ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম
বর্তমান যুগে ফ্রিল্যান্সিং আর অনলাইন কাজের পরিধি অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশের হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে ঘরে বসে বিদেশি ক্লায়েন্টের কাজ করে ডলার আয় করছে। কিন্তু টাকা দেশে আনার সময় সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়। কারণ PayPal এখানে চলে না, আর সরাসরি ব্যাংকে বিদেশি পেমেন্ট নেওয়াও ঝামেলার।
এই সমস্যার সমাধান হিসেবে Payoneer সামনে এসেছে। এটা একটা আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম, যেটা দিয়ে আপনি আমেরিকা, ইউরোপসহ অনেক দেশের কোম্পানি থেকে সহজে টাকা নিতে পারেন। ক্লায়েন্ট মনে করবে সে লোকাল ব্যাংকে টাকা পাঠাচ্ছে, আর টাকা জমা হবে আপনার Payoneer অ্যাকাউন্টে।
সূচিপত্র: ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম
- Payoneer কী এবং বাংলাদেশে কেন দরকার
- Payoneer অ্যাকাউন্টের প্রকারভেদ: Individual vs Company
- অ্যাকাউন্ট খোলার আগে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও তথ্য
- অফিসিয়াল সাইটে রেজিস্ট্রেশন শুরু করা
- ব্যক্তিগত তথ্য ও কন্টাক্ট ডিটেইলস পূরণ করা
- সিকিউরিটি সেটআপ ও পাসওয়ার্ড তৈরি
- বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করার নিয়ম
- NID/Passport দিয়ে আইডি ভেরিফিকেশন
- Receiving Account কীভাবে কাজ করে এবং কোথায় পাবে
- Payoneer থেকে ব্যাংকে টাকা উইথড্র করার প্রক্রিয়া
- Payoneer এর চার্জ, ফি এবং লিমিট সম্পর্কে ধারণা
- শেষ কথা
Payoneer কী এবং বাংলাদেশে কেন দরকার
Payoneer হলো একটা অনলাইন পেমেন্ট সার্ভিস। বিদেশের ক্লায়েন্ট থেকে ডলার নিতে গেলে এটা সবচেয়ে সহজ উপায়। বাংলাদেশের ব্যাংক সরাসরি বিদেশি কোম্পানির পেমেন্ট নিতে পারে না, তাই মাঝখানে Payoneer লাগে। ধরুন আপনি Fiverr বা Upwork এ কাজ করলেন। ক্লায়েন্ট আপনাকে ডলার পাঠাবে, কিন্তু সেটা সরাসরি আপনার বিকাশ বা ব্যাংকে আসবে না। তখন Payoneer একটা আমেরিকান ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দেয় আপনাকে।
এই অ্যাকাউন্টের নাম্বার, রাউটিং নাম্বার সব থাকে। আপনি সেটা ক্লায়েন্টকে দিলে তারা মনে করবে লোকাল ব্যাংকে টাকা পাঠাচ্ছে। আসলে টাকাটা প্রথমে Payoneer এ জমা হয়। Payoneer শুধু ফ্রিল্যান্সারদের জন্য না। Amazon, Google, Airbnb এর মতো বড় কোম্পানিও Payoneer দিয়ে পেমেন্ট করে। তাই আপনি যেকোনো জায়গা থেকে টাকা নিতে পারবেন। বাংলাদেশে এটা এত জনপ্রিয় কারণ এখানে PayPal চলে না। PayPal না থাকায় ফ্রিল্যান্সারদের একমাত্র ভরসা ছিল Payoneer। এটা বৈধ আর সরকারও অনুমোদন দেয়।
টাকা আসার পর আপনি চাইলে সেটা বাংলাদেশের ব্যাংকে ট্রান্সফার করতে পারেন। টাকা সরাসরি আপনার একাউন্টে চলে আসে ২-৩ দিনের মধ্যে। বিকাশেও নেওয়ার সিস্টেম আছে এখন। অ্যাকাউন্ট খোলা একদম ফ্রি। শুধু যখন টাকা তুলবেন তখন ২% এর মতো ফি কাটবে। টাকা রিসিভ করতে কোনো টাকা লাগে না। এজন্য খরচও কম পড়ে। সব মিলিয়ে বললে, বিদেশ থেকে টাকা আনার জন্য Payoneer হলো সবচেয়ে নিরাপদ আর ঝামেলামুক্ত রাস্তা। একবার খুলে ফেললে আর ভাবতে হয় না।
অ্যাকাউন্ট খোলার আগে যেসব ডকুমেন্ট আর তথ্য লাগবে
প্রথমেই আপনার একটা সরকারি আইডি লাগবে। NID কার্ড থাকলে সবচেয়ে ভালো। না থাকলে পাসপোর্ট দিয়েও কাজ চলে। ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে হয় না। আইডি কার্ডের ছবি তুলতে হবে। ছবি যেন ঝাপসা না হয়। চারদিকের সব লেখা স্পষ্ট দেখা যায় মতো তুলবেন। কাটা ছেঁড়া ছবি দিলে রিজেক্ট করে দেয়। একটা এক্টিভ ইমেইল লাগবে। জিমেইল হলে ভালো। এই ইমেইলেই Payoneer এর সব মেসেজ আসবে। তাই এমন ইমেইল দেবেন যেটা আপনি প্রতিদিন চেক করেন। ফোন নাম্বারও জরুরি। বাংলাদেশের নাম্বার হলে +880 দিয়ে বাকি নাম্বার লিখবেন। পরে OTP আসবে এই নাম্বারে। বন্ধ নাম্বার দিলে সমস্যা হবে।
আপনার বাংলাদেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট লাগবে। কারণ Payoneer থেকে টাকা এই ব্যাংকেই আসবে। অ্যাকাউন্টের নাম আর NID এর নাম একদম মিলতে হবে। ঠিকানা লেখার সময় সাবধান। বিদ্যুৎ বিল বা ব্যাংক স্টেটমেন্টে যেটা আছে সেটাই ইংরেজিতে লিখবেন। গ্রামের ঠিকানা হলেও সমস্যা নাই, শুধু বান ঠিক রাখবেন। আপনি Individual অ্যাকাউন্ট খুলবেন নাকি Company সেটা ঠিক করবেন। ৯৫% মানুষ Individual খোলে। Company খুলতে গেলে ট্রেড লাইসেন্স লাগে। এই সব ডকুমেন্ট হাতের কাছে রেখে তারপর রেজিস্ট্রেশন শুরু করবেন। মাঝখানে উঠে গেলে তথ্য হারিয়ে যায়, আবার শুরু করতে হয়।
অফিসিয়াল সাইটে রেজিস্ট্রেশন শুরু করা
গুগলে গিয়ে payoneer লিখে সার্চ করবেন। প্রথমে যেটা আসবে সেটা অফিসিয়াল সাইট। নকল সাইটে গেলে তথ্য চুরি হতে পারে, তাই লিংক দেখে ঢুকবেন। সাইটে ঢোকার পর উপরে ডান দিকে Sign Up বাটন পাবেন। ওখানে ক্লিক করলেই রেজিস্ট্রেশন শুরু। কোনো টাকা লাগে না, পুরোটা ফ্রি। এরপর জিজ্ঞেস করবে আপনি Individual নাকি Company। আপনি যদি একা কাজ করেন তাহলে Individual সিলেক্ট করবেন। Company সিলেক্ট করলে ঝামেলা বাড়ে। Individual সিলেক্ট করার পর আপনার ইমেইল চাইবে। এমন ইমেইল দেবেন যেটা সবসময় চালু থাকে।
ভুল ইমেইল দিলে পরে ভেরিফিকেশন করতে পারবেন না। ইমেইল দেওয়ার পর পাসওয়ার্ড সেট করতে হবে। পাসওয়ার্ড সহজ দেবেন না। বড় হাতের, ছোট হাতের আর নাম্বার মিশিয়ে দিলে নিরাপদ হয়। পাসওয়ার্ড সেট করার সময় একটা শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বানাবেন। জন্মতারিখ বা 1234 টাইপ পাসওয়ার্ড দিলে হ্যাক হওয়ার ভয় থাকে। সব ঠিকঠাক দেওয়ার পর Next এ ক্লিক করবেন। এখানেই প্রথম ধাপ শেষ। এরপর নাম, ঠিকানা, ফোন নাম্বার দেওয়ার পেজ আসবে। এই ধাপে তাড়াহুড়া করবেন না। ভুল তথ্য দিলে পরে ঠিক করা কঠিন। ধীরে ধীরে চেক করে এগোবেন।
আরো পড়ুন :ফ্রিল্যান্সারদের জন্য Payoneer
ব্যক্তিগত তথ্য ও কন্টাক্ট ডিটেইলস পূরণ করা
দ্বিতীয় ধাপে আপনার আসল নাম চাইবে। নাম NID তে যেভাবে আছে হুবহু সেভাবে লিখবেন। ইংরেজিতে লিখবেন, বাংলা লিখলে হবে না। জন্মতারিখও NID অনুযায়ী দেবেন। একদিন এদিক সেদিক হলেও ভেরিফিকেশনে আটকে যাবে। তাই NID হাতে নিয়ে লিখবেন। ঠিকানা লেখার সময় গ্রাম, পোস্ট অফিস, থানা সব ইংরেজিতে লিখবেন। যেটা আপনার বিদ্যুৎ বিলে আছে সেটাই দেবেন। ফোন নাম্বার দেওয়ার পর Payoneer একটা কোড পাঠাবে। সেই কোড বসিয়ে দিলেই নাম্বার ভেরিফাই হয়ে যাবে।
ইমেইল ভেরিফিকেশনের জন্য আপনার ইনবক্সে একটা লিংক যাবে। ওই লিংকে ক্লিক করলেই ইমেইল কনফার্ম হয়ে যাবে। এখানে কোনো ভুল হলে পরে ঠিক করা কঠিন। তাই প্রতিটা তথ্য দুইবার চেক করে নেবেন। ঠিকানা আর ফোন নাম্বার ভেরিফাই হওয়া মানে আপনি আসল মানুষ সেটা প্রমাণ হওয়া। এটা সিকিউরিটির জন্য দরকার। সব তথ্য দেওয়া শেষ হলে Save and Continue দেবেন। এরপর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যোগ করার পেজ আসবে।
সিকিউরিটি সেটআপ ও পাসওয়ার্ড তৈরি
এই ধাপে আপনাকে সিকিউরিটি প্রশ্ন সেট করতে হবে। যেমন আপনার মায়ের নাম কী, প্রথম স্কুলের নাম কী। এগুলো মনে রাখার মতো দেবেন। সিকিউরিটি প্রশ্ন ভুলে গেলে পরে অ্যাকাউন্ট রিকভারি করতে পারবেন না। তাই কোথাও লিখে রাখবেন। পাসওয়ার্ড আগেই সেট করেছেন, কিন্তু এখানে আবার কনফার্ম করতে হবে। দুইবার একই পাসওয়ার্ড দেবেন। Payoneer চায় আপনার অ্যাকাউন্ট সিকিউর থাকুক। তাই পাসওয়ার্ড কাউকে বলবেন না, এমনকি বন্ধুকেও না।
দুই ধাপের ভেরিফিকেশন অন রাখলে ভালো। লগইন করতে গেলে ফোনে কোড আসবে। এতে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার চান্স কমে। সিকিউরিটি সেটআপ শেষ হলে আপনার অ্যাকাউন্ট অনেকটা নিরাপদ হয়ে যায়। হ্যাকাররা সহজে ঢুকতে পারে না। এখানে ভুল করলে পরে সাপোর্টে কথা বলে ঠিক করতে হয়। সেটা সময় সাপেক্ষ, তাই একবারেই ঠিক করবেন। সব সেট হয়ে গেলে Next দেবেন। এরপর বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যোগ করার পালা।
বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করা
এই ধাপে আপনার ব্যাংকের নাম, শাখার নাম, অ্যাকাউন্ট নাম্বার দিতে হবে। সব তথ্য চেক বই দেখে লিখবেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম আর NID এর নাম একদম মিলতে হবে। একটা অক্ষর ভুল হলেও টাকা আটকে যাবে। SWIFT কোড লাগে না, Payoneer নিজেই বাংলাদেশের ব্যাংকের সাথে কানেক্টেড। আপনি শুধু সাধারণ অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস দেবেন। একাউন্ট কারেন্ট নাকি সেভিংস সেটা সিলেক্ট করবেন। বেশিরভাগ মানুষ সেভিংস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে।
তথ্য দেওয়ার পর একবার চেক করবেন। ভুল হলে পরে বদলানো যায়, কিন্তু সময় লাগে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যোগ করা মানে টাকা তোলার রাস্তা তৈরি হওয়া। এটা না করলে টাকা তুলতে পারবেন না। একসাথে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যোগ করা যায়। পরে যেকোনোটা সিলেক্ট করে টাকা তুলতে পারবেন। সব ঠিক থাকলে Save দেবেন। এরপর NID বা পাসপোর্ট দিয়ে আইডি ভেরিফিকেশন শুরু হবে।
NID/Passport দিয়ে আইডি ভেরিফিকেশন
শেষ ধাপ হলো আইডি ভেরিফাই করা। এখানে Payoneer আপনার NID বা পাসপোর্টের ছবি চাইবে। ছবি তোলার সময় আলো ভালো রাখবেন। ঝাপসা বা অন্ধকার ছবি দিলে রিজেক্ট করে দেয়। কার্ডের চারপাশ কাটা যাবে না। পুরো কার্ড ফ্রেমের ভেতর রাখবেন। সামনে পেছনে দুই পাশের ছবি লাগে। ছবি আপলোড করার পর সেলফি তুলতে বলতে পারে। তখন ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ছবি তুলে দেবেন।
আপলোড শেষ হলে Payoneer বলবে আপনার ডকুমেন্ট রিভিউতে আছে। সাধারণত ২-৩ দিন লাগে। এই সময় আপনি ইমেইল চেক করবেন। যদি কোনো সমস্যা হয় তাহলে Payoneer মেইল করে জানাবে। সব ঠিক থাকলে কনফার্মেশন মেইল আসবে। তখন অ্যাকাউন্ট পুরো অ্যাক্টিভ হয়ে যাবে। ভেরিফিকেশন শেষ হলে আপনি Receiving Account ডিটেইলস পাবেন। সেটা ক্লায়েন্টকে দিলেই টাকা আসা শুরু হবে।
Receiving Account কীভাবে কাজ করে
Payoneer আপনাকে আমেরিকা, ইউরোপ, ব্রিটেনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দেয়। এগুলোকে বলে Receiving Account। ক্লায়েন্টকে আপনি এই অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস দেবেন। তারা মনে করবে লোকাল ব্যাংকে টাকা পাঠাচ্ছে। টাকা পাঠানোর পর সেটা ১-৩ দিনের মধ্যে আপনার Payoneer ব্যালেন্সে জমা হয়। একটা Receiving Account দিয়ে একাধিক ক্লায়েন্ট থেকে টাকা নেওয়া যায়। আলাদা আলাদা অ্যাকাউন্ট লাগে না।
Receiving Account ফ্রি। শুধু যখন টাকা তুলবেন তখন ফি কাটবে। টাকা রিসিভ করতে কোনো চার্জ নাই। Payoneer ড্যাশবোর্ডে দেখতে পাবেন কোন ক্লায়েন্ট কত টাকা পাঠালো। হিসাব রাখা সহজ হয়। এই সিস্টেমের জন্য বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা সহজে বিদেশি কোম্পানির সাথে কাজ করতে পারে। Receiving Account পাওয়ার পর আপনার কাজ শুধু ক্লায়েন্টকে ডিটেইলস দেওয়া। বাকিটা Payoneer সামলায়।
টাকা উইথড্র করার প্রক্রিয়া
Payoneer এ টাকা আসার পর সেটা Withdraw করতে হবে। Withdraw অপশনে গিয়ে ব্যাংক সিলেক্ট করবেন। কত ডলার তুলবেন সেটা লিখবেন। মিনিমাম ৫০ ডলার না হলে উইথড্র দেওয়া যায় না। রিকোয়েস্ট দেওয়ার পর ২-৩ কর্মদিবস লাগে টাকা ব্যাংকে ঢুকতে। শুক্র শনি বন্ধ থাকে। Payoneer প্রায় ২% ফি কাটে। ১০ ডলার তুললে ৯৮ ডলার পাবেন। ফি আগেই দেখিয়ে দেয়।
টাকা ব্যাংকে ঢোকার পর ATM থেকে তুলতে পারেন বা অনলাইন খরচ করতে পারেন। Payoneer এর কার্ড থাকলে সেটা দিয়ে সরাসরি ATM থেকে টাকা তোলা যায়। কার্ডের জন্য আলাদা ফি আছে। ছোট ছোট করে বারবার না তুলে বড় অঙ্কে তোলা ভালো। এতে ফি কম কাটে। উইথড্র সফল হলে আপনার ফোনে SMS আসবে। তখন ব্যাংক চেক করে নেবেন।
আরো পড়ুন :ফ্রি VPN ব্যবহারের আসল ক্ষতি কী
Payoneer এর চার্জ, ফি এবং লিমিট সম্পর্কে ধারণা
Payoneer অ্যাকাউন্ট খোলা আর টাকা রিসিভ করা পুরোটাই ফ্রি। ক্লায়েন্ট যখন টাকা পাঠায় তখন আপনার কাছ থেকে কোনো চার্জ কাটে না। চার্জ কাটে শুধু যখন টাকা ব্যাংকে তুলবেন। ব্যাংকে টাকা উইথড্র দিলে Payoneer প্রায় ২% ফি কাটে। মানে ১০ ডলার তুললে ৯৮ ডলার পাবেন। এই ফি অন্যান্য সার্ভিসের তুলনায় কম, তাই ফ্রিল্যান্সাররা এটাই বেশি ব্যবহার করে। Payoneer কার্ড নিলে আলাদা চার্জ আছে। কার্ডের জন্য বছরে প্রায় ২৯ ডলার ফি লাগে। ATM থেকে টাকা তুললে প্রতি ট্রানজ্যাকশনে ৩.১৫ ডলার কাটে।
লিমিটের কথা বললে, ভেরিফাইড অ্যাকাউন্টে সাধারণত কোনো বড় লিমিট থাকে না। আপনি চাইলে হাজার হাজার ডলারও নিতে পারবেন। শুধু নতুন অ্যাকাউন্টে প্রথমে একটু লিমিট কম থাকে। একবারে মিনিমাম ৫০ ডলার না হলে ব্যাংকে উইথড্র দেওয়া যায় না। এটা Payoneer এর নিয়ম। তাই ছোট ছোট পেমেন্ট জমিয়ে একসাথে তোলা ভালো। সব মিলিয়ে Payoneer এর ফি স্বচ্ছ। লুকানো কোনো চার্জ নাই। উইথড্র দেওয়ার আগেই দেখিয়ে দেয় কত টাকা কাটবে আর কত টাকা ব্যাংকে ঢুকবে।
অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ না হলে করণীয় ও সাধারণ সমস্যা
অনেক সময় ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার পরও Payoneer অ্যাকাউন্ট রিজেক্ট করে দেয়। তখন ঘাবড়াবেন না। মেইল খুলে দেখবেন ওরা রিজেক্টের কারণ লিখে দেয়। সবচেয়ে বেশি রিজেক্ট হয় ছবি ঝাপসা হলে বা নামে ভুল থাকলে। তখন নতুন করে পরিষ্কার ছবি তুলে আবার আপলোড করবেন। একই ভুল বারবার করবেন না। যদি বলে নাম মিলছে না, তার মানে আপনার NID আর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম আলাদা। এটা ঠিক করতে ব্যাংকে গিয়ে নাম সংশোধন করতে হবে, নাহলে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।
কিছু ক্ষেত্রে Payoneer সাপোর্টে কথা বলতে বলে। তখন লাইভ চ্যাট বা ইমেইলে সমস্যাটা গুছিয়ে লিখবেন। রাগ করে বা ভুল তথ্য দিলে সমস্যা বাড়ে। একবার রিজেক্ট হলে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করে আবার ট্রাই করবেন। বারবার ভুল ডকুমেন্ট দিলে অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে যেতে পারে। আসল কথা হলো, প্রথমবারেই সঠিক তথ্য আর পরিষ্কার ডকুমেন্ট দিলে ৯০% ক্ষেত্রে একবারেই অ্যাপ্রুভ হয়ে যায়। তাড়াহুড়া করলে সমস্যা হয়।
শেষ কথা
Payoneer অ্যাকাউন্ট খোলা শুনতে যত কঠিন লাগে, আসলে ততটা না। ধাপগুলো ধীরে ধীরে
ফলো করলে একবারেই হয়ে যায়। শুধু তথ্য আর ডকুমেন্ট ঠিকঠাক দিতে হবে।বাংলাদেশের
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এটা এখন সবচেয়ে সহজ রাস্তা বিদেশ থেকে টাকা আনার। PayPal
না থাকায় Payoneer একমাত্র নির্ভরযোগ্য অপশন হয়ে দাঁড়িয়েছে।সবচেয়ে বেশি ভুল হয়
নাম আর ডকুমেন্টে গরমিল রাখলে। তাই শুরু করার আগে NID, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সব
হাতের কাছে রেখে মিলিয়ে নেবে।
একবার অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ হয়ে গেলে আর ঝামেলা নাই। ক্লায়েন্টকে Receiving
Account দেবে, টাকা আসবে, তুমি ব্যাংকে তুলে নেবে।মনে রাখবে, Payoneer শুধু
একটা টুল। আসল হলো তোমার কাজ। কাজ ভালো হলে ক্লায়েন্ট টাকা পাঠাবেই, আর
Payoneer সেটা নিরাপদে তোমার কাছে পৌঁছে দেবে।
তাই ভয় না পেয়ে আজই শুরু করো। ছোট ছোট ধাপে এগোলে দেখবে এক সপ্তাহের মধ্যে
অ্যাকাউন্ট রেডি।
জুঁই ম্যাক্সনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url