সৌদি আরবে বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি
অনেক বাংলাদেশি মানুষ কাজের জন্য সৌদি আরবে থাকে। তারা দেশে টাকা পাঠায়, পরিবারের খরচ চালায়। আগে টাকা পাঠাতে আর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে অনেক ঝামেলা হতো।
এখন সৌদি আরব থেকে বসেই বাংলাদেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। এই লেখায় সহজভাবে বলবো কিভাবে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়, কী কাগজ লাগে, আর কী সুবিধা পাওয়া যায়।
সূচিপত্রঃসৌদি আরবে বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি
- কোন ব্যাংকগুলো সৌদি থেকে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেয়
- NRB, FC, সেভিংস অ্যাকাউন্টের পার্থক্য
- আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করার নিয়ম
- ব্যাংকের সৌদি এজেন্ট অফিসে আবেদন প্রক্রিয়া
- অনলাইনে NRB অ্যাকাউন্ট খোলার স্টেপ
- প্রাথমিক জমা এবং বাৎসরিক চার্জ
- সৌদি থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর নিয়ম
- ডুয়াল কারেন্সি কার্ড ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা
- রেমিট্যান্সে ২.৫% প্রণোদনা পাওয়ার শর্ত
- অ্যাকাউন্ট একটিভ হতে সময় ও স্ট্যাটাস চেক করার উপায়
- শেষ কথা
কোন ব্যাংকগুলো সৌদি থেকে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেয়
ভাই সৌদি আরবে বসে আপনি চাইলেই সব ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে পারবেন না। কারণ সব ব্যাংকের সৌদিতে শাখা বা এজেন্ট অফিস নাই। শুধু সরকারি আর কিছু বেসরকারি ব্যাংক প্রবাসীদের কথা চিন্তা করে NRB একাউন্ট খোলার সার্ভিস চালু করছে। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক এই 4টা সরকারি ব্যাংক সৌদির রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মাম, মক্কা, মদিনা সব বড় শহরে তাদের এজেন্ট অফিস রাখছে। তারপর বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, ডাচ বাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইউসিবি ব্যাংক এরাও সৌদিতে এজেন্ট দিছে।
ইসলামী ব্যাংক আর ডাচ বাংলা ব্যাংকের সার্ভিস সবচেয়ে ফাস্ট ভাই। ওরা অনলাইন ভিডিও কলেও একাউন্ট খুলে দেয়। আপনার বাসার পাশে কোন ব্যাংকের এজেন্ট আছে ওইটা জানার জন্য Google এ "ব্যাংকের নাম + Saudi Arabia agent office" লিখে সার্চ দেন। অথবা ব্যাংকের হেল্পলাইনে কল দেন। ব্যাংক সিলেক্ট করার সময় একটা জিনিস মাথায় রাখবেন ভাই। ওই ব্যাংকের রেমিট্যান্স সার্ভিস কেমন। টাকা পাঠানোর স্পিড কেমন। কারণ একাউন্ট খুলে যদি টাকা পাঠাতে 5 দিন লাগে তাইলে লাভ কি। তাই আগে খোঁজ নেন, তারপর একাউন্ট খুলেন। ভালো ব্যাংক দেখে একাউন্ট খুললে আপনারও শান্তি, দেশের মানুষেরও শান্তি।
NRB, FC, সেভিংস অ্যাকাউন্টের পার্থক্য
ভাই ব্যাংকে গেলেই অফিসার আপনাকে 3 ধরণের একাউন্টের কথা বলবে। NRB, FC আর সাধারণ সেভিংস একাউন্ট। অনেক প্রবাসী ভাই এই 3টার পার্থক্য না বুঝে ভুল একাউন্ট খুলে পরে আফসোস করে। NRB মানে Non Resident Bangladeshi একাউন্ট। এটা শুধু বিদেশে থাকে এমন বাংলাদেশিদের জন্য বানানো। এই একাউন্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আপনি টাকা, ডলার, রিয়াল 3টা মুদ্রাই রাখতে পারবেন। আর দেশে টাকা পাঠাইলে সরকার 2.5% প্রণোদনা দিবে। FC মানে Foreign Currency একাউন্ট।
এটাও ডলার একাউন্ট ঠিকই। কিন্তু NRB এর মতো প্রণোদনা পাবেন না ভাই। FC একাউন্ট মূলত ব্যবসায়ীদের জন্য। আর সাধারণ সেভিংস একাউন্ট হলো যারা দেশে থাকে তাদের জন্য। আপনি সৌদিতে থাকলে আপনার জন্য NRB একাউন্টই 100% বেস্ট। কারণ NRB তে সুদ নাই, ইসলামি শরিয়া মানে। প্রণোদনা আছে। নমিনি সুবিধা আছে। আপনি মারা গেলেও আপনার ওয়ারিশ সহজে টাকা তুলতে পারবে। FC একাউন্ট খুললে এই সুবিধা পাবেন না। তাই ব্যাংকে গিয়া সরাসরি বলবেন "ভাই আমি NRB সেভিংস একাউন্ট খুলবো"। অফিসার যদি FC খুলতে চায় তাইলে মানবেন না।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ভাই একাউন্ট খুলতে গেলে সবচেয়ে বড় ঝামেলা হলো কাগজপত্র। কাগজ একটা মিস গেলে সারাদিন ঘুরতে হবে। তাই যাওয়ার আগেই সব রেডি করে নেন। প্রথমে আপনার পাসপোর্ট লাগবে। পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে 6 মাস থাকতে হবে ভাই। মেয়াদ কম থাকলে ব্যাংক একাউন্ট খুলবে না। তারপর পাসপোর্ট সাইজ ছবি লাগবে 4 কপি। ছবি স্টুডিও থেকে তুলবেন। মোবাইলে তোলা ছবি চলবে না। ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা হতে হবে। তারপর সৌদির আকামা বা ইকামার ফটোকপি লাগবে। আকামার সামনে-পিছনে দুই পাশই ফটোকপি করবেন।
আকামার মেয়াদও চেক করে নিবেন। তারপর আপনার NID কার্ডের ফটোকপি লাগবে। NID না থাকলে জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি দিবেন। নমিনির NID আর 2 কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি লাগবে। নমিনি আপনার বাবা, মা, স্ত্রী বা বড় ছেলে-মেয়ে যে কাউকে দিতে পারেন। আর লাগবে সৌদির বাসার ঠিকানার প্রমাণ। বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল বা বাসার লিজের কপি দিলেই হবে। সব কাগজ একটা ফাইলে গুছায় রাখেন ভাই। ফটোকপি করার সময় অবশ্যই সত্যায়িত করে নিবেন। বাংলাদেশ দূতাবাসে 10 রিয়াল দিলেই সত্যায়িত করে দেয়। ব্যাংকের এজেন্ট অফিসেও করে দেয়। কাগজ ঠিক থাকলে ফর্ম ফিলাপ 15 মিনিটের কাজ।
আরো পড়ুন :সাইবার প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায়
দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করার নিয়ম
ভাই আপনার শহরে যদি কোনো ব্যাংকের এজেন্ট অফিস না থাকে তাইলে একদম টেনশন নাই। রিয়াদ বা জেদ্দার বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়া আবেদন করতে পারবেন। দূতাবাস প্রতি সপ্তাহে রবি বা সোমবার ব্যাংকিং সার্ভিস দেয়। যাওয়ার আগে দূতাবাসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট http://riyadh.mofa.gov.bd তে ঢুকে তারিখ আর সময় দেখে নিবেন। দূতাবাসে ঢুকার সময় পাসপোর্ট আর আকামা সাথে রাখবেন। ভিতরে গিয়া কাউন্টার 3 নাম্বারে NRB একাউন্ট এর ফর্ম চাইবেন। ফর্ম একদম ফ্রি দেয় ভাই। এক টাকাও লাগে না।
ফর্মে আপনার পুরা নাম, বাবার নাম, পাসপোর্ট নাম্বার, সৌদির ঠিকানা, বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানা, নমিনির নাম-ঠিকানা সব সুন্দর করে লিখবেন। NID কার্ডে যেভাবে নাম আছে ঠিক সেভাবে লিখবেন। একটা অক্ষর 19-20 হলেও একাউন্ট খুলবে না। ফর্মের সাথে সব কাগজের ফটোকপি পিন মেরে দিবেন। তারপর কাউন্টারের অফিসার সব চেক করে আপনাকে একটা জমা রিসিট দিবে। ওই রিসিটটা যত্ন করে রাখবেন ভাই। ওইটা হারায় গেলে পরে স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন না। জমা দেওয়ার 30 দিনের মধ্যে আপনার সৌদি নাম্বারে SMS আসবে একাউন্ট নাম্বার আর PIN সহ। তারপর আপনি টাকা জমা দিতে পারবেন। দূতাবাসের সার্ভিস একদম ফ্রি। কোনো দাল ধরবেন না ভাই। দাল 2000 টাকা চাইলেও দিবেন না।
ব্যাংকের সৌদি এজেন্ট অফিসে আবেদন প্রক্রিয়া
ভাই দূতাবাসে যাওয়া ঝামেলা মনে হইলে আপনার শহরের ব্যাংক এজেন্ট অফিসে চলে যান। এটা সবচেয়ে সহজ আর ফাস্ট। যেমন ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট অফিস আছে রিয়াদের বাথা মার্কেটের পাশে, জেদ্দার বালাদ এরিয়ায়, দাম্মামের আল খোবার শহরে। অফিসে ঢুকলেই ওরা আপনাকে বসতে দিবে। তারপর NRB ফর্ম দিবে। আপনি বসে বসে ফিলাপ করেন। বুঝতে না পারলে ওরাই কলম দিয়া লিখে দিবে। ওরা বাংলা বুঝে ভাই, তাই ভয় নাই। ফর্ম ফিলাপ শেষে আপনার 2টা ছবি তুলবে।
আঙুলের ছাপ নিবে ডিজিটাল মেশিনে। তারপর সব কাগজ স্ক্যান করে ঢাকার হেড অফিসে ইমেইল করে দিবে। জমা দেওয়ার সময় 100 রিয়াল জমা দিতে হয়। ওইটা আপনার একাউন্টেই জমা হবে ভাই। ব্যাংক কেটে নেয় না। অফিস থেকে আপনাকে একটা স্লিপ দিবে। ওই স্লিপে একটা ট্র্যাকিং নাম্বার থাকবে। ওই নাম্বার দিয়া 15 দিন পর ব্যাংকের হেল্পলাইনে কল দিয়া স্ট্যাটাস জানতে পারবেন। এজেন্ট অফিসের লোকজন খুব আন্তরিক হয়। প্রবাসীদের কষ্ট বুঝে। তাই নির্ভয়ে যান।
অনলাইনে NRB অ্যাকাউন্ট খোলার স্টেপ
ভাই 2026 সালে এসে সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো অনলাইনে একাউন্ট খোলা। ঘর থেকে বের হওয়া লাগে না। রোদে পোড়া লাগে না। প্রথমে আপনার পছন্দের ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান। যেমন islami bank http://bd.com বা http://dutchbanglabank.com। ওয়েবসাইটে ঢুকার পর মেনু থেকে "NRB Banking" অপশনে ক্লিক করেন। ওইখানে বড় করে "Apply Online Now" লেখা থাকবে। ক্লিক করার পর আপনার ইমেইল আর সৌদি মোবাইল নাম্বার দিয়া একটা একাউন্ট খুলেন। তারপর আপনার সব তথ্য দেন।
নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, জন্ম তারিখ, পাসপোর্ট নাম্বার, সৌদির ঠিকানা সব। তারপর পাসপোর্টের ছবি, আকামার ছবি, NID এর ছবি, আপনার সেলফি সব স্ক্যান করে আপলোড দেন। সবশেষে ভিডিও কল ভেরিফিকেশন হবে ভাই। ব্যাংকের অফিসার ভিডিও কলে আপনাকে 2 মিনিট দেখবে। পাসপোর্ট হাতে ধরে সামনে ধরতে বলবে। আপনি একটা কাগজে সই করে দেখাবেন। ভেরিফাই শেষ হইলে 7 দিনের মধ্যে একাউন্ট খুলে যাবে। একাউন্ট নাম্বার আর ইউজার আইডি আপনার ইমেইলে চলে আসবে। তারপর আপনি অনলাইন ব্যাংকিং চালু করে ঘরে বসেই টাকা জমা দিতে পারবেন। টেকনোলজির যুগে এতো সহজ আর কি লাগে বলেন ভাই।
আরো পড়ুন :ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবো কিভাবে
প্রাথমিক জমা এবং বাৎসরিক চার্জ
ভাই একাউন্ট খোলার সময় ব্যাংকে কিছু টাকা জমা দিতেই হয়। এটাকে প্রাথমিক জমা বলে। NRB সেভিংস একাউন্টে মিনিমাম 100 ডলার বা 375 সৌদি রিয়াল জমা দিতে হয়। এই টাকা আপনার একাউন্টেই থাকবে ভাই। ব্যাংক এই টাকা কেটে নিবে না। আপনি যখন খুশি তুলতে পারবেন। শুধু ব্যালেন্স 100 ডলারের নিচে নামানো যাবে না। তারপর প্রতি বছর ব্যাংক একটা চার্জ কাটে। এটাকে মেইনটেন্যান্স চার্জ বলে। NRB একাউন্টে বছরে 345 টাকা কাটে।
ডেবিট কার্ড নিলে বছরে 460 টাকা কাটবে। SMS এলার্ট সার্ভিস একদম ফ্রি। অনলাইন ব্যাংকিংও ফ্রি। ATM থেকে টাকা তোলার চার্জ নাই। কিন্তু একটা শর্ত আছে ভাই। আপনার একাউন্টে যদি 6 মাস পর্যন্ত 5000 টাকার কম ব্যালেন্স থাকে তাইলে ব্যাংক প্রতি 6 মাসে 50 টাকা করে চার্জ কাটবে। এটাকে Inactive চার্জ বলে। তাই একাউন্টে সবসময় 10000 টাকার মতো রাখবেন। তাইলে চার্জ কাটবে না। আর বছরে একবার হলেও লেনদেন করবেন।
সৌদি থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর নিয়ম
ভাই একাউন্ট খোলার আসল উদ্দেশ্যই হলো দেশে টাকা পাঠানো। NRB একাউন্টে সৌদি থেকে 3 ভাবে টাকা পাঠাতে পারবেন। প্রথম পদ্ধতি হলো ব্যাংক টু ব্যাংক ট্রান্সফার। আপনার সৌদির আল রাজি ব্যাংক, STC Pay বা Urpay অ্যাপ থেকে সরাসরি বাংলাদেশের NRB একাউন্ট নাম্বারে পাঠাবেন। SWIFT কোড দিতে হবে। 2 কার্যদিবস লাগবে টাকা জমা হতে। দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন বা মানিগ্রাম দিয়া টাকা পাঠায় ওইটা আপনার NRB একাউন্টে জমা করা।
তৃতীয় পদ্ধতি হলো ব্যাংকের সৌদি এজেন্ট অফিসে নগদ রিয়াল জমা দেওয়া। ওরা রিসিভ করে বাংলাদেশে আপনার একাউন্টে জমা করে দিবে। টাকা পাঠানোর সময় একটা জিনিস মাথায় রাখবেন ভাই। "Purpose of Remittance" ঘরে অবশ্যই "Family Support" বা "Savings" লিখবেন। তাইলে 2.5% প্রণোদনা পাবেন। 1000 রিয়াল পাঠাইলে সরকার আপনাকে 25 রিয়াল ফ্রি দিবে। টাকা জমা হওয়ার সাথে আপনার মোবাইলে SMS চলে আসবে। একদম ঝামেলা নাই। হুন্ডির রিস্কও নাই।
ডুয়াল কারেন্সি কার্ড ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা
ভাই NRB একাউন্ট খুললেই আপনি ফ্রিতে ডুয়াল কারেন্সি ডেবিট কার্ড পাবেন। এই কার্ডের মজা হলো এক কার্ডেই দুনিয়া ঘুরতে পারবেন। কার্ডে টাকা আর ডলার দুইটা মুদ্রাই লোড করা যায়। সৌদিতে কোনো শপিং মলে কিনাকাটা করলে রিয়াল কাটবে। বাংলাদেশে গেলে টাকা কাটবে। আবার ঘরে বসে আলি এক্সপ্রেস, আমাজন, নুক থেকে শপিং করলেও ডলারে পেমেন্ট হবে। কার্ডের জন্য আলাদা আবেদন করতে হয় না ভাই।
একাউন্ট খোলার 15 দিন পর ব্যাংক কুরিয়ার করে আপনার সৌদির বাসার ঠিকানায় কার্ড পাঠায় দিবে। কার্ড একটিভ করতে ব্যাংকের ATM এ গিয়া PIN সেট করতে হবে। সাথে ইন্টারনেট ব্যাংকিংও ফ্রি পাবেন। মোবাইলে ব্যাংকের অ্যাপ ডাউনলোড করে লগইন করেন। তারপর ব্যালেন্স চেক, টাকা ট্রান্সফার, মোবাইল রিচার্জ, স্টেটমেন্ট ডাউনলোড সব করতে পারবেন। ঘুম থেকে উইঠা দেখবেন দেশ থেকে আব্বা টাকা পাঠাইছে কিনা। এতো সুবিধা আগে কল্পনাও করা যাইতো না ভাই।
আরো পড়ুন :বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার সহজ নিয়ম
রেমিট্যান্সে ২.৫% প্রণোদনা পাওয়ার শর্ত
ভাই সরকার প্রবাসীদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য 2.5% প্রণোদনা দেয়। মানে 100 টাকা পাঠাইলে 2.5 টাকা সরকার আপনাকে ফ্রি দেয়। কিন্তু প্রণোদনা পেতে হলে 4টা শর্ত মানতে হবে। প্রথম শর্ত হলো টাকা অবশ্যই ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠাতে হবে। হুন্ডি, বিকাশ এজেন্ট বা কোনো দালের মাধ্যমে পাঠাইলে 1 টাকাও প্রণোদনা পাবেন না ভাই। দ্বিতীয় শর্ত হলো টাকা আপনার নিজের নামের NRB একাউন্টে আসতে হবে। আপনার ভাই, বন্ধুর একাউন্টে পাঠাইলে প্রণোদনা নাই।
তৃতীয় শর্ত হলো টাকা পাঠানোর সময় "Purpose of Remittance" ঘরে "Family Support", "Maintenance" বা "Savings" লিখতে হবে। যদি "Business Investment" বা "Loan" লিখেন তাইলে প্রণোদনা বাতিল। চতুর্থ শর্ত হলো মাসে সর্বোচ্চ 5 লাখ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পাবেন। এর বেশি টাকা পাঠাইলে অতিরিক্ত টাকার উপর প্রণোদনা নাই। টাকা আপনার একাউন্টে আসার 72 ঘণ্টার মধ্যে প্রণোদনার টাকা আলাদা করে আপনার একাউন্টে ঢুকে যাবে ভাই। আলাদা আবেদন করা লাগে না। ব্যাংক নিজেই দিয়ে দেয়।
অ্যাকাউন্ট একটিভ হতে সময় ও স্ট্যাটাস চেক করার উপায়
ভাই ফর্ম জমা দেওয়ার পর সবার মনেই একটা টেনশন কাজ করে। কবে একাউন্ট খুলবে? টাকা কবে পাঠাতে পারবো? নরমালি একাউন্ট একটিভ হতে 15 থেকে 30 দিন সময় লাগে। ব্যাংকের এজেন্ট অফিসে ফর্ম দিলে 15 দিন। বাংলাদেশ দূতাবাসে দিলে 30 দিন। আর অনলাইনে আবেদন করলে মাত্র 7 দিন। একাউন্ট খুলে গেলে আপনার সৌদি মোবাইল নাম্বারে একটা SMS আসবে ভাই। SMS এ 13 ডিজিটের একাউন্ট নাম্বার আর ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর ইউজার আইডি লেখা থাকবে।
SMS না আসলে আপনি নিজেই স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। 2টা উপায় আছে। প্রথম উপায় হলো ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারে কল দেওয়া। 16259 নাম্বারে কল দিয়া আপনার পাসপোর্ট নাম্বার বলেন। ওরা বলে দিবে। দ্বিতীয় উপায় হলো ব্যাংকের ওয়েবসাইটে "Track Application" অপশনে যাওয়া। ওইখানে আপনার পাসপোর্ট নাম্বার আর জন্ম তারিখ দিলে দেখাবে আপনার ফাইল এখন কোন স্টেজে আছে। অনেক সময় ছবি ঝাপসা হলে বা সই না মিললে ফাইল রিজেক্ট হয়ে যায়। তখন আবার নতুন করে কাগজ দিতে হয়। তাই কাগজ জমা দেওয়ার সময় সব ক্লিয়ার কপি দিবেন ভাই।
শেষ কথা
ভাই একদম শেষে একটা মনের কথা বলি। প্রবাস জীবন আল্লাহর পরীক্ষা। সারাদিন রোদের মধ্যে কামলা খাটেন। মাস শেষে টাকা জমান। সেই টাকা যদি হুন্ডিতে পাঠায় লস হয় তাইলে কষ্ট লাগে না বলেন? NRB একাউন্ট খুলে নেন ভাই। নিজের টাকা নিজে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠান। সরকার আপনাকে 2.5% বোনাস দিবে। দেশের রিজার্ভও বাড়বে। একাউন্ট খোলার সময় একদম তাড়াহুড়া করবেন না। সব কাগজ ঠিকমতো গুছায় নেন। নামের বান NID এর সাথে 100% মিল রাখেন।
নমিনি দেওয়ার সময় বুদ্ধি করে দেন। যে মানুষটা আপনার টাকার হেফাজত করতে পারবে তাকেই দেন। একাউন্ট খুলে গেলে প্রতি মাসে বেতন থেকে 500 রিয়াল করে জমান ভাই। অল্প অল্প করে জমলে একদিন দেখবেন দেশে গিয়ে একটা জমি কিনতে পারবেন। প্রবাস জীবন কষ্টের। তাই টাকার হিসাব নিজের হাতে রাখেন। দালের হাতে ছাইড়া দিয়েন না। আল্লাহ আপনার কষ্টের রিজিকে বরকত দিক। আপনার পরিবারকে ভালো রাখুক। আমিন।
আরো পড়ুন :ইউটিউব/ফেসবুক থেকে টাকা আয় করার সহজ উপায়
জুঁই ম্যাক্সনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url