তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসপ্যাক
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসপ্যাক অতিরিক্ত তেল ব্রণ ব্ল্যাকহেডস এবং বড় রোমকূপের মতো বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যা কমাতে অনেকেই ঘরোয়া ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। কারণ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক সহজে তৈরি করা যায় এবং
নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক পরিষ্কার ও সতেজ রাখতে সহায়তা করতে পারে। এই আর্টিকেলে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কার্যকর কয়েকটি ঘরোয়া ফেসপ্যাক তৈরির নিয়ম ব্যবহারবিধি উপকারিতা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
সূচিপত্র:তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসপ্যাক
- তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসপ্যাক
- তৈলাক্ত ত্বকের বৈশিষ্ট্য ও সাধারণ সমস্যা
- ফেসপ্যাক ব্যবহারের আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি
- বেসন ও গোলাপজলের ফেসপ্যাক
- মুলতানি মাটি ও গোলাপজলের ফেসপ্যাক
- মধু ও লেবুর রসের ফেসপ্যাক
- দই ও বেসনের ফেসপ্যাক
- শসা ও অ্যালোভেরা জেলের ফেসপ্যাক
- টমেটো ও মধুর ফেসপ্যাক
- ওটস ও দইয়ের ফেসপ্যাক
- নিমপাতা ও হলুদের ফেসপ্যাক
- ডিমের সাদা অংশ ও লেবুর ফেসপ্যাক
- চালের গুঁড়া ও গোলাপজলের ফেসপ্যাক
- ফেসপ্যাক ব্যবহারের সঠিক নিয়ম, সতর্কতা ও কতবার ব্যবহার করবেন
- শেষ কথা
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসপ্যাক কেন ব্যবহার করবেন
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসপ্যাক অনেকের কাছেই একটি সাধারণ সমস্যা। এই ধরনের ত্বকে সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত সেবাম বা প্রাকৃতিক তেল নিঃসৃত হয়। এর ফলে মুখ সব সময় চকচকে দেখায় এবং ধুলাবালি ঘাম ও ময়লা খুব সহজেই ত্বকে জমে যায়। এর কারণে ব্রণ ব্ল্যাকহেডস হোয়াইটহেডস বড় রোমকূপ এবং ত্বকের নিস্তেজ ভাবের মতো নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদিও বাজারে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বিভিন্ন ধরনের স্কিনকেয়ার পণ্য পাওয়া যায়।
তবে সব পণ্য সব ত্বকের জন্য উপযোগী নয়।অনেক সময় এসব পণ্যে থাকা শক্তিশালী রাসায়নিক উপাদান সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালাপোড়া শুষ্কতা বা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।এই কারণেই অনেকেই ঘরোয়া ফেসপ্যাককে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে বেছে নেন। রান্নাঘরে থাকা বেসন মুলতানি মাটি মধু দই শসা অ্যালোভেরা টমেটো ওটস কিংবা নিমপাতার মতো প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে সহজেই কার্যকর ফেসপ্যাক তৈরি করা যায়।
এসব উপাদান ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করতে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে রোমকূপের গভীর থেকে অশুদ্ধি দূর করতে এবং ত্বককে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি কিছু প্রাকৃতিক উপাদানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন এবং প্রদাহ কমাতে সহায়ক উপাদান থাকে। যা ব্রণপ্রবণ তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।তবে মনে রাখতে হবে ঘরোয়া ফেসপ্যাক কোনো জাদুকরি সমাধান নয় এবং একবার ব্যবহার করলেই স্থায়ী ফল পাওয়া যায় না।
ভালো ফল পেতে হলে নিয়মিত ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে হবে। মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার রাখতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন কোনো উপাদান মুখে ব্যবহারের আগে হাতে বা কানের পেছনে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া উচিত। এতে অ্যালার্জি বা ত্বকের প্রতিক্রিয়া আছে কি না তা সহজেই বোঝা যায়।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসপ্যাক সঠিক উপাদান নির্বাচন এবং নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে ঘরোয়া ফেসপ্যাক তৈলাক্ত ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করতে ত্বকের সতেজতা বজায় রাখতে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। তাই রাসায়নিকসমৃদ্ধ প্রসাধনীর ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে ত্বকের যত্ন নিতে চাইলে ঘরোয়া ফেসপ্যাক একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
তৈলাক্ত ত্বকের বৈশিষ্ট্য ও সাধারণ সমস্যা
তৈলাক্ত ত্বক এমন একটি ত্বকের ধরন যেখানে সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তেল উৎপন্ন হয়। এই অতিরিক্ত তেলের কারণে মুখ সব সময় চকচকে দেখায়। বিশেষ করে কপাল নাক এবং থুতনির অংশে তেল বেশি জমে। এই অংশকে সাধারণত টি জোন বলা হয়। অতিরিক্ত তেল ত্বকের রোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে। ফলে ব্রণ ব্ল্যাকহেডস হোয়াইটহেডস এবং বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়। অনেকের ক্ষেত্রে মুখে বারবার ব্রণ ওঠে এবং ব্রণ সেরে গেলেও দাগ দীর্ঘদিন থেকে যায়।
তৈলাক্ত ত্বকের আরেকটি সাধারণ সমস্যা হলো বড় রোমকূপ। অতিরিক্ত তেল এবং ময়লা জমে রোমকূপ আরও দৃশ্যমান হয়ে যায়। একই সঙ্গে ধুলাবালি দূষণ এবং ঘামের কারণে ত্বক দ্রুত নোংরা হয়ে যায়। এতে মুখের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে যায় এবং ত্বক নিস্তেজ দেখায়। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এই সমস্যাগুলো আরও বেশি বেড়ে যেতে পারে।
তবে তৈলাক্ত ত্বকের কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। প্রাকৃতিক তেলের কারণে এই ধরনের ত্বক তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় আর্দ্র থাকে। ফলে শুষ্ক ত্বকের মতো সহজে রুক্ষ হয়ে যায় না। তবুও ত্বক সুস্থ রাখতে প্রতিদিন সঠিকভাবে পরিষ্কার করা উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা এবং সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ঘরোয়া ফেসপ্যাক ব্যবহার করা উপকারী হতে পারে।
ফেসপ্যাক ব্যবহারের আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি
ঘরোয়া ফেসপ্যাক ব্যবহার করার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে রাখা প্রয়োজন। প্রথমেই মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে যাতে ত্বকে থাকা ধুলাবালি অতিরিক্ত তেল এবং ময়লা দূর হয়ে যায়। পরিষ্কার ত্বকে ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে এর উপাদানগুলো আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে।
যেকোনো নতুন উপাদান ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করা উচিত। হাতে বা কানের পেছনে অল্প পরিমাণ ফেসপ্যাক লাগিয়ে চব্বিশ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। যদি চুলকানি লালচে ভাব বা জ্বালাপোড়া না হয় তাহলে সেটি মুখে ব্যবহার করা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। যাদের ত্বক খুব সংবেদনশীল তাদের জন্য এই ধাপটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ফেসপ্যাক কখনোই অতিরিক্ত সময় মুখে রেখে দেওয়া উচিত নয়। সাধারণভাবে পনেরো থেকে বিশ মিনিট যথেষ্ট। এরপর কুসুম গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মুখ ধোয়ার পর হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে। এছাড়া সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ফেসপ্যাক ব্যবহার করাই যথেষ্ট।
আরো পড়ুন :চিয়া সিড খেলে গ্যাস হয় কেন
অতিরিক্ত ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে অথবা স্বাভাবিক তেলের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।যদি ত্বকে গুরুতর ব্রণ সংক্রমণ ক্ষত বা কোনো চর্মরোগ থাকে তাহলে নতুন কোনো ঘরোয়া ফেসপ্যাক ব্যবহার করার আগে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। সঠিক নিয়ম মেনে ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে তৈলাক্ত ত্বক পরিষ্কার সতেজ এবং স্বাস্থ্যকর রাখতে সহজেই সহায়তা পাওয়া যায়।
বেসন ও গোলাপজলের ফেসপ্যাক
তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে বেসন ও গোলাপজলের ফেসপ্যাক বহু বছর ধরে জনপ্রিয় একটি ঘরোয়া উপায়। বেসনে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে যা ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করতে এবং ত্বকের উপরিভাগে জমে থাকা ধুলাবালি ময়লা ও মৃত কোষ পরিষ্কার করতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে গোলাপজল ত্বককে সতেজ অনুভূতি দেয় এবং ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত সঠিকভাবে এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে মুখের অতিরিক্ত তেল কমে ত্বক পরিষ্কার ও প্রাণবন্ত দেখাতে পারে।
এই ফেসপ্যাক তৈরি করার জন্য দুই টেবিল চামচ বেসনের সঙ্গে পরিমাণমতো গোলাপজল মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। চাইলে এর সঙ্গে অল্প পরিমাণ কাঁচা দুধ বা এক চা চামচ মধুও যোগ করা যেতে পারে। তবে যাদের ত্বকে সহজেই ব্রণ হয় তারা শুধু বেসন ও গোলাপজল ব্যবহার করলেই ভালো। এরপর পরিষ্কার মুখ ও গলায় সমানভাবে ফেসপ্যাক লাগিয়ে পনেরো থেকে বিশ মিনিট অপেক্ষা করুন। ফেসপ্যাক হালকা শুকিয়ে গেলে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে আলতোভাবে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন।
এই ফেসপ্যাক সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করা যেতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক পরিষ্কার রাখতে অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করতে এবং মুখের সতেজতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার করলে কিছু মানুষের ত্বক শুষ্ক অনুভূত হতে পারে। তাই নিজের ত্বকের অবস্থা বুঝে ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো।
মুলতানি মাটি ও গোলাপজলের ফেসপ্যাক
মুলতানি মাটি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সবচেয়ে পরিচিত প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর একটি। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করতে এবং রোমকূপে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে সহায়তা করতে পারে। যারা বারবার ব্রণ ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডসের সমস্যায় ভোগেন তাদের জন্যও এই ফেসপ্যাক উপকারী হতে পারে। গোলাপজল যোগ করলে ফেসপ্যাকটি ত্বকে সহজে লাগানো যায় এবং ব্যবহারের পর ত্বকে সতেজ অনুভূতি আসে।
এই ফেসপ্যাক তৈরির জন্য দুই টেবিল চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে প্রয়োজনমতো গোলাপজল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। চাইলে এক চা চামচ অ্যালোভেরা জেলও যোগ করা যেতে পারে। এটি ত্বকের আরাম বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। এরপর মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে ফেসপ্যাকটি সমানভাবে লাগিয়ে পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করুন। পুরোপুরি শক্ত হয়ে যাওয়ার আগেই সামান্য পানি দিয়ে ভিজিয়ে ধীরে ধীরে ধুয়ে ফেলুন।
নিয়মিত সপ্তাহে একবার বা দুইবার এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে মুখের অতিরিক্ত তেল কমাতে রোমকূপ পরিষ্কার রাখতে এবং ত্বককে সতেজ দেখাতে সহায়তা করতে পারে। তবে যাদের ত্বক সংবেদনশীল তারা প্রথমবার ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করবেন। ব্যবহার করার পর একটি হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগানো ভালো অভ্যাস। এতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় থাকে।
মধু ও লেবুর রসের ফেসপ্যাক
মধু ও লেবুর রসের ফেসপ্যাক তৈলাক্ত ত্বকের জন্য একটি সহজ এবং জনপ্রিয় ঘরোয়া উপায়। মধু প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বককে নরম ও মসৃণ অনুভব করায়। অন্যদিকে লেবুর রসে থাকা প্রাকৃতিক অ্যাসিড অতিরিক্ত তেল কমাতে এবং ত্বককে সতেজ দেখাতে সহায়তা করতে পারে। তবে লেবুর রস সবার ত্বকের জন্য উপযোগী নয়। তাই এটি ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকা জরুরি।
এই ফেসপ্যাক তৈরি করতে এক টেবিল চামচ খাঁটি মধুর সঙ্গে আধা চা চামচ তাজা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এরপর পরিষ্কার মুখে একটি পাতলা স্তর লাগিয়ে দশ থেকে পনেরো মিনিট অপেক্ষা করুন। নির্ধারিত সময় শেষে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মুখ ধোয়ার পর হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক আরামদায়ক অনুভূত হবে।
এই ফেসপ্যাক সপ্তাহে একবার ব্যবহার করাই যথেষ্ট। লেবুর রস কিছু মানুষের ত্বকে জ্বালাপোড়া লালচে ভাব বা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। তাই প্রথমবার ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করা উচিত। এছাড়া এই ফেসপ্যাক ব্যবহারের পর সরাসরি রোদে না যাওয়াই ভালো। বাইরে বের হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। নিয়মিত এবং সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে এই ফেসপ্যাক তৈলাক্ত ত্বক পরিষ্কার রাখতে অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ত্বককে আরও সতেজ ও উজ্জ্বল দেখাতে সহায়তা করতে পারে।
দই ও বেসনের ফেসপ্যাক
দই ও বেসনের ফেসপ্যাক তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে একটি সহজ এবং কার্যকর ঘরোয়া উপায় হিসেবে পরিচিত। বেসন ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করতে এবং ত্বকের উপর জমে থাকা ধুলাবালি ও মৃত কোষ পরিষ্কার করতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে দইয়ে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে মসৃণ রাখতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই দুটি উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার সতেজ এবং কোমল অনুভূত হতে পারে।
এই ফেসপ্যাক তৈরি করার জন্য দুই টেবিল চামচ বেসনের সঙ্গে এক টেবিল চামচ টক দই ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। প্রয়োজন হলে অল্প পরিমাণ গোলাপজল যোগ করে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এরপর পরিষ্কার মুখ ও গলায় সমানভাবে ফেসপ্যাক লাগিয়ে পনেরো থেকে বিশ মিনিট অপেক্ষা করুন। ফেসপ্যাক শুকিয়ে এলে হালকা হাতে ম্যাসাজ করে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
আরো পড়ুন :১৬ হাজার টাকায় ১১টি ব্যবসার আইডিয়া
সপ্তাহে এক থেকে দুইবার এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমাতে মুখ পরিষ্কার রাখতে এবং ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে যাদের দুগ্ধজাত খাবারে অ্যালার্জি রয়েছে বা দই ব্যবহারে ত্বকে জ্বালাপোড়া হয় তারা এটি ব্যবহার করার আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করবেন।
শসা ও অ্যালোভেরা জেলের ফেসপ্যাক
শসা ও অ্যালোভেরা জেলের ফেসপ্যাক তৈলাক্ত এবং ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য একটি সতেজ অনুভূতি দেওয়া প্রাকৃতিক ফেসপ্যাক। শসায় প্রচুর পানি এবং বিভিন্ন উপকারী পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা ত্বককে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে অ্যালোভেরা জেল ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে এবং ত্বককে আরামদায়ক অনুভব করাতে সহায়তা করতে পারে।
গরমের সময় বা দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকার পর এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বক অনেক বেশি সতেজ লাগে।এই ফেসপ্যাক তৈরির জন্য অর্ধেক শসা ব্লেন্ড করে এর সঙ্গে এক থেকে দুই টেবিল চামচ বিশুদ্ধ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিন। এরপর মিশ্রণটি পরিষ্কার মুখে সমানভাবে লাগিয়ে পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করুন। নির্ধারিত সময় শেষে ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
নিয়মিত সপ্তাহে দুইবার এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে মুখকে সতেজ রাখতে এবং ত্বকের ক্লান্ত ভাব দূর করতে সহায়তা করতে পারে। যদি তাজা অ্যালোভেরা ব্যবহার করেন তাহলে নিশ্চিত হয়ে নিন যে এর হলুদ রস সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে। কারণ এটি কিছু মানুষের ত্বকে জ্বালাপোড়ার কারণ হতে পারে। নতুনভাবে ব্যবহার করার আগে প্যাচ টেস্ট করাও গুরুত্বপূর্ণ।
টমেটো ও মধুর ফেসপ্যাক
টমেটো ও মধুর ফেসপ্যাক তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বহুল ব্যবহৃত একটি ঘরোয়া ফেসপ্যাক। টমেটোতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান অতিরিক্ত তেল কমাতে এবং ত্বককে পরিষ্কার অনুভব করাতে সহায়তা করতে পারে। মধু ত্বকের প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং ত্বককে নরম ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে। এই দুটি উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি ফেসপ্যাক নিয়মিত ব্যবহার করলে মুখের সতেজতা বজায় রাখতে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
এই ফেসপ্যাক তৈরির জন্য একটি ছোট পাকা টমেটো ভালোভাবে ব্লেন্ড করে এর সঙ্গে এক টেবিল চামচ খাঁটি মধু মিশিয়ে নিন। এরপর পরিষ্কার মুখ ও গলায় সমানভাবে লাগিয়ে পনেরো মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর হালকা হাতে ম্যাসাজ করে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।সপ্তাহে একবার বা দুইবার এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে।
নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক পরিষ্কার রাখতে অতিরিক্ত তেল কমাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে টমেটো কিছুটা জ্বালাপোড়ার অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে। তাই প্রথমবার ব্যবহার করার আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করুন। ফেসপ্যাক ব্যবহারের পর বাইরে গেলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখা সহজ হয়।
ওটস ও দইয়ের ফেসপ্যাক
ওটস ও দইয়ের ফেসপ্যাক তৈলাক্ত ত্বকের জন্য একটি কোমল এবং কার্যকর ঘরোয়া ফেসপ্যাক। ওটস প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের উপর জমে থাকা মৃত কোষ এবং অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে এটি ত্বককে হালকাভাবে এক্সফোলিয়েট করে এবং ত্বককে মসৃণ অনুভব করায়। অন্যদিকে দইয়ে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বক পরিষ্কার রাখতে এবং ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
এই দুটি উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার করলে তৈলাক্ত ত্বক আরও পরিষ্কার সতেজ এবং প্রাণবন্ত দেখাতে পারে।এই ফেসপ্যাক তৈরি করতে দুই টেবিল চামচ গুঁড়ো করা ওটসের সঙ্গে এক টেবিল চামচ টক দই ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। প্রয়োজন হলে অল্প পরিমাণ গোলাপজল যোগ করে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এরপর পরিষ্কার মুখ ও গলায় সমানভাবে লাগিয়ে পনেরো থেকে বিশ মিনিট অপেক্ষা করুন। ফেসপ্যাক কিছুটা শুকিয়ে এলে ভেজা হাতে আলতোভাবে গোলাকারভাবে ম্যাসাজ করুন।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসপ্যাক এরপর স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।সপ্তাহে এক থেকে দুইবার এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমাতে রোমকূপ পরিষ্কার রাখতে এবং ত্বককে আরও নরম ও উজ্জ্বল দেখাতে সহায়তা করতে পারে। তবে খুব জোরে ঘষাঘষি করা উচিত নয়। এতে ত্বকে জ্বালাপোড়া বা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে।
নিমপাতা ও হলুদের ফেসপ্যাক
নিমপাতা ও হলুদের ফেসপ্যাক ব্রণপ্রবণ এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বহুল পরিচিত একটি ঘরোয়া ফেসপ্যাক। নিমপাতায় প্রাকৃতিকভাবে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা ত্বক পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে হলুদ ত্বকের যত্নে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এটি ত্বককে সতেজ রাখতে সাহায্য করতে পারে। এই দুটি উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি ফেসপ্যাক অতিরিক্ত তেল কমাতে এবং ত্বককে পরিষ্কার রাখতে সহায়ক হতে পারে।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসপ্যাক এই ফেসপ্যাক তৈরি করার জন্য এক মুঠো পরিষ্কার নিমপাতা বেটে বা ব্লেন্ড করে এর সঙ্গে এক চিমটি হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে নিন। প্রয়োজন হলে অল্প পরিমাণ গোলাপজল বা পরিষ্কার পানি যোগ করে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর মুখে সমানভাবে লাগিয়ে পনেরো মিনিট অপেক্ষা করুন। নির্ধারিত সময় শেষে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
আরো পড়ুন :মোবাইল বেশি ব্যবহার করলে চোখের ক্ষতি কমানোর উপায়
সপ্তাহে একবার এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করাই যথেষ্ট। অতিরিক্ত হলুদ ব্যবহার করলে ত্বকে সাময়িকভাবে হলুদ রঙের আভা দেখা দিতে পারে। তাই খুব অল্প পরিমাণ হলুদ ব্যবহার করা উচিত। যাদের ত্বক সংবেদনশীল তারা প্রথমবার ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করবেন। নিয়মিত ব্যবহার করলে তৈলাক্ত ত্বক পরিষ্কার রাখতে এবং মুখের সতেজতা বজায় রাখতে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
ডিমের সাদা অংশ ও লেবুর ফেসপ্যাক
ডিমের সাদা অংশ ও লেবুর ফেসপ্যাক তৈলাক্ত ত্বকের জন্য একটি জনপ্রিয় ঘরোয়া ফেসপ্যাক। ডিমের সাদা অংশ শুকিয়ে গেলে ত্বকে টানটান অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং অনেকেই এটি বড় রোমকূপের দৃশ্যমানতা সাময়িকভাবে কমাতে ব্যবহার করেন। অন্যদিকে লেবুর রস অতিরিক্ত তেল কমাতে এবং ত্বককে সতেজ অনুভব করাতে সহায়তা করতে পারে। তবে লেবুর রস সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই এটি ব্যবহারের সময় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
এই ফেসপ্যাক তৈরির জন্য একটি ডিমের সাদা অংশ ভালোভাবে ফেটিয়ে এর সঙ্গে আধা চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এরপর পরিষ্কার মুখে পাতলা করে লাগিয়ে দশ থেকে পনেরো মিনিট অপেক্ষা করুন। ফেসপ্যাক শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর একট হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন যাতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে।
এই ফেসপ্যাক সপ্তাহে একবার ব্যবহার করাই যথেষ্ট। কাঁচা ডিম ব্যবহারের সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। যদি ত্বকে কাটা বা ক্ষত থাকে তাহলে এই ফেসপ্যাক ব্যবহার না করাই ভালো। এছাড়া প্রথমবার ব্যবহার করার আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করুন। নিয়মিত এবং সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে এই ফেসপ্যাক তৈলাক্ত ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ত্বককে পরিষ্কার ও সতেজ দেখাতে সহায়তা করতে পারে।
চালের গুঁড়া ও গোলাপজলের ফেসপ্যাক
চালের গুঁড়া ও গোলাপজলের ফেসপ্যাক তৈলাক্ত ত্বকের জন্য একটি সহজ এবং কার্যকর ঘরোয়া ফেসপ্যাক। চালের গুঁড়া প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের উপর জমে থাকা মৃত কোষ দূর করতে এবং অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করতে সহায়তা করতে পারে। এটি ত্বককে কোমলভাবে এক্সফোলিয়েট করে এবং ত্বকের মসৃণতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে গোলাপজল ত্বককে সতেজ অনুভূতি দেয় এবং ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
নিয়মিত এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে মুখ পরিষ্কার এবং প্রাণবন্ত দেখাতে পারে।এই ফেসপ্যাক তৈরির জন্য দুই টেবিল চামচ চালের গুঁড়ার সঙ্গে প্রয়োজনমতো গোলাপজল মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। চাইলে এক চা চামচ টক দই বা অ্যালোভেরা জেল যোগ করা যেতে পারে। এরপর পরিষ্কার মুখ ও গলায় সমানভাবে লাগিয়ে পনেরো থেকে বিশ মিনিট অপেক্ষা করুন।
ফেসপ্যাক কিছুটা শুকিয়ে এলে ভেজা হাতে আলতোভাবে ম্যাসাজ করে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।সপ্তাহে এক থেকে দুইবার এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। অতিরিক্ত জোরে ঘষাঘষি না করে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করা উচিত। এতে ত্বকের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমাতে মুখ পরিষ্কার রাখতে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
ফেসপ্যাক ব্যবহারের সঠিক নিয়ম সতর্কতা ও কতবার ব্যবহার করবেন
ঘরোয়া ফেসপ্যাক ব্যবহার করার সময় সঠিক নিয়ম অনুসরণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে একটি মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। এতে ত্বকের উপর থাকা ধুলাবালি ঘাম অতিরিক্ত তেল এবং ময়লা দূর হয়ে যায়। পরিষ্কার ত্বকে ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে এর উপাদানগুলো আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে। ফেসপ্যাক লাগানোর সময় চোখ ঠোঁট এবং ক্ষতযুক্ত স্থান এড়িয়ে চলা উচিত।
সাধারণভাবে একটি ফেসপ্যাক পনেরো থেকে বিশ মিনিট মুখে রাখাই যথেষ্ট। এর বেশি সময় রেখে দিলে কিছু ক্ষেত্রে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। ফেসপ্যাক ধোয়ার সময় খুব গরম পানি ব্যবহার না করে স্বাভাবিক তাপমাত্রার বা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা ভালো। মুখ ধোয়ার পর একটি হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে। দিনের বেলা বাইরে বের হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ফেসপ্যাক ব্যবহার করাই যথেষ্ট। প্রতিদিন ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক তেলের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। নতুন কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করুন। যদি ত্বকে অতিরিক্ত জ্বালাপোড়া চুলকানি লালচে ভাব বা ফুসকুড়ি দেখা দেয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করুন। দীর্ঘদিন ধরে ব্রণ বা অন্য কোনো ত্বকের সমস্যা থাকলে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
শেষ কথা
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসপ্যাক শুধু ফেসপ্যাক ব্যবহার করলেই তৈলাক্ত ত্বকের সব সমস্যা দূর হয় না। সুস্থ এবং পরিষ্কার ত্বক পেতে প্রতিদিন নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেওয়া জরুরি। দিনে দুইবার মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। প্রতিদিন সানস্ক্রিন লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং অতিরিক্ত তেলযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর খাবার কম খাওয়ার চেষ্টা করুন। পরিষ্কার বালিশের কভার ব্যবহার করুন এবং মুখে বারবার হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসপ্যাক অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে ঘরোয়া ফেসপ্যাক কি প্রতিদিন ব্যবহার করা যায়। সাধারণভাবে এর উত্তর না। সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করাই যথেষ্ট। আরেকটি সাধারণ প্রশ্ন হলো সব ধরনের ফেসপ্যাক কি সবার ত্বকে একইভাবে কাজ করে।
এর উত্তরও না। প্রত্যেক মানুষের ত্বক আলাদা। তাই কোনো ফেসপ্যাক একজনের জন্য ভালো ফল দিলেও অন্যজনের ক্ষেত্রে একই ফল নাও দিতে পারে। এজন্য নতুন কোনো উপাদান ব্যবহার করার আগে প্যাচ টেস্ট করা গুরুত্বপূর্ণ।আরও একটি প্রশ্ন হলো ঘরোয়া ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে কত দিনে ফল পাওয়া যায়। এর নির্দিষ্ট সময় বলা সম্ভব নয়।
কারণ এটি ত্বকের ধরন নিয়মিত যত্ন খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে। ধৈর্য ধরে নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিলে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে যদি তীব্র ব্রণ অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ বা দীর্ঘদিনের ত্বকের সমস্যা থাকে তাহলে নিজে চিকিৎসা না করে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

জুঁই ম্যাক্স নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url