, ৯৫ডিবি। ক্লাসে বাজালে পুরা স্কুল শুনবে। গুগল এর ফাইন্ড মাই ডিভাইস নেটওয়ার্ক ইউজ করে। তাই অ্যান্ড্রয়েড ৯ এর উপরের সব ফোনে চলে। স্যামসাং, শাওমি, ভিভো, অপো, রিয়েলমি, ওয়ানপ্লাস, মটোরোলা, নোকিয়া সব চলবে। এর একটা বড় সুবিধা আছে। গায়ে একটা বাটন আছে। আপনার দাদুর বয়স ৮০ বছর। উনি একা একা নামাজ পড়তে মসজিদে যায়। রাস্তায় পড়ে গেল। 

মাথা ঘুরে গেল। প্রেসার বেড়ে গেল। উনি শুধু বাটনটা চাপ দিবে। সাথে সাথে আপনার ফোনে কল আসবে "ইমারজেন্সি! দাদু বিপদে পড়ছে"। সাথে মানচিত্রে দেখাবে দাদু কোন গলিতে পড়ে আছে। ব্যাটারি ১২ মাস যায়। কোনটা কিনবেন:আপনার বাসায় আইফোন বেশি থাকলে এয়ারট্যাগ ২ কিনেন। কারণ তীর চিহ্নটা আইফোনে ভালো কাজ করে। বাসায় অ্যান্ড্রয়েড ফোন বেশি থাকলে জিওট্যাগ প্রো কিনেন। দামও কম, আওয়াজও বেশি, বাটনও আছে। আইন ২০২৬: ১২ বছরের নিচে বাচ্চা, ৬৫+ বয়স্ক মানুষ, বা মানসিক রোগী, আলঝেইমার রোগী, ডিমেনশিয়া রোগী, অটিস্টিক বাচ্চা – এদের ব্যাগে, জুতায়, হাতের ঘড়িতে, গলার লকেটে, বেল্টে বাসার লোক এয়ারট্যাগ লাগাতে পারবে।

আরও পড়ুন: ট্রুকলার দিয়ে বাটপার কল বন্ধ করার ৩টি সেটিংস ২০২৬

এটা আইনে ঠিক আছে। কারণ এটা "সেফটির জন্য", "জীবন বাঁচানোর জন্য", "হারানো থেকে বাঁচানোর জন্য"। কিন্তু আপনি যদি আপনার বউয়ের ভ্যানিটি ব্যাগে লুকায়া লাগান, জামাইর গাড়ির সিটের নিচে লাগান, অফিসের স্টাফের ল্যাপটপ ব্যাগে লাগান, প্রেমিকার ব্যাগে লাগান, তাহলে ৫ বছর জেল। কারণ ১৮ বছরের উপরের মানুষের অনুমতি ছাড়া ট্র্যাক করা আইনে মানা। এটা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৬ ধারা। *নাম্বার দিয়ে লোকেশন বের করার অ্যাপ ৬০ আসল তথ্য ২০২৬* এর পরামর্শ: বাচ্চা আর বয়স্কদের জন্য কিনেন, সন্দেহ করে বউ-জামাইকে ট্র্যাক কইরেন না। জেল খাটবেন।

২০২৬ এর তিনটি অ্যাপ চার্জ খায় মাত্র দুই পার্সেন্ট

স্যার, আগে লোকেশন শেয়ার করলে ফোনের চার্জ পানি হয়ে যেত। ৬ ঘণ্টায় ২০% চার্জ শেষ। ১২ ঘণ্টায় ৪০% শেষ। সারাদিন চার্জার নিয়ে ঘুরতে হতো। পাওয়ার ব্যাংক লাগতো। ২০২৬ এ অ্যান্ড্রয়েড ১৫ আর আইওএস ১৯ আসার পর সব চেঞ্জ। এখন ৩টা অ্যাপ আছে যা ২৪ ঘণ্টা চললেও মাত্র ২% চার্জ খায়। ১. গুগল মানচিত্র ২০২৬: নতুন "ইকো লাইভ শেয়ারিং" মোড আছে। এইটা কিভাবে কাজ করে শুনেন। আপনি হাঁটতেছেন। ফোন বুঝে যাবে আপনি হাঁটতেছেন। স্পিড ৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা। তখন ৫ মিনিট পর পর লোকেশন পাঠাবে। কারণ হাঁটলে ৫ মিনিটে ৫০০ মিটার যান। আপনি রিকশায় উঠলেন। ফোন বুঝবে স্পিড ১৫ কিমি। তখন ২ মিনিট পর পর লোকেশন পাঠাবে। আপনি বাসে উঠলেন। স্পিড ৪০ কিমি। তখন ৩০ সেকেন্ড পর পর পাঠাবে। আপনি গাড়িতে উঠলেন।স্পিড ৮০ কিমি। তখন ১০ সেকেন্ড পর পর পাঠাবে। আপনি বাসায় বসে আছেন। স্পিড ০ কিমি। তখন ৩০ মিনিট পর পর পাঠাবে। মানে দরকার না হলে জিপিএস অন করে না।

 তাই ২৪ ঘণ্টা লোকেশন শেয়ার করলেও চার্জ যায় মাত্র ১.৯%। ২. হোয়াটসঅ্যাপ ২০২৬:* লাইভ লোকেশন এখন ৭ দিন দেওয়া যায়। আগে ছিল ৮ ঘণ্টা। নতুন "শেয়ার ওয়ান্স" ফিচার আসছে। মানে আপনি কাউকে লোকেশন পাঠালেন। সে একবার দেখার পর লোকেশন অটো মুছে যাবে। স্ক্রিনশট নিলেও আপনাকে নোটিফিকেশন দিবে "করিম আপনার লোকেশনের স্ক্রিনশট নিছে"। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড মানে আপনার লোকেশন হোয়াটসঅ্যাপ কোম্পানিও দেখে না। শুধু আপনি আর যাকে পাঠাইছেন সে দেখে। চার্জ যায় ১.২%। ৩. লাইফ৩৬০ ২০২৬: "এআই স্লিপ মোড ২.০" আছে। রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত আপনি যদি না নড়েন, বিছানা থেকে না উঠেন, ফোন জিপিএস, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ, মোবাইল ডাটা সব বন্ধ করে দেয়।

 শুধু অ্যাক্সেলেরোমিটার অন রাখে। আপনি বিছানা থেকে নামলেই ২ সেকেন্ডে সব চালু হয়ে যায়। তাই রাতে চার্জ খায় না। ২৪ ঘণ্টায় চার্জ যায় ২.৪%। *যা নামাবেন না স্যার:* "জিপিএস ব্যাটারি সেভার ২০২৬", "লোকেশন বুস্টার ম্যাক্স", "আলট্রা জিপিএস ফিক্স", "ব্যাটারি সেভার প্রো", "জিপিএস ডক্টর" – এই নামে প্লে স্টোর এ যা আছে সব ফালতু। এরা উল্টা ৪০% চার্জ খায়। কারণ ব্যাকগ্রাউন্ডে বিটকয়েন মাইনিং চালায়। আর আপনার সব তথ্য – ছবি, ভিডিও, কন্টাক্ট, মেসেজ, ব্যাংক অ্যাপের ডাটা, পাসওয়ার্ড – চুরি করে চীনের সার্ভারে পাঠায়। অ্যাপ নামানোর আগে দেখবেন কে বানাইছে। ডেভেলপার এর নাম গুগল এলএলসি, মেটা প্ল্যাটফর্মস, লাইফ৩৬০ ইনক লেখা থাকলে নামাবেন। অন্য নাম যেমন "সুপার কুল অ্যাপস বিডি", "ঢাকা ডেভেলপার", "বাংলা অ্যাপ স্টোর", "ফ্রি অ্যাপ হাউস" দেখলে নামাবেন না।

এআই নকল ভিডিও লোকেশন বাটপারি ২০২৬ ধরার পাঁচ উপায়

স্যার, ২০২৬ এর সবচেয়ে বড় বাটপারি হলো এআই নকল ভিডিও। আগে বাটপার ফোন দিতো। এখন ভিডিও কল দেয়। চেহারা দেখায়, গলা শুনায়। *কিভাবে বানায় শুনেন:* বাটপার আপনার ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব থেকে আপনার আব্বুর ৫ সেকেন্ডের ভিডিও নামায়। অথবা আপনার মায়ের, আপনার বউয়ের, আপনার ছেলের, আপনার মেয়ের, আপনার ভাইয়ের। তারপর কম্পিউটারে হেইজেন বা সিনথেসিয়া বা ডি-আইডি বা মিডজার্নি ভিডিও নামে সফটওয়্যার এ ঢুকায়। ২ মিনিটে আপনার আব্বুর চেহারা আর গলা ১০০% নকল হয়ে যায়। তারপর আপনাকে হোয়াটসঅ্যাপ এ ভিডিও কল দেয়। ব্যাকগ্রাউন্ডে ফটোশপ করা গুগল মানচিত্র দেখায় 

"স্কয়ার হাসপাতাল ইমারজেন্সি ওয়ার্ড" বা "ইউনাইটেড হাসপাতাল আইসিইউ" বা "এভারকেয়ার হাসপাতাল ওটি" বা "ঢাকা মেডিকেল বার্ন ইউনিট"। কান্না করে বলে "বাবা আমি বাইক এক্সিডেন্ট করছি, ডাক্তার ৩ লাখ টাকা এখনই বিকাশ করতে বলছে, না হলে পা কেটে ফেলবে" বা "মা আমি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে, ৫ লাখ টাকা লাগবে ডায়ালাইসিস এর জন্য" বা "ভাই আমি পুলিশ ধরছে, ২ লাখ টাকা দিলে ছেড়ে দিবে"। ধরবেন কিভাবে:উপায় ১: চোখের পাতা গুনেন। আসল মানুষ ১ মিনিটে ১৫-২০ বার চোখের পাতা ফেলে। নকল ভিডিও ১ মিনিটে ২-৩ বার ফেলে, বা একদমই ফেলে না, বা ৫০ বার ফেলে। ভিডিও কল ধরেই ১০ সেকেন্ড চুপ করে চোখ দেখেন। *উপায় ২: হাত-মুখ মিলান।* "নাকের বাম পাশ

শেষ কথা ২০২৬ তিনটি অ্যাপ রাখুন বাকি সব ফেলে দিন

এতক্ষণ যা বললাম তার সারমর্ম হলো ৩টা কথা। নাম্বার দিয়ে লোকেশন বের করার অ্যাপ ৬০ আসল তথ্য ২০২৬ এর শেষ কথা এটাই। এক নম্বর কথা: নাম্বার দিয়ে লোকেশন বের হয় না। ২০২৬ সালেও হয় না। কেউ যদি বলে "৫০০ টাকা দেন, নাম্বার দিয়ে বাসা দেখায় দিবো", সাথে সাথে ব্লক করেন। কারণ এটা আইনে নিষেধ। আপনার অনুমতি ছাড়া কেউ লোকেশন নিলে তার ১০ বছর জেল, ২৫ লাখ টাকা জরিমানা। পুলিশও আদালতের কাগজ ছাড়া ট্র্যাক করে না। তাই বাটপারের পাল্লায় পড়ে টাকা নষ্ট কইরেন না, জেল খাইয়েন না।দুই নম্বর কথা: ফোনে মাত্র ৩টা অ্যাপ রাখবেন। প্রথমটা নিজের ফোনের জন্য – গুগল ফাইন্ড মাই ডিভাইস। কেন? ফোন বন্ধ থাকলেও খুঁজে পায়, চোর রিসেট দিতে পারে না, ফ্রি। দ্বিতীয়টা বাসার লোকের জন্য – লাইফ৩৬০। 

কেন? বিপদে ভিডিও পাঠায়, এক্সিডেন্ট ধরতে পারে, দাদু বের হলে কল আসে, লিগ্যাল। তৃতীয়টা বাটপার ধরার জন্য – ট্রুকলার। কেন? "বিকাশ থেকে বলছি" শুনলেই কেটে দেয়, সরকারি নাম্বার চিনায়, লোকেশন দেয় না। এই ৩টা ছাড়া "নাম্বার লোকেটর ২০২৬ বিডি", "ফোন ট্র্যাকার প্রো" নামে যা আছে সব ডিলিট করেন। সাইবার আইন ২০২৪ এর ৪৩(খ) ধারায় ২ লাখ টাকা জরিমানা + ২ বছর জেল।তিন নম্বর কথা: ভিডিও কলও বিশ্বাস করবেন না। ২০২৬ এ ৮০% বাটপারি এআই নকল ভিডিও দিয়ে হয়। আব্বা-মা-বউ-ছেলে যেই কল দিক, ৩টা টেস্ট করবেন। টেস্ট এক, চোখের পাতা গুনেন। ১ মিনিটে ১৫ বার না ফেললে নকল। টেস্ট দুই, "নাকের বাম পাশে টাচ করেন" বলবেন। হাত নাকের ভিতর ঢুকলে নকল।

 টেস্ট তিন, গোপন শব্দ "পদ্মা সেতু" বলবেন। "ইলিশ মাছ" না বললে নকল। ১টা টেস্ট ফেল করলেই কেটে দিবেন।মনে রাখবেন স্যার: ফোন হারালে gd.police.gov.bd তে জিডি করেন। ফ্রি। দালালকে ১৫ হাজার দিবেন না। বাচ্চা আর বয়স্কদের জন্য এয়ারট্যাগ বা জিওট্যাগ কিনেন। বউ-জামাইকে লুকায়া লাগালে ৫ বছর জেল। চার্জ বাঁচাতে গুগল মানচিত্র, হোয়াটসঅ্যাপ, লাইফ৩৬০ ইউজ করেন। "জিপিএস বুস্টার" নামালে ৪০% চার্জ যাবে।নাম্বার দিয়ে লোকেশন বের করার অ্যাপ ৬০ আসল তথ্য ২০২৬ এর ফাইনাল মেসেজ: আইন মানুন, এই ৩টা অ্যাপ রাখুন, জেল থেকে বাঁচুন, টাকা বাঁচান, জীবন বাঁচান।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জুঁই ম্যাক্স নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url