মাত্র ৩ দিনে সিটি ব্যাংক স্যালারি লোন পাওয়ার ১২টি সহজ উপায়


মাস শেষে হঠাৎ টাকা দরকার? হাসপাতাল, স্কুল ফি বা জরুরি খরচ মেটাতে চাকরিজীবীদের ভরসা সিটি ব্যাংক স্যালারি লোন। এই লোনে জামানত বা গ্যারান্টার লাগে না। আপনার চাকরিটাই গ্যারান্টি। কাগজপত্র ঠিক থাকলে আর CIB রিপোর্ট ক্লিন থাকলে মাত্র ৩ দিনে বা ৭২ ঘণ্টায় টাকা অ্যাকাউন্টে আসে। 

২০২৬ সালে City Touch অ্যাপ দিয়ে ঘরে বসেই আবেদন করা যায়।২৫,০০০ টাকা বেতন হলেই ৫০ হাজার থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন দেয় সিটি ব্যাংক। সুদের হার ১০.৫০% থেকে ১৩.৫০%। এই আর্টিকেলে ৩ দিনে সিটি ব্যাংক স্যালারি লোন পাওয়ার ১২টি উপায়, কিস্তির হিসাব আর রিজেক্ট হওয়ার কারণ জানবো।

সূচিপত্র: মাত্র ৩ দিনে সিটি ব্যাংক স্যালারি লোন পাওয়ার ১২টি সহজ উপায়

সিটি ব্যাংক স্যালারি লোন আসলে কি? ৩ দিনে টাকা হাতে পাওয়া কি গল্প নাকি সত্যি?

ভাই, হঠাৎ করে বাসায় কারো অসুখ, বিয়ের খরচ, বা বাচ্চার স্কুলের ভর্তি ফি, এই সব সময় হাতে টাকা না থাকলে কেমন লাগে সেটা শুধু ভুক্তভোগীই জানে। আত্মীয়-স্বজনের কাছে হাত পাততে গেলে অনেক সময় সম্পর্ক নষ্ট হয়। আবার লোকাল সমিতি থেকে লোন নিলে সুদের জ্বালায় জীবন শেষ। এই সব ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য সিটি ব্যাংক স্যালারি লোন একটা বেস্ট অপশন। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন এটা শুধু চাকরিজীবীদের জন্য। আপনার বেতন যদি সিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ঢুকে তাহলে ব্যাংক আপনাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে। কারণ তারা জানে মাস শেষে স্যালারি ঢুকলেই সিস্টেম থেকে অটো কিস্তির টাকা কেটে নিতে পারবে।

তাই আলাদা গ্যারান্টার বা জমির দলিল কিছুই লাগে না। এখন আসল কথা হলো ৩ দিনে কি সত্যি লোন পাওয়া যায়? ভাই, ১০০% যায়। তবে শর্ত আছে। আপনার সব কাগজপত্র রেডি থাকতে হবে, CIB রিপোর্ট ক্লিন থাকতে হবে, আর আপনার কোম্পানি সিটি ব্যাংকের কর্পোরেট লিস্টে থাকতে হবে। আমার অফিসের জুনিয়র একাউন্টেন্ট শফিক ভাই গত বুধবার সকালে অ্যাপ দিয়ে আবেদন করছিল। বৃহস্পতিবার HR ভেরিফিকেশন হইছে আর শুক্রবার বিকালে ৪ লাখ টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকে গেছে। তবে আপনি যদি নতুন কোম্পানিতে জব করেন বা স্যালারি অন্য ব্যাংকে ঢুকে তাহলে ৭ থেকে ১০ দিন লাগতে পারে। তাই ৩ দিনের টার্গেট থাকলে আগে ব্রাঞ্চে গিয়ে কথা বলে শিওর হয়ে নিবেন।

কারা মাত্র ৩ দিনে লোন পাবেন? যোগ্যতার খুঁটিনাটি হিসাব

ভাই, সিটি ব্যাংক কিন্তু সবাইকে ৩ দিনে লোন দেয় না। তাদের একটা কড়া চেকলিস্ট আছে। সেই লিস্টে মিলে গেলেই আপনার ফাইল সুপার ফাস্ট প্রসেস হবে। প্রথম শর্ত হলো বয়স। আপনার বয়স ২১ বছরের উপরে আর ৬০ বছরের নিচে হতে হবে। ৬০ এর উপরে গেলে রিটায়ারমেন্টের রিস্ক থাকে তাই দেয় না। দ্বিতীয় শর্ত হলো চাকরির ধরন। আপনাকে অবশ্যই MNC, গ্রুপ অফ কোম্পানি, ব্যাংক, বীমা, সরকারি, আধা-সরকারি বা সিটি ব্যাংকের লিস্টেড প্রাইভেট কোম্পানিতে জব করতে হবে। লোকাল ছোট দোকান বা কারখানার চাকরি হলে হবে না।

 তৃতীয় এবং সবচেয়ে বড় শর্ত হলো বেতন। মাসে মিনিমাম ২৫,০০০ টাকা কাঁচা বেতন হতে হবে। এটা ব্যাংকে ঢুকতে হবে। হাতে বেতন পেলে হবে না। চতুর্থ শর্ত হলো চাকরির বয়স। একই কোম্পানিতে টানা ৬ মাস চাকরি করার অভিজ্ঞতা লাগবে। ৩ মাসের মাথায় আবেদন করলে রিজেক্ট করে দিবে। পঞ্চম শর্ত হলো CIB। আপনার নামে আগে কোনো লোন নিয়ে ডিফল্ট করার রেকর্ড থাকলে ৩ দিন তো দূরের কথা, ৩ মাসেও লোন পাবেন না। আরেকটা সিক্রেট শর্ত আছে। আপনার কোম্পানির সাথে সিটি ব্যাংকের যদি স্যালারি ডিসবার্সমেন্ট এগ্রিমেন্ট থাকে, মানে পুরা অফিসের সবার বেতন যদি সিটি ব্যাংক দিয়ে দেয়, তাহলে আপনাকে VIP ট্রিটমেন্ট দিবে। তখন ৪৮ ঘণ্টায়ও লোন পেয়ে যাবেন।

সিটি ব্যাংক স্যালারি লোনের জন্য কি কাগজ লাগবে? চেকলিস্ট

ভাই, লোনের ফাইল প্রসেসিং এর ৮০% টাইম নষ্ট হয় কাগজ ঠিক না থাকার কারণে। অফিসার একবার ফাইল ধরে যদি দেখে একটা কাগজ কম, সাথে সাথে সাইডে রেখে দিবে। পরে আপনার ফোন ধরে ধরে হয়রান হবে। তাই এই লিস্ট দেখে বাসা থেকে সব রেডি করে তারপর ব্যাংকে যাবেন। ১ নম্বরে লাগবে আপনার NID কার্ডের ফটোকপি। স্মার্ট কার্ড হলে দুই পাশের কপি লাগবে। ২ নম্বরে লাগবে সদ্য তোলা ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি। ৩ নম্বরে লাগবে আপনার অফিসের আইডি কার্ডের ফটোকপি। ৪ নম্বরে লাগবে HR ডিপার্টমেন্ট থেকে নেওয়া অরিজিনাল স্যালারি সার্টিফিকেট। 

এখানে আপনার জয়েনিং ডেট, ডেজিগনেশন আর গ্রস স্যালারি উল্লেখ থাকতে হবে। ৫ নম্বরে লাগবে শেষ ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট। সিটি ব্যাংকে স্যালারি ঢুকলে ব্রাঞ্চে গেলে ফ্রি দিয়ে দিবে। ৬ নম্বরে লাগবে অফিস থেকে নেওয়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার বা কন্ট্রাক্ট লেটারের ফটোকপি। ৭ নম্বরে লাগবে বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ। এটার জন্য লেটেস্ট বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল বা পানির বিলের কপি দিবেন। ৮ নম্বরে লাগবে E-TIN সার্টিফিকেটের কপি। টিন না থাকলেও লোন দেয়, কিন্তু থাকলে আপনার প্রোফাইল ভারী হয়। ৯ নম্বরে লাগবে অফিসের অর্গানোগ্রাম বা আপনার ডিপার্টমেন্টের লিস্ট। সব কাগজ A4 সাইজে ফটোকপি করে একটা ক্লিয়ার ফাইলে সাজায় নিবেন।

আরো পড়ুন:সিটি ব্যাংক লোনের সুদের হার ২০২৬

আপনার বেতন কত হলে লোন পাবেন? সর্বনিম্ন স্যালারি লিমিট

ভাই, সিটি ব্যাংক স্যালারি লোন নিতে গেলে প্রথমেই ব্যাংক আপনার বেতনের স্লিপ দেখবে। কারণ লোনের পুরা হিসাবটাই আপনার বেতনের উপর নির্ভর করে। ব্যাংকের রুলস অনুযায়ী মাসে মিনিমাম গ্রস স্যালারি ২৫,০০০ টাকা হতে হবে। এর এক টাকা কম হলেও তারা ফাইল জমা নিবে না। এখন ২৫,০০০ টাকা বেতন হলে আপনি কত টাকা লোন আশা করতে পারেন? ব্যাংক সাধারণত আপনার ১২ মাসের বেতনের সমান বা ১৫ গুণ পর্যন্ত লোন দেয়। মানে ২৫,০০০ x ১২ = ৩,০০,০০০ টাকা। তবে এটা ফিক্সড না। আপনার কোম্পানি যদি ইউনিলিভার, BAT, গ্রামীণফোন বা স্কয়ার এর মতো টপ লেভেলের হয় তাহলে ২০ গুণ পর্যন্ত দিয়ে দেয়।

 তখন ২৫,০০০ টাকা বেতনেও ৫ লাখ টাকা লোন পাওয়া সম্ভব। আরেকটা জিনিস মাথায় রাখবেন যেটাকে বলে FOIR বা Fixed Obligation to Income Ratio। এর মানে হলো আপনার মাসিক কিস্তির পরিমাণ কোনোভাবেই আপনার বেতনের ৫০% এর বেশি হতে পারবে না। ধরেন আপনার বেতন ৪০,০০০ টাকা। তাহলে আপনার সব লোন মিলায় মাসিক কিস্তি ২০,০০০ টাকার বেশি হতে পারবে না। আপনার যদি আগে থেকেই একটা কার লোনের কিস্তি ১৫,০০০ টাকা থাকে, তাহলে সিটি ব্যাংক আপনাকে নতুন লোনের কিস্তি ৫,০০০ টাকার বেশি হবে এমন অ্যামাউন্ট দিবে না।

কত টাকা লোন নিতে পারবেন? বেতনের কত গুণ পর্যন্ত দেয়

ভাই, সিটি ব্যাংক স্যালারি লোনের সবচেয়ে ভালো দিক হলো এখানে লোনের অ্যামাউন্ট অনেক বেশি। আপনি সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন নিতে পারবেন। কিন্তু ২০ লাখ টাকা কি সবাইকে দেয়? না ভাই, এটার জন্য হাই প্রোফাইল লাগে। ব্যাংক কয়েকটা জিনিস দেখে লোনের অ্যামাউন্ট ঠিক করে। প্রথম জিনিস হলো আপনার বেতন। আমরা আগেই বলছি নরমালি ১২ থেকে ১৫ গুণ দেয়। স্পেশাল কোম্পানি হলে ২০ থেকে ২৪ গুণ পর্যন্ত দেয়। দ্বিতীয় জিনিস হলো আপনার কোম্পানির ক্যাটাগরি। সিটি ব্যাংকের কাছে কোম্পানির একটা রিস্ক গ্রেডিং থাকে। 

A, B, C ক্যাটাগরি। A ক্যাটাগরির কোম্পানি যেমন ব্র্যাক ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এর এমপ্লয়িরা সবচেয়ে বেশি লোন পায়। তৃতীয় জিনিস হলো আপনার চাকরির বয়স। একই কোম্পানিতে ৫ বছর চাকরি করলে লোনের অ্যামাউন্ট অটো বেড়ে যায়। কারণ ব্যাংক বুঝে যে আপনার চাকরি স্টেবল। চতুর্থ জিনিস হলো আপনার অন্য লোন আছে কিনা। ধরেন আপনার বেতন ৮০,০০০ টাকা। হিসাবে আপনি ১৫ লাখ টাকা লোন পেতে পারেন। কিন্তু আপনার যদি ১০ লাখ টাকার একটা হোম লোন থাকে যার মাসিক কিস্তি ১৮,০০০ টাকা, তাহলে সিটি ব্যাংক আপনাকে আর ৪-৫ লাখ টাকার বেশি স্যালারি লোন দিবে না। কারণ আপনার DBR ফুল হয়ে যাবে।

সিটি ব্যাংকের সুদের হার কত? মাসে কিস্তি কত টাকা আসবে

ভাই, লোন নেওয়া সহজ কিন্তু শোধ করা কঠিন। তাই সুদের হার আর মাসিক কিস্তির হিসাবটা আগে থেকে ক্লিয়ার হয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। ২০২৬ সালের আপডেট অনুযায়ী সিটি ব্যাংক স্যালারি লোনের সুদের হার ১০.৫০% থেকে শুরু হয়ে ১৩.৫০% পর্যন্ত যায়। এই রেটটা ফিক্সড না, এটা কম বেশি হয়। আপনার কোম্পানি যদি সিটি ব্যাংকের প্রায়োরিটি লিস্টে থাকে তাহলে সবচেয়ে কম রেট ১০.৫০% পাবেন। আর নরমাল কোম্পানি হলে ১২.৫০% বা ১৩.৫০% ধরবে। এখন আসেন কিস্তির হিসাবে। ধরেন আপনি ৫ লাখ টাকা লোন নিলেন ৪ বছরের জন্য, আর সুদের হার ধরলো ১২%। 

তাহলে আপনার প্রতি মাসে কিস্তি বা EMI আসবে ১৩,১৬৮ টাকা করে। ৪ বছরে মোট ৪৮টা কিস্তি দিতে হবে। তাহলে মোট শোধ করবেন ১৩,১৬৮ x ৪৮ = ৬,৩২,০৬৪ টাকা। মানে ৫ লাখ টাকার জন্য এক্সট্রা সুদ দিচ্ছেন ১,৩২,০৬৪ টাকা। যদি মেয়াদ ৫ বছর করেন তাহলে মাসিক কিস্তি কমে ১১,১২২ টাকা হবে, কিন্তু মোট সুদ বেড়ে ১,৬৭,৩২০ টাকা হয়ে যাবে। তাই সবসময় চেষ্টা করবেন কম মেয়াদে লোন নিতে। সিটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটে Loan Calculator আছে। ওখানে গিয়ে টাকার পরিমাণ, মেয়াদ আর সুদের হার বসায় দিলেই অটো কিস্তি দেখায় দিবে।

আরো পড়ুন:সিটি ব্যাংক স্যালারি লোনের মাসিক কিস্তি কত

লোন আবেদন করার সহজ ৩টি ধাপ: ব্রাঞ্চে গিয়ে সময় নষ্ট নাই

ভাই, আগের দিনে লোন মানে ছিল ব্রাঞ্চে গিয়ে ম্যানেজারের রুমের সামনে দিনের পর দিন বসে থাকা। এখন সিটি ব্যাংক পুরা সিস্টেম ডিজিটাল করে ফেলছে। আপনি বাসায় বসে চা খেতে খেতে লোনের আবেদন করে ফেলতে পারবেন। ধাপ ১ হলো ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন। আপনার ফোনে City Touch অ্যাপ ইন্সটল করেন। লগইন করার পর ড্যাশবোর্ডে Loan অপশনে যান। সেখানে Salary Loan সিলেক্ট করেন। তারপর কত টাকা লোন দরকার, কত বছরে শোধ করবেন সেটা লিখেন। আপনার NID নম্বর দিলে অটো আপনার নাম, বেতন, কোম্পানির নাম সব চলে আসবে। ধাপ ২ হলো ডকুমেন্ট আপলোড।

অ্যাপ আপনাকে বলবে কি ছবি তুলতে হবে। NID এর সামনের ছবি, পিছনের ছবি, আপনার একটা সেলফি, স্যালারি সার্টিফিকেটের ছবি, অফিস আইডির ছবি। সবগুলা মোবাইল দিয়ে ক্লিয়ার করে তুলে আপলোড করে দিবেন। স্ক্যান করা লাগবে না। ধাপ ৩ হলো ভেরিফিকেশন ও ডিসবার্সমেন্ট। কাগজ জমা দেওয়ার ২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাংক থেকে আপনার কাছে ফোন আসবে। তারা কিছু তথ্য জানতে চাইবে। তারপর আপনার HR বা বসকে ফোন দিয়ে চাকরি কনফার্ম করবে। ভেরিফিকেশন ওকে হলে একটা OTP যাবে আপনার ফোনে। OTP দিয়ে কনফার্ম করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লোনের টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট হয়ে যাবে।

৫টি বড় ভুল যেগুলার জন্য লোন রিজেক্ট হয়: আবেদনের আগে জেনে নিন

ভাই, লোন রিজেক্ট হওয়া খুবই কমন একটা ঘটনা। ১০০ জন আবেদন করলে ৩০ জনই রিজেক্ট খায়। কিন্তু কেন খায় সেটা জানলে আপনি আগেই সতর্ক হতে পারবেন। ভুল নম্বর ১ হলো CIB রিপোর্টে ডিফল্ট থাকা। ৫ বছর আগে একটা ফোন কিনতে গিয়ে ২টা কিস্তি মিস করছিলেন। সেই ৩,০০০ টাকা এখনো বাকি। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্টে আপনার নামে লাল কালি পড়ে আছে। যত ভালো চাকরিই করেন, এই CIB ক্লিয়ার না করা পর্যন্ত সিটি ব্যাংক এক টাকাও লোন দিবে না। ভুল নম্বর ২ হলো স্যালারি সার্টিফিকেটে ভুয়া তথ্য দেওয়া। অনেকে বেতন ৩০,০০০ কিন্তু HR কে বলে ৫০,০০০ টাকার সার্টিফিকেট বানায়। ব্যাংক কিন্তু বোকা না। 

তারা সরাসরি আপনার কোম্পানির HR হেডকে ফোন দিয়ে ভেরিফাই করে। ধরা পড়লে শুধু লোন রিজেক্ট না, ব্ল্যাকলিস্ট করে দিবে। ভুল নম্বর ৩ হলো চাকরির বয়স কম। প্রবেশন পিরিয়ডে থাকা অবস্থায় লোনের আবেদন করলে ১০০% রিজেক্ট। মিনিমাম ৬ মাস পার করতে হবে। ভুল নম্বর ৪ হলো ওভারলোডেড DBR। আপনার বেতন ৫০,০০০ কিন্তু আগে থেকেই হোম লোন, কার লোন, পার্সোনাল লোন মিলে ২৮,০০০ টাকা কিস্তি দেন। নতুন লোনের কিস্তি ৫,০০০ হলেও টোটাল ৩৩,০০০ হয়ে যায় যা ৫০% এর বেশি। তাই রিজেক্ট। ভুল নম্বর ৫ হলো ঠিকানা ভেরিফিকেশন ফেইল। ব্যাংক থেকে লোক পাঠালে যদি আপনাকে বাসায় না পায় বা বাড়িওয়ালা যদি চিনতে না পারে, তাহলে তারা ভাববে আপনি ঠিকানা গোপন করছেন। সাথে সাথে ফাইল বাতিল।


৩ দিনে লোন পেতে CIB রিপোর্ট কেন জরুরি? খারাপ হলে কি করবেন

ভাই, CIB হলো লোনের দুনিয়ার দুদক রিপোর্ট। এটা যার ভালো, তার জন্য ব্যাংকের দরজা খোলা। যার খারাপ, তার জন্য সব দরজা বন্ধ। CIB এর ফুল মিনিং Credit Information Bureau। বাংলাদেশ ব্যাংক এইটা মেইনটেইন করে। আপনি দেশের যে কোনো ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি, এমনকি এনজিও থেকে লোন নিলে তার রেকর্ড CIB তে চলে যায়। আপনি সময়মতো কিস্তি দিচ্ছেন কিনা, কোনো কিস্তি বাকি আছে কিনা, কোনো লোন রিশিডিউল করছেন কিনা, সবকিছু CIB রিপোর্টে লেখা থাকে। সিটি ব্যাংক ৩ দিনে লোন দিতে চাইলে সবার আগে আপনার NID দিয়ে CIB চেক করে। যদি দেখে Status: Regular এবং কোনো Overdue নাই, তাহলে ৫০% কাজ শেষ।

সাথে সাথে ফাইল প্রসেসিং শুরু করে দেয়। কিন্তু যদি দেখে ২ বছর আগে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের ৮৫০ টাকা বকেয়া আছে, তাহলে Status: Substandard বা Bad দেখাবে। তখন যতই আপনার বেতন ১ লাখ টাকা হোক, লোন দিবে না। এখন সমাধান কি? সমাধান একটাই। যে ব্যাংকে বকেয়া আছে সেখানে গিয়ে আগে পুরা টাকা সুদসহ শোধ করেন। তারপর সেই ব্যাংক থেকে NOC বা No Objection Certificate নেন। এই NOC নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের CIB অফিসে গিয়ে আপডেটের আবেদন করেন। আপডেট হতে ১৫ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে। CIB ক্লিন হয়ে গেলে তারপর সিটি ব্যাংকে নতুন করে আবেদন করেন। তখন ৩ দিনেই লোন পেয়ে যাবেন।

আরো পড়ুন:সিটি ব্যাংক লোন রিজেক্ট হওয়ার কারণ

 সিটি টাচ অ্যাপ দিয়ে ঘরে বসে লোন নেওয়ার পুরা নিয়ম

ভাই, ডিজিটাল যুগে লোন নিতে আর ব্রাঞ্চে যাওয়া লাগে না। আপনার হাতের স্মার্টফোনটাই এখন ব্যাংকের ব্রাঞ্চ। স্টেপ বাই স্টেপ বলতেছি। প্রথমে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে City Touch লিখে সার্চ দেন। সিটি ব্যাংকের অফিশিয়াল অ্যাপটা নামায় ইন্সটল করেন। ইন্সটল করার পর আপনার সিটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর আর রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করেন। OTP দিয়ে ভেরিফাই করে নিবেন। লগইন করার পর হোমস্ক্রিনে অনেকগুলা অপশন দেখবেন। সেখান থেকে Apply for Loan বা Loan অপশনে ক্লিক করেন। তারপর প্রোডাক্ট লিস্ট থেকে Salary Loan সিলেক্ট করেন। এখন আপনার সামনে একটা ফর্ম আসবে। 

সেখানে আপনি কত টাকা লোন চান সেটা লিখবেন, ধরেন ৩০০,০০০। তারপর কত বছরে শোধ করতে চান সেটা সিলেক্ট করবেন, ধরেন ৩ Years। নিচে অটো ক্যালকুলেট করে দেখায় দিবে আপনার মাসিক কিস্তি কত আসবে, সুদের হার কত। সব ঠিক থাকলে Next বাটনে ক্লিক করেন। এখন ডকুমেন্ট আপলোডের পেজ আসবে। আপনার NID এর সামনের অংশের ছবি তুলেন, তারপর পিছনের অংশের ছবি তুলেন। তারপর একটা হাসি মুখের সেলফি তুলেন। তারপর আপনার স্যালারি সার্টিফিকেট আর অফিস আইডি কার্ডের ছবি তুলে আপলোড করেন। সব আপলোড শেষে Terms and Conditions এ টিক দিয়ে Submit করে দেন। সাবমিট করার ৩০ মিনিটের মধ্যে সিটি ব্যাংকের কল সেন্টার থেকে আপনাকে ফোন দিয়ে তথ্য কনফার্ম করবে।

লোন পাস হওয়ার পর টাকা কখন হাতে পাবেন? তুলবেন কিভাবে?

ভাই, লোন অ্যাপ্রুভালের মেসেজ পাওয়ার পর সবচেয়ে খুশির মুহূর্ত হলো অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকা। সিটি ব্যাংক এই কাজটা খুব ফাস্ট করে। আপনার লোন ফাইনাল অ্যাপ্রুভাল হওয়ার পর অফিসার আপনার ফোনে একটা কনফার্মেশন OTP পাঠাবে। আপনি OTP দিয়ে কনফার্ম করার সাথে সাথে অটো সিস্টেম থেকে আপনার সিটি ব্যাংক স্যালারি অ্যাকাউন্টে লোনের পুরা টাকা ক্রেডিট হয়ে যাবে। এটার জন্য ১ মিনিটও লাগে না। টাকা ঢুকার সাথে সাথে আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে SMS আসবে। SMS এ লেখা থাকবে, "Dear Customer, Your Salary Loan of BDT ৫,০০,০০০ has been successfully disbursed to your A/C ***১২৩৪. Thank you for banking with City Bank." SMS পাওয়ার পর আপনি 

City Touch অ্যাপে ঢুকে ব্যালেন্স চেক করলেই টাকা দেখতে পাবেন। এখন এই টাকা তুলবেন কিভাবে? ৩টা উপায় আছে। প্রথম উপায় হলো ATM বুথ। আপনার সিটি ব্যাংকের ATM কার্ড দিয়ে যে কোনো বুথ থেকে দিনে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন। দ্বিতীয় উপায় হলো ব্রাঞ্চ থেকে চেক দিয়ে তোলা। বড় অ্যামাউন্ট হলে চেক বই দিয়ে তুলাই ভালো। তৃতীয় উপায় হলো City Touch অ্যাপ দিয়ে অন্য ব্যাংকে NPSB বা BEFTN করে ট্রান্সফার করা। তবে মনে রাখবেন, যেদিন লোন নিবেন তার পরের মাসের স্যালারি ডেটেই প্রথম কিস্তির টাকা অটো কেটে নিবে।

আরো পড়ুন:সিটি ব্যাংক লোনের কাগজপত্র কি কি লাগে

শেষ কথা: সিটি ব্যাংক স্যালারি লোনের লাভ আর লস

ভাই, দুনিয়াতে কোনো জিনিসই ১০০% ভালো না। সিটি ব্যাংক স্যালারি লোনেরও ভালো খারাপ দুইটা দিক আছে। লোন নেওয়ার আগে দুইটা দিকই জানা উচিত। প্রথমে সুবিধার কথা বলি। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো স্পিড। ইমার্জেন্সি মেডিকেল বা অন্য কোনো আর্জেন্ট দরকারে ৩ দিনে টাকা হাতে পাওয়া যায়, এটা অন্য কোনো ব্যাংক দেয় না। দ্বিতীয় সুবিধা হলো কোনো জামানত বা মর্টগেজ লাগে না। আপনার বাসার দলিল বা গ্যারান্টার ধরে আনা লাগবে না। শুধু আপনার চাকরিটাই গ্যারান্টি। তৃতীয় সুবিধা হলো প্রসেসিং ফি অনেক কম। লোন অ্যামাউন্টের মাত্র ১% বা সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা, যেটা কম সেটা কাটে। চতুর্থ সুবিধা হলো হিডেন চার্জ নাই। যা বলবে তাই।

 এখন অসুবিধার কথা শুনেন। প্রথম অসুবিধা হলো সুদের হার। হোম লোন বা কার লোনের চেয়ে স্যালারি লোনের সুদের হার ২% থেকে ৩% বেশি। কারণ এটা আনসিকিউরড লোন। দ্বিতীয় অসুবিধা হলো চাকরি নির্ভরতা। কোনো কারণে আপনার চাকরি চলে গেলে ব্যাংক আপনাকে ১ মাস সময় দিবে। এর মধ্যে নতুন চাকরি না পেলে পুরা লোন একসাথে পরিশোধ করার জন্য চাপ দিবে। তৃতীয় অসুবিধা হলো CIB রিস্ক। একবার যদি ৩টা কিস্তি মিস করেন, আপনার CIB রিপোর্টে Bad Loan লিখে দিবে। তখন ১০ বছর পর্যন্ত আপনি কোনো ব্যাংক থেকে লোন বা ক্রেডিট কার্ড পাবেন না। তাই ভাই, খুব বেশি দরকার না হলে লোন নেওয়ার দরকার নাই। আর নিলেও আগে ১০ বার হিসাব করবেন মাসে কিস্তি দিতে পারবেন কিনা।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জুঁই ম্যাক্সনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url