মাসিকের সময় চোখ জ্বালা কেন? কারণ, লক্ষণ ও করণীয়


মাসিকের সময় অনেক নারী চোখে জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা বা অস্বস্তি অনুভব করেন। এর প্রধান কারণ হতে পারে হরমোনের পরিবর্তন, চোখের আর্দ্রতা কমে যাওয়া, পানিশূন্যতা বা দীর্ঘ সময় মোবাইল 
মাসিকের-সময়-চোখ-জ্বালা-কেন?-কারণ,-লক্ষণ-ও-করণীয়
কম্পিউটার ব্যবহার। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি সাময়িক এবং গুরুতর নয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে। এই নিবন্ধে মাসিকের সময় চোখ জ্বালা কেন হয়, এর কারণ, লক্ষণ, করণীয় এবং প্রতিরোধের উপায় সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।

সূচিপত্রঃ মাসিকের সময় চোখ জ্বালা কেন? কারণ, লক্ষণ ও করণীয়

মাসিকের সময় চোখ জ্বালা কেন?

মাসিকের সময় অনেক নারী চোখে জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা, চুলকানি বা অস্বস্তি অনুভব করেন। যদিও এটি সবার ক্ষেত্রে দেখা যায় না, তবে হরমোনের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে এমন সমস্যা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। মাসিক শুরু হওয়ার আগে এবং চলাকালীন শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা ওঠানামা করে। এই পরিবর্তন শুধু জরায়ুর ওপর নয়, চোখের অশ্রু তৈরির প্রক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে চোখে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না থাকলে জ্বালাপোড়া বা শুষ্ক অনুভূতি দেখা দিতে পারে।চোখের সামনের অংশকে সুরক্ষিত রাখতে একটি পাতলা অশ্রুর স্তর (Tear Film) থাকে। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এই স্তরটি কিছুটা দুর্বল হয়ে গেলে চোখ দ্রুত শুকিয়ে যায়। তখন অনেকের মনে হতে পারে চোখে বালু পড়েছে বা চোখ জ্বালা করছে। 

বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি অনুভূত হতে পারে। কারণ দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের পলক কম পড়ে, ফলে চোখ দ্রুত শুকিয়ে যায়।এছাড়া মাসিকের সময় শরীরে পানির ভারসাম্যেও কিছু পরিবর্তন ঘটে। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে, যা চোখের শুষ্কতা ও জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে ঘুম কম হওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ধুলাবালি, ধোঁয়া বা অ্যালার্জির মতো কারণও চোখের অস্বস্তি বাড়াতে পারে।যাদের আগে থেকেই ড্রাই আই সিনড্রোম, অ্যালার্জি বা চোখের অন্য কোনো সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে মাসিক চলাকালীন লক্ষণগুলো আরও তীব্র হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই জ্বালাপোড়া সাময়িক হয় এবং মাসিক শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে কমে যায়।

তবে যদি চোখের জ্বালার সঙ্গে তীব্র ব্যথা, দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত লালভাব, পুঁজ বের হওয়া, আলো সহ্য করতে না পারা বা কয়েক দিন পরও সমস্যা না কমে, তাহলে এটিকে শুধুমাত্র মাসিকের প্রভাব ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ এর পেছনে চোখের সংক্রমণ, অ্যালার্জি বা অন্য কোনো রোগও থাকতে পারে।সংক্ষেপে বলা যায়, মাসিকের সময় চোখ জ্বালা করার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো হরমোনের পরিবর্তনের ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া। তবে জীবনযাপনের অভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি না পান করা, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার এবং আগে থেকে থাকা চোখের সমস্যাও এর জন্য দায়ী হতে পারে। সঠিক যত্ন নিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

 মাসিকের সময় চোখ জ্বালার প্রধান কারণ

মাসিকের সময় চোখ জ্বালা হওয়ার পেছনে একক কোনো কারণ দায়ী নয়। সাধারণত শরীরে হরমোনের পরিবর্তন, চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যাওয়া, জীবনযাপনের অভ্যাস এবং আগে থেকে থাকা কিছু শারীরিক সমস্যার সম্মিলিত প্রভাবে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক নারী মাসিক শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে থেকেই চোখে অস্বস্তি অনুভব করেন, আবার কারও ক্ষেত্রে মাসিক চলাকালীন বা শেষের দিকে এই লক্ষণ দেখা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি সাময়িক হলেও কারণগুলো সম্পর্কে জানা থাকলে সমস্যা মোকাবিলা করা সহজ হয়।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের ওঠানামা। এই হরমোন দুটি নারীর প্রজনন ব্যবস্থার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলে। 

চোখের অশ্রু তৈরির গ্রন্থিগুলোও এই হরমোনের পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীল। মাসিকের সময় হরমোনের মাত্রা পরিবর্তিত হলে চোখে অশ্রু উৎপাদন কিছুটা কমে যেতে পারে বা অশ্রুর গুণগত মান পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে চোখের পৃষ্ঠ দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং জ্বালাপোড়া, খচখচে অনুভূতি বা চোখে কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি হতে পারে।চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া (Dry Eye) মাসিকের সময় চোখ জ্বালার আরেকটি সাধারণ কারণ। স্বাভাবিক অবস্থায় অশ্রুর পাতলা স্তর চোখকে আর্দ্র, পরিষ্কার ও সংক্রমণমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু অশ্রুর পরিমাণ কমে গেলে বা দ্রুত শুকিয়ে গেলে চোখে অস্বস্তি শুরু হয়। যারা আগে থেকেই ড্রাই আই সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় এই লক্ষণ আরও তীব্র হতে পারে।বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত মোবাইল, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহারও একটি বড় কারণ। 

দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের পলক ফেলার হার কমে যায়। ফলে অশ্রু দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং চোখে জ্বালাপোড়া বেড়ে যায়। মাসিকের সময় শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে এই প্রভাব আরও বেশি অনুভূত হতে পারে। যারা অফিসে বা পড়াশোনার জন্য দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার করেন, তাদের এ বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা উচিত।পর্যাপ্ত পানি পান না করা বা শরীরে পানিশূন্যতা থাকলেও চোখে জ্বালা হতে পারে। মাসিক চলাকালীন অনেকেই স্বাভাবিকের তুলনায় কম পানি পান করেন বা শরীর দুর্বল অনুভব করেন। এতে শরীরের অন্যান্য অংশের মতো চোখও পর্যাপ্ত আর্দ্রতা হারাতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।এছাড়া অ্যালার্জি, ধুলাবালি, ধোঁয়া, এসি রুমে দীর্ঘ সময় থাকা বা কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার** করলেও চোখে জ্বালা বাড়তে পারে।

 যাদের চোখে অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় লক্ষণ আরও স্পষ্ট হতে পারে। একইভাবে কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীরা মাসিকের সময় চোখে বেশি শুষ্কতা ও অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন।মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং অতিরিক্ত ক্লান্তিও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। মাসিকের সময় অনেক নারীর ঘুমের সমস্যা বা মানসিক অস্থিরতা দেখা দেয়, যা চোখের ক্লান্তি ও জ্বালাপোড়াকে আরও তীব্র করতে পারে।তবে মনে রাখতে হবে, যদি চোখের জ্বালার সঙ্গে তীব্র ব্যথা, অতিরিক্ত লালভাব, পুঁজ, আলো সহ্য করতে না পারা বা দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে এটি শুধুমাত্র মাসিকজনিত সমস্যা নাও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

হরমোনের পরিবর্তন ও চোখের সম্পর্ক

অনেকেই মনে করেন মাসিকের প্রভাব শুধুমাত্র জরায়ু বা প্রজনন ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। নারীদের শরীরে মাসিকের সময় যে হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে, তা চোখসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মাসিক চলাকালীন চোখে জ্বালা, শুষ্কতা, ঝাপসা দেখা বা অস্বস্তি অনুভব করা অনেক নারীর জন্য অস্বাভাবিক নয়।চোখের বিভিন্ন টিস্যুতে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের রিসেপ্টর রয়েছে। অর্থাৎ এই হরমোনের মাত্রা কমে বা বেড়ে গেলে চোখের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে চোখের অশ্রু উৎপাদন এবং অশ্রুর মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে হরমোনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মাসিকের সময় যখন হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটে, তখন চোখের অশ্রু দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে। এর ফলেই অনেক নারী চোখে জ্বালা, খচখচে ভাব, চুলকানি বা শুষ্কতা অনুভব করেন।

হরমোনের পরিবর্তনের কারণে চোখের Tear Film বা অশ্রুর সুরক্ষামূলক স্তরও কিছুটা অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে। এই স্তরটি চোখকে সবসময় আর্দ্র রাখে এবং ধুলাবালি ও জীবাণুর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। কিন্তু এটি দুর্বল হয়ে গেলে চোখ সহজেই শুষ্ক হয়ে যায় এবং সামান্য বাতাস, ধুলাবালি বা স্ক্রিনের আলোতেও অস্বস্তি বাড়তে পারে।যেসব নারী কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, তারা মাসিকের সময় লেন্স পরলে বেশি অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। কারণ শুষ্ক চোখে লেন্সের ঘর্ষণ বেড়ে যায়, যা চোখের জ্বালা ও লালভাব বাড়িয়ে দিতে পারে। একইভাবে যারা দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রেও হরমোনজনিত পরিবর্তনের সঙ্গে স্ক্রিন ব্যবহারের প্রভাব যুক্ত হয়ে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

আরো পড়ুন : রং চা খেলে কি কোষ্ঠকাঠিন্য হয়?

গবেষণায় দেখা গেছে, মাসিক চক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে চোখের আর্দ্রতা, কর্নিয়ার সংবেদনশীলতা এবং চোখের আরাম-অস্বস্তির মাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে। তবে এই পরিবর্তন সাধারণত সাময়িক এবং মাসিক শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।তবে যদি প্রতিটি মাসিকের সময় একই ধরনের তীব্র চোখের সমস্যা দেখা দেয়, অথবা মাসিক শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন চোখে জ্বালা, শুষ্কতা বা ঝাপসা দেখা অব্যাহত থাকে, তাহলে এটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ এর পেছনে ড্রাই আই সিনড্রোম, অ্যালার্জি, ভিটামিনের ঘাটতি বা অন্য কোনো চোখের রোগও থাকতে পারে। সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

চোখ শুষ্ক হওয়ার কারণ

চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা ড্রাই আই (Dry Eye) এমন একটি সমস্যা, যেখানে চোখে পর্যাপ্ত অশ্রু তৈরি হয় না অথবা তৈরি হওয়া অশ্রু দ্রুত শুকিয়ে যায়। স্বাভাবিক অবস্থায় চোখের ওপর একটি পাতলা অশ্রুর স্তর (Tear Film) থাকে, যা চোখকে আর্দ্র রাখে, ধুলাবালি ও জীবাণু থেকে সুরক্ষা দেয় এবং পরিষ্কারভাবে দেখতে সাহায্য করে। কিন্তু এই স্তরে সমস্যা দেখা দিলে চোখে জ্বালাপোড়া, খচখচে ভাব, চুলকানি, লালভাব এবং ঝাপসা দেখার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।মাসিকের সময় শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা পরিবর্তিত হওয়ার কারণে অনেক নারীর চোখের অশ্রু উৎপাদন সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। ফলে চোখ দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়। যাদের আগে থেকেই ড্রাই আই সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে মাসিক চলাকালীন এই সমস্যা আরও বেশি তীব্র হতে পারে।চোখ শুষ্ক হওয়ার আরেকটি বড় কারণ হলো দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহার করা। স্ক্রিনের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলে চোখের পলক ফেলার সংখ্যা কমে যায়।

 সাধারণত একজন মানুষ প্রতি মিনিটে ১৫–২০ বার পলক ফেললেও স্ক্রিন ব্যবহারের সময় তা অনেক কমে যেতে পারে। এর ফলে অশ্রু দ্রুত বাষ্পীভূত হয় এবং চোখে শুষ্কতা ও জ্বালা দেখা দেয়।এছাড়া এয়ার কন্ডিশনার (AC) রুমে দীর্ঘ সময় থাকা, অতিরিক্ত ফ্যানের বাতাস, ধুলাবালি, ধোঁয়া, শুষ্ক আবহাওয়া এবং রোদে বেশি সময় থাকা চোখের আর্দ্রতা কমিয়ে দিতে পারে। কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও চোখ শুষ্ক হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে, বিশেষ করে মাসিকের সময়।শরীরে পানিশূন্যতা থাকলেও চোখে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বজায় থাকে না। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।তবে যদি চোখের শুষ্কতা দীর্ঘদিন ধরে থাকে, বারবার চোখে জ্বালা হয় বা কৃত্রিম অশ্রু (Artificial Tears) ব্যবহার করার পরও সমস্যা না কমে, তাহলে অবশ্যই একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ কখনও কখনও এটি অন্য কোনো চোখের রোগ বা শারীরিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে

মাসিকের সময় চোখ জ্বালা হওয়ার সঙ্গে আরও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কারও ক্ষেত্রে একটি বা দুটি লক্ষণ দেখা যায়, আবার কারও ক্ষেত্রে একাধিক সমস্যা একসঙ্গে হতে পারে। এসব লক্ষণ সাধারণত মাসিকের সময় হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাময়িক হয়।সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো চোখে জ্বালাপোড়া বা খচখচে অনুভূতি। অনেকেই মনে করেন যেন চোখে ধুলাবালি বা বালুকণা ঢুকে আছে। এই অস্বস্তি দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার করলে আরও বেড়ে যেতে পারে।অনেক নারীর চোখ শুষ্ক হয়ে যায়। চোখে পর্যাপ্ত অশ্রু না থাকায় চোখ টানটান লাগে, পলক ফেলতে অস্বস্তি হয় এবং মাঝে মাঝে চোখে ব্যথাও অনুভূত হতে পারে। আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে শুষ্কতার কারণে উল্টো চোখ দিয়ে অতিরিক্ত পানি পড়তে পারে। এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

চোখ লাল হয়ে যাওয়া আরেকটি সাধারণ লক্ষণ। শুষ্কতা বা সামান্য প্রদাহের কারণে চোখের রক্তনালিগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে, ফলে চোখ লাল দেখাতে পারে। এর সঙ্গে **চুলকানি** থাকলে অ্যালার্জির সম্ভাবনাও বিবেচনা করা উচিত।কিছু নারীর আলো সহ্য করতে কষ্ট (Light Sensitivity) হতে পারে। উজ্জ্বল আলো বা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকালে চোখে অস্বস্তি বাড়ে। একই সঙ্গে ঝাপসা দেখা বা চোখ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যাওয়ার অনুভূতিও দেখা দিতে পারে।যারা কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, তারা মাসিকের সময় লেন্স পরলে বেশি অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়ায় লেন্স ঠিকভাবে বসতে চায় না এবং জ্বালা বা খচখচে ভাব বাড়তে পারে।

তবে কিছু লক্ষণকে কখনোই স্বাভাবিক ধরে নেওয়া উচিত নয়। যেমন—তীব্র চোখের ব্যথা, হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, চোখ থেকে পুঁজ বের হওয়া, এক চোখে মারাত্মক লালভাব, আলো একেবারেই সহ্য করতে না পারা বা কয়েক দিন পরও সমস্যা না কমা। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।মনে রাখতে হবে, মাসিকের সময় চোখের অস্বস্তি সাধারণত অস্থায়ী হলেও নিজের শরীরের পরিবর্তনের দিকে খেয়াল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষণগুলো যদি প্রতি মাসেই দেখা দেয় বা ক্রমশ বাড়তে থাকে, তাহলে সঠিক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

 কখন এটি স্বাভাবিক, আর কখন চিন্তার বিষয়?

মাসিকের সময় চোখে জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা বা হালকা অস্বস্তি অনেক নারীর ক্ষেত্রেই সাময়িকভাবে দেখা দিতে পারে। সাধারণত মাসিক শুরুর কয়েক দিন আগে অথবা মাসিক চলাকালীন শরীরে হরমোনের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে এমন হয়। যদি চোখের জ্বালা হালকা হয় এবং মাসিক শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে কমে যায়, তাহলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নয়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পানি পান এবং চোখের সঠিক যত্ন নিলে এই ধরনের সমস্যা অনেক সময় নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়।তবে সব ধরনের চোখের জ্বালাকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া ঠিক নয়। যদি জ্বালার সঙ্গে তীব্র ব্যথা, অতিরিক্ত লালভাব, চোখ ফুলে যাওয়া, পুঁজ বা ঘন স্রাব বের হওয়া, হঠাৎ ঝাপসা দেখা, ডাবল দেখা বা আলো সহ্য করতে সমস্যা হয়, তাহলে এটি কেবল মাসিকজনিত পরিবর্তনের কারণে নাও হতে পারে।এসব লক্ষণ চোখের সংক্রমণ, কর্নিয়ার সমস্যা, অ্যালার্জি বা অন্য কোনো চোখের রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।

এছাড়া যদি প্রতি মাসিকের সময় একই ধরনের তীব্র চোখের সমস্যা দেখা দেয়, সমস্যা কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকে, অথবা সাধারণ যত্ন নেওয়ার পরও কোনো উন্নতি না হয়, তাহলে অবশ্যই একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যাদের আগে থেকেই ড্রাই আই সিনড্রোম, অ্যালার্জি, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা বা অটোইমিউন রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চোখের জ্বালাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীদেরও সতর্ক থাকা উচিত। যদি মাসিকের সময় লেন্স পরলে অস্বস্তি, ব্যথা বা অতিরিক্ত শুষ্কতা অনুভূত হয়, তাহলে কিছুদিন লেন্স ব্যবহার বন্ধ রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।সংক্ষেপে বলা যায়, হালকা ও সাময়িক চোখের জ্বালা সাধারণত স্বাভাবিক, কিন্তু তীব্র ব্যথা, দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন, পুঁজ, দীর্ঘস্থায়ী লালভাব বা বারবার একই সমস্যা হলে সেটিকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। দ্রুত সঠিক কারণ নির্ণয় করলে বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

আরো পড়ুন :BRTA ড্রাইভিং লাইসেন্স একাউন্ট খোলার গাইড

ঘরোয়া উপায়ে চোখের জ্বালা কমানোর উপায়

মাসিকের সময় চোখে জ্বালা বা শুষ্কতা হলে সবসময় ওষুধের প্রয়োজন হয় না। অনেক ক্ষেত্রে জীবনযাপনের কিছু সহজ পরিবর্তন এবং নিয়মিত চোখের যত্ন নিলেই অস্বস্তি অনেকটাই কমে যায়। প্রথমেই পর্যাপ্ত পানি পান করাঅত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পানির ঘাটতি হলে চোখের আর্দ্রতাও কমে যায়। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফল ও শাকসবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন।মোবাইল, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে নিয়মিত বিরতি নিন বিশেষজ্ঞরা ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করার পরামর্শ দেন। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য প্রায় ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকান। এতে চোখের চাপ কমে এবং শুষ্কতা কিছুটা হ্রাস পায়।

চোখে শুষ্কতা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কৃত্রিম অশ্রু (Artificial Tears) ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি চোখের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং জ্বালাপোড়া কমায়। তবে নিজে থেকে কোনো স্টেরয়েডযুক্ত আই ড্রপ ব্যবহার করা উচিত নয়।পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নেওয়াও খুব জরুরি। মাসিকের সময় শরীর স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ক্লান্ত অনুভব করতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চোখের ক্লান্তি ও জ্বালাপোড়া আরও বেড়ে যেতে পারে।চোখে ধুলাবালি বা অ্যালার্জি থাকলে বারবার চোখ না ঘষে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ও চোখের চারপাশ পরিষ্কার করুন। বাইরে বের হলে প্রয়োজনে সানগ্লাস ব্যবহার করতে পারেন, যাতে ধুলাবালি ও তীব্র রোদ থেকে চোখ সুরক্ষিত থাকে।

যারা কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, তারা মাসিকের সময় চোখে বেশি শুষ্কতা অনুভব করলে সাময়িকভাবে চশমা ব্যবহার করতে পারেন। এতে চোখের অস্বস্তি কম হতে পারে।খাদ্যাভ্যাসেও কিছু পরিবর্তন উপকারী হতে পারে। ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ, বাদাম, বীজ, সবুজ শাকসবজি, গাজর, কমলা, ভিটামিন এ, সি ও ই সমৃদ্ধ খাবার চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। একই সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ, অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও কম পানি পান করার অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত।সবশেষে, যদি ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করার পরও চোখের জ্বালা না কমে, বারবার ফিরে আসে বা দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও সঠিক সিদ্ধান্ত।

মাসিকের সময় কী খাবেন এবং কী এড়িয়ে চলবেন

মাসিকের সময় শরীরের পাশাপাশি চোখের সুস্থতা বজায় রাখতেও সঠিক খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকেই জানেন না যে শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি ও পানি না থাকলে চোখের শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া এবং ক্লান্তি আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই এই সময় এমন খাবার খাওয়া উচিত, যা শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখে, প্রদাহ কমায় এবং চোখের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে।প্রথমেই পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক নারী মাসিকের সময় শরীরে দুর্বলতা অনুভব করেন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে ভুলে যান। কিন্তু শরীরে পানির ঘাটতি হলে চোখের অশ্রু উৎপাদন কমে যেতে পারে, ফলে শুষ্কতা ও জ্বালাপোড়া বেড়ে যায়। তাই প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করার চেষ্টা করুন। পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা চিনি ছাড়া প্রাকৃতিক ফলের জুসও উপকারী হতে পারে।

ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার চোখের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পালং শাক, লাল শাক, কলমি শাক এবং ডিমের কুসুমে ভিটামিন এ থাকে, যা চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া ভিটামিন সি সমৃদ্ধ কমলা, মাল্টা, আমলকি, লেবু, পেয়ারা ও স্ট্রবেরি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি চোখের কোষকে সুরক্ষা দেয়।ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চোখের শুষ্কতা কমাতে সহায়ক বলে গবেষণায় দেখা গেছে। সামুদ্রিক মাছ, যেমন ইলিশ, সালমন, টুনা বা সার্ডিনে ওমেগা-৩ থাকে। যারা মাছ খান না, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ বিকল্প খাবার বা সাপ্লিমেন্ট বিবেচনা করতে পারেন।আয়রনসমৃদ্ধ খাবারও গুরুত্বপূর্ণ। মাসিকের সময় রক্তক্ষরণের কারণে অনেক নারীর শরীরে আয়রনের ঘাটতি হতে পারে, যা দুর্বলতা ও ক্লান্তির পাশাপাশি চোখের অস্বস্তিও বাড়াতে পারে। গরুর কলিজা, পালং শাক, ডাল, ছোলা, খেজুর, কিশমিশ এবং অন্যান্য আয়রনসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়া উপকারী।

এছাড়া বাদাম, আখরোট, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম এবং বিভিন্ন বীজে থাকা ভিটামিন ই চোখের কোষকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে এসব খাবার খেলে চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকার পাওয়া যেতে পারে।অন্যদিকে কিছু খাবার এড়িয়ে চলাও ভালো। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার শরীরে পানি ধরে রাখতে পারে এবং ফোলাভাব বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত কফি, চা বা এনার্জি ড্রিংক পান করলে শরীরে পানিশূন্যতা বাড়তে পারে, যা চোখের শুষ্কতা আরও তীব্র করতে পারে। একইভাবে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত, ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার সীমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো।সব মিলিয়ে, মাসিকের সময় সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি, তাজা ফল, শাকসবজি ও পুষ্টিকর খাবার খেলে শুধু শরীর নয়, চোখের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে এবং জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা অনেক ক্ষেত্রে কমে আসতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

মাসিকের সময় হালকা চোখ জ্বালা, শুষ্কতা বা সামান্য অস্বস্তি অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক এবং কয়েক দিনের মধ্যে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে কিছু পরিস্থিতিতে এই সমস্যাকে অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ কখনও কখনও এটি শুধু হরমোনের পরিবর্তনের কারণে নয়, বরং চোখের সংক্রমণ, ড্রাই আই সিনড্রোম, অ্যালার্জি বা অন্য কোনো গুরুতর সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।যদি চোখের জ্বালা কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হয় অথবা মাসিক শেষ হওয়ার পরও কমে না, তাহলে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। একইভাবে যদি প্রতি মাসিকের সময় একই ধরনের তীব্র সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে এর প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

আরো পড়ুন :সিটি ব্যাংক স্যালারি লোনের মাসিক কিস্তি

চোখে জ্বালার সঙ্গে যদি তীব্র ব্যথা, চোখ ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত লালভাব, পুঁজ বা ঘন স্রাব, আলো সহ্য করতে না পারা, হঠাৎ ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। এসব লক্ষণ সাধারণত স্বাভাবিক মাসিকজনিত পরিবর্তনের অংশ নয়।যাদের আগে থেকেই ড্রাই আই, অ্যালার্জি, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, অটোইমিউন রোগ বা অন্য কোনো চোখের রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন বা বেড়ে যাওয়া লক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। কারণ এসব রোগ মাসিকের সময় আরও প্রকট হতে পারে।অনেকেই চোখে জ্বালা হলেই নিজের ইচ্ছামতো আই ড্রপ কিনে ব্যবহার করেন। এটি নিরাপদ নয়। 

বিশেষ করে স্টেরয়েডযুক্ত আই ড্রপ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করলে চোখের ক্ষতি হতে পারে এবং সংক্রমণ থাকলে তা আরও জটিল হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয় আপনি যদি কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন এবং মাসিকের সময় লেন্স পরলে চোখে অতিরিক্ত জ্বালা, ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভব করেন, তাহলে কিছুদিন লেন্স ব্যবহার বন্ধ রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।সবশেষে মনে রাখবেন, মাসিকের সময় হালকা চোখ জ্বালা সাধারণত উদ্বেগের বিষয় নয়। কিন্তু সমস্যা যদি বারবার ফিরে আসে, ক্রমশ বেড়ে যায় অথবা দৃষ্টিশক্তির ওপর প্রভাব ফেলে, তাহলে দেরি না করে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ (Ophthalmologist)-এর পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও সঠিক সিদ্ধান্ত। এতে সঠিক কারণ নির্ণয় করে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে জটিলতার ঝুঁকিও কমবে।

মাসিকের সময় চোখের যত্ন নেওয়ার নিয়ম

মাসিকের সময় শরীরে যেমন বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়, তেমনি চোখের যত্ন নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে অনেক নারীর চোখ শুষ্ক, জ্বালাপোড়া বা ক্লান্ত অনুভূত হতে পারে। সঠিক নিয়ম মেনে চোখের যত্ন নিলে এই অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব। কিছু সহজ অভ্যাস চোখকে সুস্থ রাখতে এবং চোখের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।প্রথমেই পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। শরীরে পানির ঘাটতি হলে চোখের অশ্রু উৎপাদন কমে যেতে পারে, ফলে চোখ আরও শুষ্ক ও জ্বালাপোড়াযুক্ত হয়ে ওঠে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন এবং শরীরকে পানিশূন্য হতে দেবেন না।

দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা টেলিভিশনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন। কাজের প্রয়োজনে স্ক্রিন ব্যবহার করতে হলে প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকান। এই ২০-২০-২০ নিয়ম চোখের চাপ কমাতে কার্যকর।চোখে জ্বালা বা শুষ্কতা অনুভব করলে চোখ ঘষবেন না। অনেকেই অস্বস্তি কমানোর জন্য চোখ ঘষে থাকেন, কিন্তু এতে চোখের পৃষ্ঠে ক্ষতি হতে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। বরং চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কৃত্রিম অশ্রু (Artificial Tears) ব্যবহার করুন।যারা কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, তারা মাসিকের সময় চোখে বেশি অস্বস্তি অনুভব করলে কয়েক দিনের জন্য চশমা ব্যবহার করতে পারেন। এতে চোখ বিশ্রাম পাবে এবং শুষ্কতাও কমবে।পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করাও চোখের জন্য উপকারী। প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। 

ঘুমের অভাব চোখকে আরও ক্লান্ত করে তোলে এবং জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে দিতে পারে।খাদ্যাভ্যাসেও গুরুত্ব দিন। ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়ার চেষ্টা করুন। তাজা ফল, শাকসবজি, মাছ এবং বাদাম চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণ, অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও ভাজাপোড়া খাবার কম খাওয়া ভালো।বাইরে বের হলে ধুলাবালি, ধোঁয়া বা তীব্র রোদ থেকে চোখকে রক্ষা করতে সানগ্লাস ব্যবহার করতে পারেন। এতে চোখের অস্বস্তি কিছুটা কমে এবং বাইরের ক্ষতিকর পরিবেশ থেকে চোখ সুরক্ষিত থাকে।যদি নিয়মিত যত্ন নেওয়ার পরও মাসিকের সময় প্রতিবার চোখে তীব্র জ্বালাপোড়া, ব্যথা বা ঝাপসা দেখার মতো সমস্যা হয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা না করে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। কারণ সঠিক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নিলে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

১১. প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

মাসিকের সময় চোখে জ্বালা বা শুষ্কতা নিয়ে অনেকের মনে বিভিন্ন প্রশ্ন থাকে। নিচে এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলোর বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো, যাতে আপনি সহজেই বিষয়টি বুঝতে পারেন।হ্যাঁ, অনেক নারীর ক্ষেত্রে মাসিকের সময় হালকা চোখ জ্বালা, শুষ্কতা বা অস্বস্তি অনুভব করা স্বাভাবিক হতে পারে। এর প্রধান কারণ হলো শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের ফলে চোখের অশ্রু উৎপাদন সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে, যার কারণে চোখে জ্বালাপোড়া বা খচখচে অনুভূতি দেখা দেয়। তবে যদি সমস্যা খুব বেশি হয় বা মাসিক শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিতমাসিক চলাকালীন হরমোনের পরিবর্তনের কারণে চোখের Tear Film বা অশ্রুর সুরক্ষামূলক স্তর কিছুটা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। 

ফলে চোখ দ্রুত শুকিয়ে যায়। এছাড়া কম পানি পান করা, দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করা, এসি রুমে বেশি সময় থাকা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবও চোখের শুষ্কতা বাড়িয়ে দিতে পারে।প্রথমে পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং কিছুক্ষণ চোখকে বিশ্রাম দিন। দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন এবং প্রয়োজনে ২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করুন। চোখ ঘষবেন না এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো আই ড্রপ ব্যবহার করবেন না। যদি সমস্যা বারবার হয় বা তীব্র হয়, তাহলে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।অনেক নারীর ক্ষেত্রে মাসিকের সময় চোখ শুষ্ক হয়ে যায়। এই অবস্থায় কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করলে চোখে আরও বেশি অস্বস্তি, জ্বালাপোড়া বা লালভাব দেখা দিতে পারে। তাই যদি এমন সমস্যা হয়, কয়েক দিনের জন্য কনট্যাক্ট লেন্সের পরিবর্তে চশমা ব্যবহার করা ভালো।সব সময় নয়।

 হালকা লালভাব অনেক সময় শুষ্কতা বা সামান্য জ্বালার কারণে হতে পারে। তবে যদি চোখ খুব লাল হয়ে যায়, তীব্র ব্যথা হয়, চোখ থেকে পুঁজ বের হয়, আলো সহ্য করতে কষ্ট হয় বা দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যায়, তাহলে এটি গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এমন অবস্থায় দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।ভিটামিন এ, সি, ই এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার চোখের জন্য উপকারী। যেমন—গাজর, পালং শাক, ডিম, কমলা, পেয়ারা, সামুদ্রিক মাছ, বাদাম এবং বিভিন্ন বীজ। পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মাসিক চলাকালীন বা কয়েক দিন আগে শুরু হওয়া চোখের জ্বালা মাসিক শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে কমে যায়। তবে যদি এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় বা প্রতি মাসে একইভাবে তীব্র আকারে দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

না অনেক আই ড্রপে স্টেরয়েড বা অন্যান্য ওষুধ থাকে, যা ভুলভাবে ব্যবহার করলে চোখের ক্ষতি হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো আই ড্রপ ব্যবহার করা উচিত নয়। যদি শুধুমাত্র শুষ্কতার সমস্যা থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কৃত্রিম অশ্রু (Artificial Tears) ব্যবহার করা যেতে পারে।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হওয়া একটি সাময়িক সমস্যা। তবে যদি এর সঙ্গে তীব্র ব্যথা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, অতিরিক্ত লালভাব, পুঁজ বা দীর্ঘদিনের শুষ্কতা থাকে, তাহলে এটি ড্রাই আই সিনড্রোম, সংক্রমণ বা অন্য কোনো চোখের রোগের লক্ষণও হতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

উপসংহার

মাসিকের সময় চোখ জ্বালা হওয়া অনেক নারীর জন্য একটি অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি সাময়িক এবং হরমোনের স্বাভাবিক পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। মাসিক চলাকালীন শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের ওঠানামা চোখের অশ্রু উৎপাদন ও আর্দ্রতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে চোখ শুষ্ক লাগা, জ্বালাপোড়া, চুলকানি, লালভাব বা ঝাপসা দেখার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই রকম লক্ষণ দেখা যায় না। কারও ক্ষেত্রে সমস্যা খুবই হালকা থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।এই সমস্যা কমানোর জন্য দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পানি পান করা, সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিন ব্যবহার না করা, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা এবং চোখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।যাদের আগে থেকেই ড্রাই আই বা অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের মাসিকের সময় আরও বেশি সতর্ক থাকা উচিত এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চোখের যত্ন নিতে হবে।

মনে রাখতে হবে, মাসিকের সময় হালকা চোখ জ্বালা সাধারণত উদ্বেগের বিষয় নয়, তবে যদি চোখে তীব্র ব্যথা, অতিরিক্ত লালভাব, পুঁজ, হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া বা দীর্ঘদিন ধরে জ্বালাপোড়া অব্যাহত থাকে, তাহলে এটিকে স্বাভাবিক ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ সময়মতো সঠিক কারণ নির্ণয় ও চিকিৎসা করলে চোখের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।সবশেষে বলা যায়, মাসিকের সময় চোখ জ্বালা কেন হয়এর সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো হরমোনজনিত পরিবর্তনের ফলে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যাওয়া। তবে জীবনযাপনের অভ্যাস, পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার, অ্যালার্জি বা আগে থেকে থাকা চোখের সমস্যাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই নিজের শরীরের পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকুন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সচেতনতা ও সঠিক যত্নই চোখকে সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

জুঁই ম্যাক্স নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url